এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > অধীরের অপসারণ প্রসঙ্গে মুখ খুলে বিস্ফোরণ ঘটালেন অনুব্রত মন্ডল

অধীরের অপসারণ প্রসঙ্গে মুখ খুলে বিস্ফোরণ ঘটালেন অনুব্রত মন্ডল



অধীর চৌধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে অপসারণ প্রসঙ্গে এবার বিস্ফোরক মন্তব্যে নজর কাড়লেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা অনুব্রত মন্ডল। তাঁর চাঁচাছোলা বক্তব্যের জন্য আগেও তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন বহুবার। আর এবারও খুব স্বাভাবিকভাবে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রসঙ্গে সরব হলেন তিনি। দেরিতে হলেও অধীর বাবুকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এবার তিনি বহরমপুর লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়ালে নিশ্চিতভাবে হারতেন,এমনটাই মন্তব্যে জানালেন তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা। অধীর বাবুর বিরুদ্ধে যাবতীয় ক্ষোভ উগড়ে দিলেন এদিন তিনি।

অধীর চৌধুরী কট্টর তৃণমূল বিদ্বেষী বরাবাই। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন লোকসভা ভোটের আগে জোট গঠনের কথা যখনই উঠেছে,অধীর বাবু বামেদের হাত ধরতে চেয়েছেন। তৃণমূল তাঁর চোখে দূর্নীতিগ্রস্থ,সন্ত্রাসের রাজনীতি চালানো এক শাসকদল। এমনটা প্রকাশ্য জনসভায় বহুবার বলেছেন তিনি। এবার অধীর বাবুকে কাদায় পড়তে দেখে সুযোগের সৎ ব্যবহার করলেন অনুব্রত মন্ডল। বললেন,অধীর চৌধুরীকে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করলে প্রদেশ কংগ্রেসের ভালো হত। বাংলার উপকার হত।

অধীর বাবু সিপিএম-প্রীতিকে কটাক্ষ করে তিনি বললেন,”বাবা খুন হয়েছে, মা বিধবা হয়েছে চোখের সামনে। আমার তিরিশ বিঘার মধ্যে কুড়ি বিঘা জোড় করে সিপিএম বর্গা বসিয়ে দিল। আর অধীর বলছেন, সিপিএমকে ভোট দিতে। তাই কখনও হয় নাকি।” এছাড়া এ অভিযোগও তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন অধীর চৌধুরী নাকি পাশের জেলা বীরভূমে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন। প্রকাশ্যেই অনুব্রত মন্ডলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলতেন,”পারলে দেহরক্ষী ছাড়া অনুব্রত কোনো এলাকায় গিয়ে দেখান তাঁর কতোটা ক্ষমতা আছে।” এসব চ্যালেঞ্জেরই শোধ তুললেন এদিন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। বললেন,মুখেই খালি বড় বড় কথা বলে গেছেন অধীর চৌধুরী। বীরভূমের মাটি দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের জনসভা করার কথা জানিয়েছিল। চ্যালেঞ্জ করেছিল অনুব্রত বাবুকে।

বীরভূম থেকে তৃণমূলের ঝান্ডা হাটানোর হুঁসিয়ারী দিয়েছিল। অথচ একটা সভাও করতে পারেনি এতোদিন। তৃণমূল বাঁধা দিতে যাইনি কোনোদিন। তাও কেন অধীর বাবু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন জনসভা করতে পারলেন না একটাও বীরভূমের মাটিতে? প্রশ্ন অনুব্রত বাবুর। পাল্টা জবাবে তিনি নিজেই জানালেন,অধীর বাবুর সমর্থন তাঁর নিজের দলের লোকই করত না। কোনোকালেই করেনি। সেটা প্রমাণ হয়ে গেল সভাপতি পদ থেকে অধীর চৌধুরীকে ছাটাই এর পরই।

অধীর বাবুর এতো সমালোচনা করার পর স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠে এল অনুব্রত মন্ডলের জন্য। সোমেন মিত্রকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বে আনার জন্যে তিনি কি খুশি? এবার কি তাহলে কংগ্রেস- তৃণমূল জোটটা হচ্ছে তাহলে লোকসভা ভোটের আগে? তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্যই করতে চাননি অনুব্রত বাবু। সমস্ত বিতর্ক এড়াতে তিনি সংযতভাবে উত্তর দিলেন, জোটের ব্যাপারে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপার সেটা। এমনটাই জানালেন তিনি। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই,অধীর বাবু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি থাকার সময় তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোটের কট্টর বিরোধী ছিলেন। তিনি একা দাঁড়িয়ে লোকসভা ভোটযুদ্ধে নামতে প্রস্তুত,তবুও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরতে রাজি নন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এ নিয়ে দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে বহু বাদ বিবাদ হয়েছে তাঁর। এই ইস্যুর জন্য সহযোদ্ধাদেরই একাংশের অপছন্দের কারণ হয়েছেন তিনি। সম্ভবত এটাও একটা কারণ যার জন্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তাকে,এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহালমহল। তবে অধীর চৌধুরীর হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ায় যে অনুব্রত বাবু বেজায় খুশি হয়েছেন সেটা এদিন তাঁর মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছ।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!