এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > আয়ারাম-গয়ারাম! ঘাস-পদ্ম সব শিবির ঘুরেও হাসিমুখে মমতার মন্ত্রীসভায় আলো ছড়াচ্ছেন এই হেভিওয়েট

আয়ারাম-গয়ারাম! ঘাস-পদ্ম সব শিবির ঘুরেও হাসিমুখে মমতার মন্ত্রীসভায় আলো ছড়াচ্ছেন এই হেভিওয়েট



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – তৃতীয় বার রাজ্যের ক্ষমতা দখল করার পর যাতে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে চলে যাওয়া নেতারা আর তৃণমূলে ফিরতে না পারেন, তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আবেদন করতে শুরু করেছে দলের নেতাকর্মীরা। তবে ফলাফল প্রকাশের পরই অন্য দলে চলে যাওয়া নেতাদের নিয়ে মুখ খুলতে দেখা গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সকলকে স্বাগত বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। যার পরে চিন্তায় পড়ে গিয়েছে দলের একাংশ।

তবে এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম দাপুটে নেতা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিপ্লব মিত্র লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় কালে যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। তবে বেশিদিন বিজেপির সঙ্গে ঘর করতে পারেননি তিনি। এক বছর হতে না হতেই আবার তাকে ফিরতে হয় তৃণমূল কংগ্রেসে। কিন্তু বিজেপিতে চলে যাওয়া সেই বিপ্লব মিত্র আবার তৃণমূলে ফেরার পর এবার তাকে সরাসরি রাজ্য মন্ত্রিসভায় গ্রহণ করলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্য বিধানসভায় 77 টি আসন পাওয়া বিরোধী দল বিজেপির সঙ্গে প্রতিমুহূর্তে লড়াই করতে হবে ঘাসফুল শিবিরকে। কিন্তু একসময় বিজেপিতে যাওয়া বিপ্লব মিত্রকে কেন রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! এখন তা নিয়ে নানা মহলে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। দলের প্রতি আনুগত্য বরাবর দেখিয়েছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের এই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা।

কিন্তু মাঝে লোকসভা নির্বাচনে অর্পিতা ঘোষ পরাজিত হওয়ার পরেই তার দিকে অভিযোগ আসতে শুরু করে। অন্তর্ঘাতের কারনে বিপ্লব মিত্রকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে সেই দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে দেন অর্পিতা ঘোষের কাঁধে। আর এরপর থেকেই জেলা রাজনীতিতে ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারাতে শুরু করেন বিপ্লব মিত্র। পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু বিজেপিতে যোগদান করেও ঘরে বসে থাকতে হয়েছিল তাকে।

যার ফলে রাজনীতি অন্তপ্রাণ গঙ্গারামপুরের মেজো ছেলে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যান। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরে গেলেও, তাকে দল আগের মত যাতে গুরুত্ব না দেয়, তার জন্য অনেকেই আশা প্রকাশ করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রথমে জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যানের পর এবার হরিরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করা বিপ্লব মিত্রকে রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রীর দায়িত্ব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য মন্ত্রিসভার বিভিন্ন মুখের মধ্যে এখন সবথেকে বেশি বারবার দলবদল করা বিপ্লব মিত্রকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

বলা বাহুল্য, 2011 সালে হরিরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন এই বিপ্লব মিত্র। কিন্তু সেই সময় বালুরঘাটের বিধায়ক শংকর চক্রবর্তীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রী করার কারণে তার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। আর তখন থেকেই মন্ত্রীপদ না পাওয়ার জন্য দীর্ঘ দিন দল করার সুবাদে তিনি কি পেলেন, তা নিয়ে ঘনিষ্ঠমহলে কিছুটা হলেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিপ্লববাবু বলে খবর। পরবর্তীতে অর্পিতা ঘোষ জেলায় প্রবেশ করার সাথে সাথেই ধীরে ধীরে কোণঠাসা হতে শুরু করেন তিনি।

লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়কালে তার দলবদল বিপ্লব মিত্র সম্পর্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে তিক্ততার পরিবেশ সৃষ্টি করে। তবে বিপ্লব মিত্র 2021 সালে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করলেও বিজেপি থেকে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে আশা এই বিধায়ককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য মন্ত্রিসভায় গ্রহণ করবেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে কৃষি বিপণন দপ্তরের দায়িত্ব দিয়ে রীতিমত মাস্টারস্ট্রোক দিলেন তৃণমূল নেত্রী। তাহলে কি বিপ্লব মিত্রকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সংগঠন এবং প্রশাসক, দুই দিক থেকেই ভরসা করতে শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এখন তা নিয়েই চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা জেলাজুড়ে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বিপ্লব মিত্র বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসার পর তাকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া ঠিক হয়নি। এরফলে দলের নিচুতলার কর্মী সমর্থকদের কাছে ভুল বার্তা চলে যেতে পারে। যার ফলে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলের অন্তর্ঘাতের কারণে পরাজয়ের ঘটনা উঠে এসেছে। যার ফলে ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু তারপরেও বর্তমান জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা হরিরামপুরের বিধায়ক বিপ্লব মিত্রকে এইভাবে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে নানা মহলে তৈরি হয়েছে সংশয়। সব মিলিয়ে বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া বিপ্লব মিত্রের মন্ত্রীপদ পাওয়া এখন সবথেকে বড় চর্চার বিষয় রাজ্য রাজনীতিতে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!