এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীর লক্ষাধিক টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে টালমাটাল রাজ্য-রাজনীতি

রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীর লক্ষাধিক টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে টালমাটাল রাজ্য-রাজনীতি



সামনেই 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে এবার কি বড়সড় অস্বস্তিতে পড়তে চলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস? বস্তুত, 2011 সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সারদা থেকে নারদা বিভিন্ন ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে ঘাসফুল শিবিরকে। আর এবার নারদার মতনই আরেক স্টিং অপারেশনে রাজ্যের শাসকদলের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীর নাম জড়িয়ে পড়ায়, ঘুম উড়তে শুরু করেছে তৃণমূল ভবনের নেতাদের।

অতীতে 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নারদ স্ট্রিং অপারেশনের ভিডিও প্রকাশ্যে চলে আসে। যেখানে দেখা যায়, তৃণমূলের অনেক হেভিওয়েট মন্ত্রী, সাংসদ প্রকাশ্যে মোটা রকমের টাকা নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন। যা বিরোধীদের কাছে তৃণমূল-বিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে মোক্ষম অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। এখনও পর্যন্ত তৃণমূলকে সেই কাঁটা সহ্য করতে হচ্ছে।

আর এরই মাঝে এবার সামনের পৌরসভা এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে আরও একটি স্টিং অপারেশন সামনে চলে আসায় নানা মহলে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন। সূত্রের খবর, রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী তাপস রায় এবং চন্দ্রনাথ সিনহার বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন একটি চ্যানেলের প্রাক্তন মালিক এবং সাংবাদিক উমেশ কুমার।

জানা গেছে, শনিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ভিডিও ক্লিপ দেখান এই বিশিষ্ট সাংবাদিক। আর সেই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় যে, রাজ্যের পরিষদীয় দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তাপস রায়, রাজীব রায় নামে এক ব্যক্তির কাছে এক লক্ষ টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন। অন্যদিকে ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজ্যের মৎস্য মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাও কোনো একজনের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং এক লক্ষ টাকা নিচ্ছেন। যদিও ভিডিও বা অডিও ক্লিপের সত্যতা প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার তরফে যাচাই করে দেখা সম্ভব হয় নি।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর এই ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে শোরগোল তুলে দেন সাংবাদিক উমেশ কুমার। আর তারপরেই নানা মহলে প্রবল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টিতে তৃণমূলকে চাপে রাখতে মোক্ষম অস্ত্র সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এদিন এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “রাজ্যের মন্ত্রীসভার দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি চাই। তিনি ওই দুজনকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দিন।”

পাশাপাশি এই গোটা ব্যাপারটি নিয়ে তদন্তের দাবি তুলতেও দেখা গেছে এই হেভিওয়েট বিজেপি নেতাকে। কিন্তু এই ব্যাপারে কি বলছে তৃণমূল কংগ্রেস? আর কিই বা বলছেন এই ভিডিওতে দেখা যাওয়া দুই মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ এবং তাপস রায়? সত্যিই কি তারা তাহলে দুর্নীতির জালে বিদ্ধ হয়েছেন? এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়ান বলেন, “অত্যন্ত ফালতু ব্যাপার। যারা সামনে থেকে রাজনৈতিক ভাবে লড়তে পারে না, তারা এসব করে। এই নিয়ে কথা বলে গুরুত্ব বাড়াতে চাই না।”

কিন্তু এই ব্যাপারে কি বলছেন তাপস রায় এবং চন্দ্রনাথ সিংহ! এদিন এই দুইমন্ত্রী জল্পনা জিইয়ে রেখেছেন। তাদের দুজনেরই বক্তব্য, এই নিয়ে আমরা কিছু বলব না। কিন্তু কেন তারা কথা বলবেন না? যদি সত্যিই তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না থাকেন, তাহলে তারা কেন প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না! এখন তা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে একাংশ। এদিকে উমেশ কুমার জানিয়েছেন তিনি শুধু সাংবাদিক বৈঠক করেই ক্ষান্ত হবেন না, এই নিয়ে সিবিআই তদন্তও করাবেন।

অন্যদিকে, তাপস রায় বা চন্দ্রনাথ সিনহা আপাতত থাকলেও, বাংলার যে নিউজ চ্যানেল এই খবর প্রকাশ্যে আনেন, তাদের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তাপসবাবু প্রাথমিকভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে জানিয়েছিলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন নাহলে চ্যানেলটিই বন্ধ করে দেবেন। ফলে, এখন এই ব্যাপারে নানা মহলে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। সব মিলিয়ে এই গোটা বিষয় ঠিক কোথায় গিয়ে মোড় নেয়! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!