এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > আশা তৈরি হতেই বিরোধী জোটে বড় ফাটল, অস্বস্তি বাড়ল মমতার!

আশা তৈরি হতেই বিরোধী জোটে বড় ফাটল, অস্বস্তি বাড়ল মমতার!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  2019 সালের লোকসভা ভোটে দেশের সমস্ত বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে এককাট্টা হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ফলপ্রসূ হয়নি। দ্বিতীয়বারের জন্য বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দেশের মসনদ দখল করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পর্যুদস্ত হওয়ার পরেই আবার নতুন করে 2024 এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই বিরোধী মহাজোট গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিজেপি দলের নেতা-নেত্রীরা এই জয়ের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেছেন। দেশের হেভিওয়েট কৃষক নেতা নবান্নে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে বিরোধী মহাজোট গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে সেই বিরোধী মহাজোটে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে না বিজেপি বিরোধী আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতীকে।

কট্টর বিজেপি বিরোধী বলেই পরিচিত এই দুই নেতা-নেত্রী‌। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাদের সখ্যতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেভাবে বিজেপি বিরোধী মহাজোট গঠনের ক্ষেত্রে যতটা সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত তাদের, ততটা সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে না এই দুই দলকে। স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে বিরোধী মহাজোট গঠনের আশা তৈরি হতেই কি সেখানে ফাটল ধরতে শুরু করল, এখন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা মায়াবতীর সম্পর্ক ভালো হলেও, কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো নয়। সেক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে একটা বড় দলের নাম হল কংগ্রেস। বৃহত্তর বিজেপি বিরোধী জোট গঠন করতে হলে, সেখানে যে কংগ্রেসের ভূমিকা অনস্বীকার্য, তা বলাই যায়। তবে বহুজন সমাজবাদী পার্টি বা আম আদমি পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক খুব একটা ভালো না থাকার জন্যই তারা এই বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে সেভাবে অংশগ্রহণ করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

আর দিল্লির মত জায়গায় শাসকদলের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি বিরোধী দল আম আদমি পার্টি এবং উত্তর প্রদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল বহুজন সমাজবাদী পার্টি যদি বিজেপি বিরোধী জোটে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে সেই জোটির শক্তি যে অনেকটাই হ্রাস পাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যেই বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলের প্রধান নেত্রী বলে তুলে ধরতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

শুধু তাই নয়, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা ভারতবর্ষে পথ দেখাবে বলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি তুলতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের। আর এই পরিস্থিতিতে 2024 এর লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে আবার যে বিরোধী মহাজোট তৈরি হতে পারে এবং তার নেতৃত্ব দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই ব্যাপারে একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনার শুরু হতেই একটা বড় ধাক্কা মহাজোটের দিকে আসতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করছেন একাংশ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু মায়াবতী বা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল নয়, কংগ্রেসের সঙ্গে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সখ্যতাও খুব একটা ভালো ছিল না। অতীতে কংগ্রেসের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের জোট থাকলেও, পরবর্তীতে সেই জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সকল বিজেপি বিরোধী দলের যে এক ছাতার তলায় আসা দরকার, তার প্রয়োজন অনুভব করছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তবে কংগ্রেস, তৃণমূল সহ অন্যান্য বিজেপি বিরোধী দল এই ব্যাপারে উদ্যোগী হলেও, তেমন অগ্রসর হতে দেখা যাচ্ছে না অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা মায়াবতীকে। ফলে এই দুই বৃহত্তর শক্তি যদি এই বৃহত্তর জোট গঠনের ইচ্ছা থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখে, তাহলে রাজধানী বা উত্তরপ্রদেশে বৃহত্তর জোট কতটা ছাপ ফেলতে পারবে, সেটা বড় প্রশ্নের বিষয়। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!