এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > আন্দোলনের মূর্তপ্রতীক মমতার রাজ্যে বিরোধীদের ওপর নির্যাতন নিয়ে বড় প্রশ্ন! অস্বস্তি বাড়ছে শাসকের!

আন্দোলনের মূর্তপ্রতীক মমতার রাজ্যে বিরোধীদের ওপর নির্যাতন নিয়ে বড় প্রশ্ন! অস্বস্তি বাড়ছে শাসকের!



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলা হয় আন্দোলনের মূর্তপ্রতীক। বিরোধী নেত্রী থাকার সময় বিগত বাম সরকারের বিরুদ্ধে নানা আন্দোলন সংগঠিত করে তিনি কার্যত ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিলেন সিপিএম নেতাদের। 1993 সালের 21 জুলাই তৎকালীন প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে আজকের মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে তৈরি হয়েছিল মহাকরণ অভিযান। যেখানে পুলিশের গুলিতে 13 জন কংগ্রেস কর্মী নিহত হয়েছিলেন।

এছাড়াও বহু গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর তৎকালীন বাম সরকারের পুলিশি নির্যাতন নিয়ে বারবার রাস্তায় নামতে দেখা গেছে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী তথা আজকের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে বিরোধী নেত্রী থেকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হলেন, তখন সকলেই আশা করে নিয়েছিলেন, এবার হয়ত রাজ্যে গণতান্ত্রিক বিরোধী আন্দোলন অনেকটাই মর্যাদা পাবে। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস শাসন ক্ষমতায় বসলে বাংলায় গণতন্ত্র বহাল থাকবে বলে আশা করেছিলেন সকলে‌।

কিন্তু শাসকের রং এক হয় বলেই দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। যার কারণে বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বারবার হামলা চালাতে দেখা যাচ্ছে পুলিশকে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার রাজনৈতিক কর্মীদের উপর বারবার আক্রমণ করছে রাজ্য পুলিশ। যার ফলে পরিবর্তনের সরকার তথা এক সময় বিরোধী নেত্রী থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে বারবার সওয়াল করেছেন, তার আমলেই সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন হলেও, কেন তাকে পুলিশের লাঠির আঘাতে আটকে দিচ্ছেন তিনি, তা নিয়ে নানা মহলে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।

সম্প্রতি বামেদের ছাত্র-যুবদের পক্ষ থেকে নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পুলিশ যেভাবে লাঠি চালিয়েছে, তাতে রীতিমত হতবাক সকলে। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, এই অভিযান আটকানোর দায়িত্বে অসংখ্য পুলিশ আধিকারিক ছিলেন। কিন্তু আগে থেকে কথা বলে বামেদের ছাত্র যুব সংগঠনের কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দল যদি নবান্নে পৌঁছে দিত পুলিশ, তাহলে কি খুব সমস্যার সম্মুখীন হত সরকার? কেন সরকারের শোনার মত সহনশীলতা নেই?

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

অনেকে বলছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনায় অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। এমনিতেই বিজেপির চাপে ক্রমশ অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। সেদিক থেকে গত লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ভোট বিজেপিতে যাওয়ার কারণে তৃণমূলকে যে অনেক আসনে পরাজিত হতে হয়েছে, তা বলাই যায়। আর তার পরবর্তী সময়কালে বারবার বামেদের সংগঠন দেখভাল করার জন্য বাম নেতৃত্বকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিতে দেখা গেছে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের‌।

সেদিক থেকে যদি বিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে রাখতে হত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, তাহলে আন্দোলনকে কিছুটা হলেও সফলতার দিকে নিয়ে যেতে কৌশলী পদক্ষেপ করতে রাজ্য প্রশাসন। কিন্তু তা না করে যেভাবে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমানোর চেষ্টা করা হলে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে, তাকে নিঃসন্দেহে এক সময় পরিবর্তনের আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই বদল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

অনেকেরই প্রশ্ন, তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ক্ষমতায় আসার আগে সকলে বলতেন, এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিরোধী নেত্রী। তাই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলে রাজ্যের পরিস্থিতি গনতান্ত্রিক পরিবেশের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হবে বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তা না করে যেভাবে বিরোধী আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা হচ্ছে, তাতে শাসকের রং সর্বদা এক হয় বলে তৃনমূলকে আক্রমন করতে শুরু করেছে সমালোচক মহলের একাংশ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!