এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বিজেপিতে পা দিতেই অশান্তির আগুন জঙ্গলমহলে

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বিজেপিতে পা দিতেই অশান্তির আগুন জঙ্গলমহলে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – রাজ্যে একুশের বিধানসভা নির্বাচন যত কাছে এগিয়ে আসছে, ততই কিন্তু সর্বত্র অন্তর্কলহের ছোঁয়া পাওয়া যাচ্ছে, তা সে শাসক দল তৃণমূলই হোক কিংবা বিরোধী শিবির বিজেপি। বর্তমানে দলবদলের মাহাত্ম্যে তৃণমূল থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে নেতা, কর্মী, সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী যোগ দিচ্ছেন গেরুয়া শিবিরে। কিন্তু সেখান থেকেই বিজেপির অন্দরের অশান্তি শুরু। সম্প্রতি জঙ্গলমহলে তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা এবং খাতরা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র। আর তারপরেই শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্তর্কলহ।

বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের বিজেপি কর্মী সমর্থকরা রীতিমতো আন্দোলনে নামলেন সদ্য তৃণমূল থেকে আসা কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারের দাবিতে। অবস্থান কর্মসূচিও শুরু করেছেন তাঁরা। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এলাকায় খুন হন বিজেপি কর্মী অজিত মুর্মু। সেই খুনের ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে বিজেপি। যাদের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছিল, এলাকার সেই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা এবং খাতরা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র মেদিনীপুর কলেজ মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে প্রবেশ করেন। পাশাপাশি ওই এলাকারই আরেক তৃণমূল নেতা বিদ্যুৎ দাস কলকাতায় গিয়ে মুকুল রায়ের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে পা দেন।

আর তারপর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে বিজেপি শিবিরে প্রবল অশান্তি। ইতিমধ্যেই গেরুয়া শিবিরের একাংশ বিক্ষোভ, মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। নিহত অজিত মুর্মুর স্ত্রী উর্মিলা মুর্মু জানিয়েছেন, তৃণমূলে থাকাকালীন যারা তাঁর স্বামীকে খুন করেছে, তাঁরাই এখন বিজেপিতে। তাই অবিলম্বে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন রাজ্য নেতৃত্বকে। জানা গিয়েছে, বুধবার থেকে বহিষ্কারের দাবীতে দলের রাজ্য দপ্তরে ধর্নায় বসবেন জঙ্গলমহলের বিজেপি কর্মী সমর্থকদের একাংশ।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সদ্য বিজেপিতে আগত বিদ্যুৎ দাস এবং জয়ন্ত মিত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতা কৌশিক মুদি জানিয়েছেন, অজিত মুর্মুকে যারা খুন করেছে কিংবা দলের অসংখ্য কর্মীদের নামে যারা মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে, তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন জয়ন্ত মিত্র এবং বিদ্যুৎ দাস- যারা এই মুহূর্তে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন। যে দুজনকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। রাজ্য নেতৃত্ব যদি অবিলম্বে এই দু’জনকে বহিষ্কার না করে তাহলে লাগাতার আন্দোলন চলবে বলে কৌশিক মুদী জানান। অন্যদিকে এ ব্যাপারে সদ্য তৃণমূল থেকে আসা বিজেপি নেতা জয়ন্ত মিত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতিতে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেছেন।

তিনি শুধুমাত্র দায়িত্বশীল কর্মী হিসেবে কাজ করে যাবেন সাংসদ ডঃ সুভাষ সরকার এবং জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্রের নির্দেশে। এর থেকে বেশী তিনি আর কিছুই জানাতে চাননি। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য গেরুয়া শিবির থেকে রীতিমতো তৃণমূল থেকে ভাঙিয়ে লোক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর ফলে বিজেপি শিবিরের অন্দরে ইতিমধ্যেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বিভিন্ন জায়গায়। এই অবস্থায় গেরুয়া শিবির পরিস্থিতি সামলাতে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকে নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।

 

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!