এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > অস্তিত্বহীন ক্লাবকেও লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান! রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র বিতর্ক বাংলায়!

অস্তিত্বহীন ক্লাবকেও লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান! রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ ঘিরে তীব্র বিতর্ক বাংলায়!



ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্লাবগুলোকে আর্থিক সাহায্য দিতে শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কিন্তু প্রথম থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধীরা।রাজ্য সরকার ক্লাবগুলোকে টাকা দিয়ে তোষন করছে বলে দাবি করেন তারা। কিন্তু এবার অস্তিত্বহীন ক্লাবকে লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ায় এবং সেই টাকা এক তৃণমূল নেতা তুলে নেওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হল।

অভিযোগ, আরামবাগের 14 নম্বর ওয়ার্ডের নবপল্লী এলাকায় “নবপল্লী মাঠপাড়া সম্প্রীতি সংঘ” নামে একটি ভুয়ো ক্লাবের হয়ে গত বছর দুই লক্ষ টাকা এবং চলতি বছরের 1 লক্ষ টাকার অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছিল। যে চেক তুলে নিয়েছে নিতিশ ভট্টাচার্য নামে এক তৃণমূল নেতা। আর গোটা ব্যাপারটি এখন প্রকাশ্যে আসায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জানা যায়, সোমবার নবপল্লীতে গিয়ে ওই ক্লাবের খোঁজ করার পরেই গ্রামবাসীরা অবাক হয়ে যান।

স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এখানে এরকম কোনো ক্লাবের অস্তিত্ব নেই। তবে তৃণমূল নেতা নীতিশ ভট্টাচার্য্য টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করাতেই এখন তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। কিন্তু কীভাবে তিনি ওই টাকা পেলেন? ক্লাবের অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি এই টাকা তুলতে পারলেন? এদিন এই প্রসঙ্গে সেই নীতিশ ভট্টাচার্য বলেন, “আমি টাকাটা তুলেছি। এই নিয়ে দুবার পেলাম। ক্লাব কোথায়, তা ক্লাবের আরেক কর্মকর্তা পিন্টু কোনার বলতে পারবেন।”

ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

তবে ক্লাবের টাকা পেতে গেলে তো শংসাপত্র লাগে! এক্ষেত্রে কার শংসাপত্র তিনি পেয়েছেন? এদিন এই প্রসঙ্গে সেই তৃণমূল নেতা বলেন, “সেসব মনে নেই। দলের বিধায়ক, সাংসদ থেকে উচুতলার নেতারা সবাই তো দেন।” এদিকে এই ব্যাপারে ক্লাবের আরেক কর্মকর্তা বলে পরিচিত পিন্টু কোনারকে ক্লাবের অস্তিত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “ক্লাবটা নেই। রেলস্টেশনের কাছে একটি দেবত্র জমিতে ক্লাবটা করতে উদ্যত হয়েছিলাম। পুলিশ ভেঙে দিয়েছে।”

এদিকে এক তৃণমূল নেতা এভাবে সরকারের সাহায্য ব্যক্তি স্বার্থে কাজে লাগাবেন, তা নিয়ে এখন রীতিমত প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কে তাকে শংসাপত্র দিল? এদিন এই প্রসঙ্গে আরামবাগের বিধায়ক কৃষ্ণচন্দ্র সাঁতরা বলেন, “শংসাপত্র শুধু বিধায়ক দেন না। কেউ আবার সাংসদ, জেলা সভাপতি বা মন্ত্রীর কাছ থেকেও শংসাপত্র নিয়ে নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে কার শংসাপত্রের ভিত্তিতে এটা হয়েছে, আমার জানা নেই। দল এবং সরকারের দেখা উচিত।”

তাহলে কি তিনি শংসাপত্র দিয়েছেন? এদিন এই প্রসঙ্গে আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ অপরুপা পোদ্দার বলেন, “আমি এরকম কোনো শংসাপত্র দিইনি। আমরা সুপারিশ করলে দপ্তর সেটা খতিয়ে দেখেই টাকা দেয়। এক্ষেত্রে তদন্তের জন্য মহকুমাশাসককে বলব।” এদিকে গোটা বিষয়ে সরকারের কাছে তথ্য পাঠানো হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ যাদব।

তবে তৃণমূল নেতারা এখন যতই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিন না কেন, যেভাবে সরকারের তরফে ক্লাবগুলোকে দেওয়া সাহায্য নিয়ে তৃণমূল নেতার আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ্যে এল, তাতে রীতিমত সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে আরামবাগ জুড়ে। এমনিতেই করোনার সময়ে বারেবারেই তৃণমূল নেতাদের দিকে আঙুল উঠেছে ত্রাণের নামে দুর্নীতি করার জন্য – বিরোধীরা প্রকাশ্যেই এর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এবার অস্তিত্বহীন ক্লাবকেও টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে যে বিরোধীরা ঝড় তুলতে চলেছেন – সে ব্যাপারে কার্যত নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!