এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > কংগ্রেস > “আমাকে তো আমার রাস্তা একদিন বেছে নিতেই হবে।” মন্তব্য, পাশাপাশি হেভিওয়েট বিরোধী নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতার

“আমাকে তো আমার রাস্তা একদিন বেছে নিতেই হবে।” মন্তব্য, পাশাপাশি হেভিওয়েট বিরোধী নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতার



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – একসময় কংগ্রেসে ছিলেন বহরমপুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীলরতন আঢ্য। পরবর্তীকালে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ছিলেন তৃণমূলে, তবে কয়েক মাস ধরে তিনি দলে সক্রিয় হয়েছেন। সম্প্রতি, তিনি দেখা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর সঙ্গে। অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন যে, হঠাৎ জেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন নীলরতন আঢ্য। তাঁর সঙ্গে যদি কেউ দেখা করতে আসেন, তবে তাঁকে তো তিনি চলে যেতে বলতে পারেন না। কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে দুজন যখন সাক্ষাৎ করেছেন, সে সময় কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে বেশকিছু কংগ্রেস নেতা উপস্থিত ছিলেন।

তবে, তৃণমূল নেতা নীলরতন আঢ্যর সঙ্গে রাজনীতির বিষয়ে, দল বদলের বিষয় নিয়ে অধীর চৌধুরীর কোন কথা হয়নি। সে কথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। নীলরতন আঢ্য জানিয়েছেন যে, এক বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে যখন তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে সময় অধীর চৌধুরীর গাড়ি দেখতে পান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে ঘর করেছিলেন তিনি। তাই তিনি কেমন আছেন? সে খোঁজ নিয়েছেন। তবে, তাঁদের এই সাক্ষাৎকারে বহরমপুর শহর জুড়ে জোর জল্পনা শুরু হল। কংগ্রেস নেতারা জানালেন যে, নীলরতন বাবুর কংগ্রেসে ফেরা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল দলে নিষ্ক্রিয় হয়েই ছিলেন নীলরতন বাবু। এরপর স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকে তিনি সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। দলে এক শর্ত দিয়েছিলেন তিনি, যা হলো পুর প্রশাসক পদ। এই পদের জন্য দলের অন্যতম কো-অর্ডিনেটর সৌমিক হোসেনের সঙ্গে তিনি বহু কর্মসূচি পালন করেছেন। বহরমপুরের সমস্ত ওয়ার্ডে ঘুরে বিভিন্ন স্থানে রক্তদান কর্মসূচি পালন করেছেন তিনি। কখনো অরিত মজুমদার, কখনো সৌমিক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে একাধিক কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু এরপর কয়েক মাস কেটে গেলেও তাঁকে পুরসভার পুরপ্রশাসকের পদ দেয়া হয়নি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কিংবা দলের এই দুই নেতা অরিত মজুমদার, সৌমিক হোসেন এ বিষয়ে একেবারে নিরব।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

এদিকে বঙ্গধ্বনি কর্মসূচির প্রচার শুরু হলেও দলের বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি পুরসভার এই প্রাক্তন কাউন্সিলর। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকেও অবহেলিত ছিলেন তিনি। বঙ্গধ্বনি রিপোর্ট কার্ড পৌঁছয়নি তাঁর কাছে। তবে তিনি জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকের লিংক তাকে দেয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, দলের কর্মসূচির কারণে চেয়ারম্যান এর কাছে তিনি গিয়েছিলেন, আবার মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকেও তিনি ছিলেন।

তবে, এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে, জেলা সভাপতি তাঁকে ডাকেননি। তিনি জানিয়েছেন যে, তৃণমূল জেলা সভাপতি কোন বৈঠকেই তাকে কখনো ডাকেন না। না ডাকার জন্য তিনি সেখানে যান না। তিনি জানিয়েছেন মাঝে মাঝে অরিত মজুমদারের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথাবার্তা হয়, কিন্তু অন্য কারো সঙ্গে কোনো কথা তার হয়না। এদিকে বহরমপুরে তার বিরোধী নেতা নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে অরিত মজুমদারের সখ্যতা তৈরি হয়েছে। এই কারণে অনেকটাই দলে একঘরে হয়ে পড়েছেন নীলরতন বাবু বহরমপুর শহরে।

এই পরিস্থিতিতে দলবদল সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে এর উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, ” আমি এখনও তৃণমূলের কর্মী। দল না ডাকলেও আমি আমার মত করে মানুষজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তা সত্ত্বেও স্থানীয় নেতারা আমাকে গুরুত্ব না দিলে আমাকে তো আমার রাস্তা একদিন বেছে নিতেই হবে।” তাঁর এই বক্তব্যে জেলা জুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। তবে এ প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান জানিয়েছেন যে, নীলরতন বাবু হলেন দলের একজন দায়িত্ববান নেতা। তিনি দলের কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক করতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করছেন না। আবার যদি কেউ দলে থাকতে না চান, তাহলে তাঁকে নিয়ে দলের কিছু করার থাকে না।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!