এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > গোমাতা জিন্দাবাদ! গোহত্যায় বাঘেদেরও শাস্তির আওতায় আনতে চেয়ে শোরগোল ফেলে দিলেন বিধায়ক!

গোমাতা জিন্দাবাদ! গোহত্যায় বাঘেদেরও শাস্তির আওতায় আনতে চেয়ে শোরগোল ফেলে দিলেন বিধায়ক!



এতদিন পর্যন্ত বিজেপি নেতা নেত্রীরা বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিতর্কের শিরোনামে উঠে এসেছেন। কিন্তু এবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এলেন গোয়ার এনসিপি বিধায়ক চার্চিল আলেমাও। সম্প্রতি তিনি গোয়া বিধানসভার অধিবেশনে জানিয়েছেন, মানুষকে যদি গরু খাবার জন্য শাস্তি দেওয়া হয় তাহলে বাঘকেও গরু খাবার জন্য শাস্তি দেওয়া উচিত। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আইনের তোয়াক্কা না করেই এ ধরনের মন্তব্য করেন তিনি। কয়েকদিন আগেই গোয়ার মহাদায়ী ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিতে একটি বাঘিনী ও তার তিনটি শাবককে মেরে ফেলা প্রসঙ্গে এই বক্তব্য বলেন তিনি।

দেশে সংরক্ষিত প্রাণীদের তালিকায় বাঘের নাম আছে অনেকদিন থেকেই। সেই বাঘকেই হত্যা করা নিয়ে তুমুল হৈচৈ শুরু হয় গোয়া বিধানসভায়। সেই সময়ে গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি বিধায়ক চার্চিল আলেমাও বক্তব্য রাখেন মানুষ। যদি গরু খায় মানুষ, তাহলে তাঁকে যখন শাস্তি পেতে হচ্ছে, তাহলে একই কাজ করার জন্য বাঘকেও শাস্তি পেতে হবে। চার্চিলের এই বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত মাসেই গোয়ার মহাদায়ী ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিতে একটি বাঘিনী ও তার তিন সন্তানকে হত্যা করে স্থানীয় বাসিন্দারা, গ্রামের একটি গরু খাওয়ার অভিযোগে।

বুধবার গোয়ার বিধানসভা অধিবেশন চলার সময় এই ব্যাঘ্র হত্যার বিষয়টি সামনে আনেন বিরোধী দলনেতা দিগম্বর কামাথ। গোয়া বিধানসভায় আলোচনা চলাকালীন এই ঘটনা সম্পর্কে সুচিন্তিত মতামত রাখেন চার্চিল আলেমাও। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ”কী শাস্তি দেওয়া হয় একটা বাঘ যখন গরুকে খেয়ে নেয়? যখন মানুষ গরু খায়, সে শাস্তি পায়। বন্যপ্রাণের দৃষ্টিভঙ্গিতে থেকে বাঘেরা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মানুষ ও গরুদেরও গুরুত্ব রয়েছে।” এদিন চার্চিল তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বলেছেন, সম্পূর্ণ বিষয়টিতে মানুষকে উপেক্ষা করা মোটেই ঠিক নয়।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে, গোয়ার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সবন্ত এই সংরক্ষিত প্রাণী হত্যার প্রসঙ্গে খুবই সহজ ভাবে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, গৃহপালিত প্রাণীকে আক্রমণ করার জন্যই বাঘটিকে আক্রমণ করে পিটিয়ে মেরেছে গ্রামবাসীরা। এদিন তিনি আরো বলেন, বাঘের আক্রমণে যেসব কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের গোয়া সরকারের পক্ষ থেকে আগামী 3-4 দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। চাষির গরু বাঘ খাওয়ার ফলে বাঘকে অভয়ারণ্যে ঢুকে তার শাবকসহ হত্যা করা হয়। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই উত্তাল হয়ে ওঠে গোয়া বিধানসভা।

অন্যদিকে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশুপ্রেমী সংস্থাগুলির মধ্যেও। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ডারউইন তত্ত্ব মেনে খাদ্য ও খাদকের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে পৃথিবীতে। সেখানে খাদক যদি খাদ্য খায় তাহলে তাকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা লজ্জাজনক। অন্যদিকে, সংরক্ষিত প্রাণীর গায়ে হাত দেওয়া কোনমতেই বৈধ নয়। উপরন্তু এই সংরক্ষিত প্রাণী হত্যা করার ফলে যেভাবে গোয়া সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত হালকা ভাবে দেখছেন, তা নিয়ে যথেষ্ট ক্রোধান্বিত পশুপ্রেমী সংস্থাগুলি। আপাতত সম্পূর্ণ বিষয়টির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!