এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > অধিকারী গড়েই কি অধিকারী সাম্রাজ্য আটকানোর পরিকল্পনা? “বিরোধী” গোষ্ঠির ক্ষমতায়নে উঠছে প্রশ্ন

অধিকারী গড়েই কি অধিকারী সাম্রাজ্য আটকানোর পরিকল্পনা? “বিরোধী” গোষ্ঠির ক্ষমতায়নে উঠছে প্রশ্ন



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট –রাজ্য স্তরে শুভেন্দু অধিকারী বড়সড় জায়গা পাবেন কিনা, তা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটের আগ পর্যন্ত ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেছিলেন, এবার শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্য সভাপতি করা হোক। তাহলে দল ভালো জায়গায় পৌঁছাবে। কিন্তু তেমন ভাবে কোনো জায়গা দেওয়া হয়নি শুভেন্দুবাবুকে। উল্টে তিনি যে সমস্ত জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন, সেই সমস্ত জায়গা থেকে তাকে সরিয়ে দিয়ে দলের কোর কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

মোটকথা, তৃণমূলে গতকাল সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যবেক্ষক পদ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্যস্তরে শুধুমাত্র কোর কমিটির সদস্য শুভেন্দু অধিকারীকে করা হলেও, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তার একচ্ছত্র আধিপত্য কেউ যে ভাঙতে পারবেন না, তাতে নিশ্চিত ছিল সকলেই। এমনকি বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক পরিবর্তন হলেও, পূর্ব মেদিনীপুরে শিশির অধিকারীকে সভাপতি রেখে শুভেন্দু অধিকারী কো-অর্ডিনেটর পদে রাখা হয়েছে। কিন্তু তা সত্বেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের যুব সংগঠনের যে পরিবর্তন আনা হল, তাতে অধিকারী সাম্রাজ্য কিছুটা হলেও চাপে পড়লে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।

বস্তুত, পূর্ব মেদিনীপুর তো বটেই, রাজ্যের সিংহভাগ জেলায় দলের সাফল্য আনতে কি করতে হবে, তার সিদ্ধান্ত নেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এবার তার জেলাতেই যুব সংগঠনের ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই শুভেন্দুবাবুকে চাপে ফেলে দেওয়া হল বলে মনে করছে অনেকে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিবর্তনে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সংগ্রাম দোলুইকে যুব তৃনমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে বিধায়ক বীরপুত্র সুপ্রকাশ গিরিকে রাজ্য যুব সহ-সভাপতির পদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

যার ফলে অধিকারী পরিবারের কিছুটা বিরুদ্ধ মনোভাবে জেলা রাজনীতিতে পরিচিত আখিল গিরি এবং তার পুত্রের গুরুত্ব অনেকটাই বাড়ল। আর এখানেই একাংশের প্রশ্ন, তাহলে কি শুভেন্দু অধিকারীকে ক্রমশ গুরুত্বহীন করে দিতে চাইছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব? তার প্রভাব দিনকে দিন বাড়ছে দেনেই তার কি এবার কিছুটা হলেও ডানা ছেঁটে দেওয়া হল? সারা রাজ্যের একাধিক জেলায় যেমন তাকে পর্যবেক্ষক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল, ঠিক তেমনই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তাঁর ঘনিষ্ঠ যুব সভাপতিকে সরিয়ে দিয়ে অধিকারী পরিবারের ওপর চাপ বাড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

এদিন এই প্রসঙ্গে নতুন দায়িত্ব পাওয়া সুপ্রকাশ গিরি বলেন, “আমি তৃণমূলের সৈনিক। আগেও দলের সংগঠন বাড়াতে কাজ করেছি। দল যে নতুন দায়িত্ব দিয়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।” অন্যদিকে এই ব্যাপারে তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি বলেন, “সুপ্রকাশ জেলার যুব সংগঠনের নেতৃত্ব হিসেবে ছিলেন। তাকে রাজ্য যুব সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাতে রাজনৈতিকভাবে সাংগঠনিক কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে।”

কিন্তু যে শুভেন্দু অধিকারীর কথা ছাড়া পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় একটি পাতাও নড়ে না, সেই শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ যুব সভাপতিকে সরিয়ে দিয়ে কি তার গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হল না? এদিন এই প্রসঙ্গে শুভেন্দুবাবুর পিতা তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি শিশির অধিকারী বলেন, “দলের নতুন সাংগঠনিক রূপ অনুযায়ী পর্যবেক্ষক পদ নেই। শুভেন্দুকে রাজ্য কোর কমিটিতে রাখা হয়েছে। এতে তার গুরুত্ব বাড়ল না কমল, তা আগামী দিনে বোঝা যাবে।”

তবে শিশিরবাবু যে কথাই বলুন না কেন, বর্তমানে তাদের জেলায় অন্যতম বিরোধী গোষ্ঠী অখিল গিরির রাজনৈতিক প্রভাব যেভাবে বৃদ্ধি করা হল, তাতে শুভেন্দু অধিকারী এবং তার পরিবার যে কিছুটা হলেও কোণঠাসা হয়ে গেলেন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন প্রবল প্রতাপশালী অধিকারী পরিবার নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দিতে কোনো কৌশল প্রয়োগ করে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!