এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > টিকিট না পেলে দল ছাড়ার হুমকি হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার, জোর শোরগোল !

টিকিট না পেলে দল ছাড়ার হুমকি হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার, জোর শোরগোল !



বহরমপুর এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীলরতন আঢ্যকে নিয়ে দলীয় বিতর্ক বহুদিনের। সেই লোকসভা নির্বাচনের সময়কাল থেকে এই বিতর্ক শুরু হয়েছে। নীলরতন আঢ্য একসময় কংগ্রেস করতেন। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। আর তারপর থেকেই তাঁকে নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। অন্যদিকে, বহরমপুর পৌরসভায় প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীলরতন আঢ্যর সঙ্গে শাসক দলের সহ-সভাপতি নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কারো অজানা নয়। তবে তৃণমূল শিবিরের চিন্তার কারণ ঘুরেফিরে সেই এক জায়গাতেই এসে আটকে যাচ্ছে। আর তা হল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বারংবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়ে নেবার কথা বলা হলেও বহু জায়গায় তা আর মিটছে না।

সম্প্রতি বহরমপুরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীলরতন আঢ্য পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, এবার তিনি আগামী দিনের পুরসভার নির্বাচনী লড়াইতে নামছেন। তবে তিনি কোন দলের হয়ে নির্বাচনে দাঁড়াবেন সে কথা এখনো স্পষ্ট করেননি। অন্যদিকে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, নির্বাচনে দাঁড়ালে তিনিই জিতবেন। এবং তারপর তিনি তাঁর বিরুদ্ধ শক্তির মুখে রীতিমতো চুনকালি ঘষে দেবেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এই মুহূর্তে নীলরতন আঢ্য কোন প্রতীকে বহরমপুরের লড়াইয়ে নামছেন? তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এ কথার কোন জবাব দেননি।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘সেটা এখনই বলব না। তবে দাঁড়াচ্ছি এটা নিশ্চিত। কোন ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াব সেটাও বলব না। এখন এসব গোপনে রাখছি। শহরের যেখানেই দাঁড়াব মানুষ আমাকে জেতাবে।’ যদিও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি রীতিমতন ফুঁসে ওঠেন ও বলেন, ‘কে বলেছে এ কথা। যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল তাদের মুখে এই নির্বাচনে চুনকালি দেব।’ অন্যদিকে নীলরতন আঢ্যর পুরসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার ব্যাপারে বহরমপুর শহরের তৃণমূল সভাপতি নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য হলো, ‘আমাদের দলে কোনও ব্যক্তি ফ্যাক্টর নয়। বহরমপুরের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন দেখে তৃণমূলকে ভোট দেবে। কে কোথায় গেল এসবে কিছু যায় আসে না। ওঁকে নিয়ে আলাদা করে ভাবার কোনও কারণ নেই।’

সূত্রের খবর, নীলরতন আঢ্য এর আগে 2000 সাল থেকে 2017 সাল পর্যন্ত কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। 2019 এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি যোগদান করেন তৃণমূলে। কিন্তু তখন থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে তাঁকে ঘিরে। তৃণমূলের অন্দরে অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন। অনেকেই দাবি করেন, তৃণমূলে যোগ দিলেও নীলরতন আঢ্যর সঙ্গে কংগ্রেসের সুসম্পর্ক কোথাও এতটুকু টাল খায়নি। অন্যদিকে, নীলরতন আঢ্যর অনুগামীরা বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন, তিনি কখনো কংগ্রেসে ফিরছেন কখনো বিজেপিতে নাম লেখাচ্ছেন। এতদিন পর্যন্ত নীলরতন আঢ্য এসব ব্যাপারে মুখ খোলেননি। তবে হঠাৎ এতদিন পর তিনি পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন এই ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে রীতিমত চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে, পুরসভার নির্বাচনে নীলরতন আঢ্যর টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন বহু দুর্নীতির সাক্ষী তিনি। যদিও নীলরতন বাবু এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ‘আমার আমলে শহরে বহু কাজ হয়েছে। নতুন বাসস্ট্যান্ড তৈরি করেছি। জল প্রকল্পের কাজ করেছি। ব্যবসায়ীদের জন্য স্টল তৈরি করা হয়েছে। তাই বহরমপুর শহরের মানুষ আমাকে কাজ দেখে ভোট দেবে। আমি জিতবই।’

অন্যদিকে শাসক দলের সঙ্গে নীলরতন বাবুর দ্বন্দ্বের কারণে তিনি রীতিমতো কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন ইতিমধ্যে। পুর নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরে যে বৈঠক হয়েছে, তাতেও তিনি ডাক পাননি বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক মহলের দাবী, শাসকদলের থেকে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বুঝেই প্রাক্তন পুরপ্রধান ঘোষণা করেছেন নির্বাচনে একাকী লড়াই করার। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, নীলরতনবাবু নির্দল হিসেবেই লড়াই করবেন। অন্যদিকে, নীলরতন আঢ্যর পরিচিত এক তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, এতদিন পর্যন্ত নীলরতনবাবু বহরমপুরের 10/11 নম্বর ওয়ার্ড থেকেই নির্বাচনে লড়তেন। কিন্তু এবার ওই দুটি ওয়ার্ড সংরক্ষিত হয়ে যাওয়ায় তিনি পাশের কোন ওয়ার্ডে দাঁড়াবেন।

আপাতত বহরমপুর শহরের প্রাক্তন পৌর প্রধানকে নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। অন্যদিকে এই মুহূর্তে তৃণমূল শিবির এর একমাত্র লক্ষ্য, এবারের পুরসভার নির্বাচনে দলের রাজনৈতিক জমি আরো শক্ত করা। সে দিক থেকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দলের দুর্বল নেতাদের হাতে তৃণমূল এই মুহূর্তে কোনো দায়িত্ব দেবেনা। লোকসভা নির্বাচনে যেভাবে তৃণমূল শিবির রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল এবার সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, তৃণমূল শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলছে বারংবার গোষ্ঠীকোন্দল। এ ব্যাপারে অবশ্যই নজর দেওয়া উচিত তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের। আপাতত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!