এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > আপত্তি নয় অভিষেকে, ভীতি প্রদর্শনের কারনেই তৃণমূল ত্যাগ মুকুলের? ইঙ্গিত মমতার কথায়!

আপত্তি নয় অভিষেকে, ভীতি প্রদর্শনের কারনেই তৃণমূল ত্যাগ মুকুলের? ইঙ্গিত মমতার কথায়!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –  2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বঙ্গ বিজেপির প্রায় সমস্ত নেতা-কর্মীদের মুখে মূল আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিকবার তার সাথে “ভাইপো” শব্দ দিয়ে আক্রমণ করতে দেখা যায় কৈলাস বিজয়বর্গীয় থেকে শুরু থেকে শুরু করে অমিত শাহ থেকে শুরু করে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীকে। বাদ থাকেননি শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া নেতারা।

কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শের তফাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যার নাম সবার আগে ছড়িয়ে পড়েছিল, তিনি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একদা সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মুকুল রায়। তিনিও একাধিকবার বিভিন্ন মিটিং থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে চাপিয়ে দেওয়া নেতা বলে অভিহিত করেছেন। তবে শুক্রবার যখন সাড়ে তিন বছর পরে নিজের পুরনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে এলেন মুকুল রায়, তখন কিন্তু তাকে দলে স্বাগত জানাতে দেখা গেল সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

শুধু তাই নয়, এর আগে মুকুল পত্নীকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতেও গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো। কাজেই স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতপার্থক্য নয়? আদতে কেন্দ্রীয় বিভিন্ন এজেন্সি এবং ভারতীয় জনতা পার্টির ভয়েই তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করেছিলেন মুকুল রায়? মুকুলবাবু কি তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখেছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির ভীতিকে?

একাংশ বলছেন, এই প্রশ্নগুলো আরও বেশি শক্তিশালী হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। তিনি সেই সাংবাদিক সম্মেলনে রীতিমত উল্লেখ করে বলেছেন, ধমকে-চমকে ভয় দেখিয়ে অনেক নেতাকে ভারতীয় জনতা পার্টি অনেক কাজ করিয়ে নিয়েছে। আর এতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, মুকুল রায়কে উদ্দেশ্য করেই এই মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী। দলে যোগদান করার পরে দেখা যায়, একদিকে যেমন উত্তরীয় পড়িয়ে মুকুল রায়কে দলে স্বাগত জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তেমনই অভিষেকবাবুকে স্নেহের আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেন মুকুলবাবু।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তবে একাংশ বলছেন, অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুকুল রায়ের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, 2021 সালের লড়াইয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে দিয়ে সাফল্য লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে রাজনৈতিক মহলে বা তৃণমূলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলেবর এখন অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই তাকে উপেক্ষা করে তৃণমূল করা সম্ভব নয় খোদ মুকুল রায়ের পক্ষেও। আর সেই কারণেই বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অভিষেকবাবুর সঙ্গে আপত্তি নয়, বরঞ্চ সর্বভারতীয় স্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিতে তাকে শলা পরামর্শ দিতে পারেন মুকুলবাবু।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুকুল রায়ের সর্বভারতীয় রাজনীতি সম্পর্কে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। যখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন, তখন ত্রিপুরা সহ একাধিক রাজ্যের দায়িত্ব তার কাঁধে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

ফলে মাঝে বিচ্ছেদ হলেও এবার আবার তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব কার্যত মেনে নিলেন মুকুল রায় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিস্তারলাভ করানোর জন্য মুকুলবাবুকে টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!