এখন পড়ছেন
হোম > অন্যান্য > আয়ুর্বেদের ভেষজ বিপ্লব তুফানগঞ্জে সম্প্রতি কোন তুফান তুলেছে? আসুন জেনে নিন বিস্তারিত

আয়ুর্বেদের ভেষজ বিপ্লব তুফানগঞ্জে সম্প্রতি কোন তুফান তুলেছে? আসুন জেনে নিন বিস্তারিত



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- আয়ুর্বেদ শাস্ত্র নিয়ে কিছু মানুষ যতই অনাস্থা দেখাক না কেন, আয়ুর্বেদের মধ্যেই যে সমস্ত রোগের চিকিৎসা লুকিয়ে আছে, তা অতীত থেকে প্রমান হয়ে এসেছে বারবারই। মানুষ যতই আধুনিক হোক না কেন তার মধ্যে যে প্রকৃতির অংশ লুকিয়ে রয়েছে এবং তার শরীরের যে কোনো অসুখ সারাতে তাই সেই প্রকৃতিকেই যে প্রয়োজন সেই কথাই বলে এসেছেন আয়ুর্বেদ পণ্ডিতরা। সম্প্রতি কুচবিহারের এক আয়ুর্বেদ মেডিক্যাল অফিসারের উদ্যোগে সেই কথাই আবারও প্রমাণ হয়ে গেল।

কোচবিহারের ছোট্ট গ্রাম তুফানগঞ্জ। আর সেখানেই ঘটেছে ভেষজ বিপ্লব। তুফানগঞ্জ-এর সিনিয়র আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. বাসবকান্তি দিন্দার উদ্যোগেই ২০১৯ সালের নভেম্বরে এই ভেষজ বিপ্লব শুরু হয় বলে জানা যায়। তিনি তুফানগঞ্জ ১ নম্বর ব্লকের সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্কুলগুলিকে বাগান করার জন্য উৎসাহিত করেন। সে জন্য স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের ভেষজের রোগ নিরাময় ক্ষমতা ও তার চাষ পদ্ধতি নিয়ে বোঝাতেন বলে জানা যায়। আর তাতেই কাজ হয়। এরপর গ্রামবাসী, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, ডাক্তার, নার্স ও আশাকর্মীরা এই কাজে স্বাচ্ছন্দে যোগ দেন। জানা গেছে, আশাকর্মীরা নাকি বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করার ফাঁকে ভেষজ বাগান তৈরিতে উৎসাহিত করতেন মানুষদের। লকডাউনের সময়ও নাকি পিছিয়ে থাকেনি সেই কাজ। স্কুলের শিক্ষকদের ভেষজ বাগান তৈরির ব্যাপারে মোবাইলে বা ওয়েবিনার করেও বাসুবাবু কাজ চালিয়ে যান।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

শুধু তাই নয়, এই তুফানগঞ্জই রাজ্য তথা দেশকে উপহার দিয়েছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত তুলসি গ্রাম। আর সেই গ্রামেই বাদুবাবুর হাত ধরে এরপর শিক্ষকরা পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাগানের পর্যবেক্ষণ করেন। কোনও অসুবিধা হলে বাসববাবুর থেকে সমাধানের পথ জেনে নিয়ে আবারও চলতে থাকে কাজ। এই ভাবেই বাগানের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে হাজার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে যা দশমাসে ছোট-বড় মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে ১০২২ টি ভেষজ বাগানে। স্কুল, ক্যাম্পাস বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ক্যাম্পাসেও ভেষজ বাগান হয়েছে। সেখানেই বেড়ে উঠছে, কালমেঘ, তুলসি, বাসক, কুলেখাড়া, ঘৃতকুমারীর মতো ভেষজ।

খবর নিয়ে জানা গেছে, এলাকার ডিস্ট্রিক্ট আয়ুশ মেডিক্যাল অফিসারের মতে, সর্দিকাশি, জ্বর, পেট খারাপের মতো ছোটখাট রোগভোগ সারাতে ভেষজ খুবই কার্যকর। এই কাজের ফলে বহু মানুষ উপকৃতও হচ্ছেন। এই সঙ্গে নাটাবাড়ি বিপিএইচসি-র বিএমওএইচও এই প্রকল্পের প্রভূত প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, এলাকার সাবসেন্টারগুলিতে ভেষজ বাগান তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে আশাকার্মীদের উৎসাহও গ্রামবাসীদের বাগান করতে উৎসাহ যুগিয়েছে। তবে যিনি এই কাজের মূল কর্তা, সেই বসুবাবু কি বলছেন? তাঁর কথায়, কাজটাকে একটা প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পনা করে নাম দেওয়া হয় ‘ভেষজ সুরক্ষা’ প্রকল্প। নাটাবাড়ি এলাকার একটি স্কুল ও স্বাস্থ্যকন্দ্রে ভেষজ বাগান তৈরির মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের শুরু। তবে এর উদ্দেশ্য হল নতুন প্রজন্মকে ভেষজ গাছ চেনানো। কারণ লোকালয় থেকে ভেষজ গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এর অনেক কার্যকারিতা রয়েছে। নতুন প্রজন্ম সেসব জানবেও না। তাই এই প্রকল্পের ফলে সুস্থতার সঙ্গে ভেষজের সঙ্গে নবপ্রজন্মের আত্মীয়তা বাড়াবে বলেই মনে করছেন তিনি।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!