এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > বালুরঘাট এবার ‘কঠিন আসন’, অর্পিতার হয়ে প্রচারে ঝড় তুলতে আসছে একঝাঁক হেভিওয়েট তৃণমূলী নেতা-মন্ত্রী

বালুরঘাট এবার ‘কঠিন আসন’, অর্পিতার হয়ে প্রচারে ঝড় তুলতে আসছে একঝাঁক হেভিওয়েট তৃণমূলী নেতা-মন্ত্রী



বালুরঘাট লোকসভা আসনে কে প্রার্থী হবে তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তৃণমূলের সভাপতি বিপ্লব মিত্রর অনুগামীদের সাথে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ অর্পিতা ঘোষের অনুগামীদের মধ্যে তীব্র দড়িটানাটানি চলেছে। অবশেষে সমস্ত জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে নিজের বাসভবনে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী হিসেবে সেই অর্পিতার ওপরই ভরসা রাখেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শোনা যায়, বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার জন্য এবার প্রথম থেকে নানা চেষ্টা করেছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি বিপ্লব মিত্র। এমনকি নেত্রীর কাছে অর্পিতা ঘোষ যাতে প্রার্থী না হয় তা নিয়ে নানা তদবিরও করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বিপ্লববাবুর সেই চেষ্টা সার্থক না হওয়াতেই এবং অর্পিতা ঘোষ প্রার্থী হয়ে যাওয়ায় অর্পিতাদেবীর সঙ্গে জেলার নিচুস্তরের অনেক কর্মীর সেইভাবে যোগাযোগ নেই বলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তারা জিততে পারবেন না বলেও ঘনিষ্ঠমহলে আশঙ্কা প্রকাশ করতে দেখা গেছে সেই বিপ্লব মিত্রকে। আর এতেই তৈরি হয়েছে জটিলতা।

খোদ জেলা তৃণমূল সভাপতির সহযোগিতা ছাড়া কিভাবে অর্পিতাদেবী সেখানে জিতবেন তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। কেননা এই বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে ভয়াবহ বন্যা হওয়ার সময় সেইভাবে নিজেদের সাংসদ অর্পিতা ঘোষকে এলাকায় দেখা যায়নি বলে নানা মহলে অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এমনকি তার ব্যবহার নিয়েও বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় দলের কর্মীদের একাংশকে। ফলে সেক্ষেত্রে সেই অর্পিতা ঘোষকে এবার প্রার্থী হিসেবে দাড় করালে এই কেন্দ্রে তৃনমূলের জেতা কাটা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে যেনতেন প্রকারে নিজের জয়কে নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছেন বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। জানা গেছে, এবার এই লোকসভা কেন্দ্রে জিততে ইতিমধ্যেই অর্পিতা ঘোষের হয়ে সেখানে প্রচারে আসতে চলেছেন একঝাঁক হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা। যার মধ্যে নাম রয়েছে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী তথা দক্ষিন দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক গৌতম দেব, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি, পূর্ণেন্দু বসু, অরূপ রায়ের মত শাসক দলের প্রথম সারির নেতাদের।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এমনকি অর্পিতা ঘোষকে জেতবার জন্য যেহেতু তিনি নাটকের লোক, সেহেতু অনেক নাট্যাভিনেতারাও প্রচারে আসতে পারেন বলে খবর রয়েছে। কিন্তু যেখানে খোদ দলের প্রার্থীর কোনো ব্যক্তিগত ক্যারিশমা নেই, সেখানে হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের এনে কি অর্পিতাদেবী নিজের জয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

একাংশের মতে, বালুরঘাট তথা দক্ষিন দিনাজপুর জেলার শেষ কথা বিপ্লব মিত্র। ফলে তাকে ছাড়া যেভাবে একতরফা অর্পিতা ঘোষ নিজে নিজেই প্রচার শুরু করেছেন তাতে তার পক্ষে জেতা কার্যত অসম্ভব, আর জিততে হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে জনসংযোগ দরকার তা বিগত পাঁচ বছরে সাংসদ থাকার সময় তার বিন্দুমাত্র করেননি তিনি বলে খবর। তাই সেদিক থেকে এই বালুরঘাট কেন্দ্রে জয়লাভ অনেকটাই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে তৃণমূলের। তবে জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আশাবাদী বালুরঘাট বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ।

এদিন তিনি বলেন, “আমি সোমবার জেলার সমস্ত তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে একটি বৈঠক করব। আমার সঙ্গে ইতিমধ্যেই রাজ্য নেতৃত্বের কথা হচ্ছে। বক্সীদা থেকে শুরু করে পার্থ দা, পূর্ণেন্দু দা, অরূপ রায় প্রত্যেকেই এখানে প্রচারে আসবেন। এমনকি একটি বড় মাপের জনসভা করার জন্য আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এখানে নিয়ে আসছি। জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রর সঙ্গে বৈঠক করে সেই সমস্ত বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। আমরা প্রচারে নেমে গিয়েছি। আমি আশাবাদী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।”

তবে একঝাঁক নেতা মন্ত্রী আর নিজের সতীর্থদের এনে অর্পিতাদেবী আদৌ বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রে দলীয় কর্মীদের ছাড়াই জয়লাভ করতে পারবেন তো? এখন এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের অভিমানী কর্মী-সমর্থকদের অন্দরমহলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!