এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > অভিষেকের পর বিবেকানন্দকে নিয়ে বিতর্কে দিলীপ, তরজা তুঙ্গে!

অভিষেকের পর বিবেকানন্দকে নিয়ে বিতর্কে দিলীপ, তরজা তুঙ্গে!



 

বিশ্ব বরেন্দ্র স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম জয়ন্তীতে স্বামীজীর ছবি বাদ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল জোর বিতর্ক। আর এবার কিছুটা একই রকম ভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ছবিকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জবরদস্ত বিতর্ক দানা বেঁধেছে। যদিও ইতিমধ্যেই এই ছবিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে দাবি করে ভারতীয় জনতা পার্টির যুব শাখা। যুব মোর্চার তরফ থেকে শিলিগুড়ির সাইবার থানাতে অভিযোগ জানানো হয় গত মঙ্গলবার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের একটি শোভাযাত্রায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিকে কেন্দ্র করে রীতিমত বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে। আর এবার মঙ্গলবার দিন দার্জিলিং জেলা বিজেপির ব্যানারে স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম জয়ন্তী কথা লেখা থাকলেও, ছবির জায়গায় দিলীপ ঘোষের ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়াতে। কিন্তু ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার তরফ থেকে এই ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

 

এদিন এই ঘটনা প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি জেলা যুব মোর্চার সভাপতি কাঞ্চন দেবনাথ বলেন, “তৃণমূল সচেতনভাবে মনীষীদেরকে অপমান করছে তারপর তার দায় আমাদের ঘাড়ে চাপাতে নকল ছবি তৈরি করে ভাইরাল করছে। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। গোটা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।” কিন্তু বিজেপির যুব মোর্চার তরফ থেকে স্পষ্টভাবে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার দিন কোনো মিছিল করেনি ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু তা সত্ত্বেও এরকম একটি পোস্টার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম জয়ন্তী উদযাপন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগানো প্রসঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা দাবি করেন, দার্জিলিংয়ের তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিবেকানন্দের পর্যায়ে উন্নীত করে ফেলেছেন। কিন্তু তা যে অপমানজনক, সেটা বোঝার ক্ষমতা নেই তৃণমূল নেতাদের। কার্যত এই ভাষাতেই ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

পাশাপাশি বিজেপির তরফ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় জনতা পার্টিকে বদনাম করার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির জায়গায় দিলীপ ঘোষের ছবি লাগিয়ে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালানো হচ্ছে। কারণ এর মত একইভাবে দিলীপ ঘোষের ছবিতেও সেই একই কথা লেখা ছিল। বদলানো হয়েছে শুধু সংগঠনের নাম। তাদের দাবি ছবিটি ভালো করে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে এটা এডিটেড। কেননা দিলীপ বাবুর মুখটা অনেকটা কালো লাগছে ছবিতে আর গলাটা সাদা ধপধপে, তাছাড়া ভারতীয় জনতা পার্টি কখনো সবুজ রং ব্যবহার করে না। তাদের সব পোস্টার গেরুয়া। তৃণমূল সবুজ রং ব্যবহার করে,ওটা কে ওরা নিজেদের সম্পত্তি করে নিয়েছে। দেখলেই বোঝা যাচ্ছে তৃণমূল ড্যামেজ কন্ট্রোলে বিজেপির বিরুদ্ধে জারজন্ত্র করে অভিষেকের মুখ কেটে দিলীপের মুখ বসিয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই যুব মোর্চার তরফ থেকে এই বিষয়ে সাইবার থানায় নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের থেকে দাবি করা হয়েছে, দিলীপ ঘোষের এই ধরনের ছবি ভাইরাল করা হয়ে থাকতে পারে কলকাতা থেকে।

কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর এই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, ওই ছবি লাগানো তাদের কাজ নয়। বিবেক জন্মজয়ন্তীতে বিবেকানন্দের ছবি বাদ দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি প্রসঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, “শহরের একজন টোটো কাজ এটি। তিনি মিছিলেই ঘুরে ছিলেন। আমাদের তরফ থেকে এরকম কিছু সচেতনভাবে করা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “কিভাবে ওই পোস্টার এল, তা নিয়ে আমরা দলগতভাবে আলাদা তদন্ত করছি। তবে মনীষীদের বিষয়ে এরকম আচরণ থেকে সকলকে বিরত থাকা উচিত।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দলীয় কর্মী-সমর্থকদের থেকে যদি অতি উৎসাহিত হয়ে বিবেকানন্দের মত মনীষীর ছবি বাদ দিয়ে দলীয় নেতা নেত্রীদের ছবি লাগিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আদতে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে শাসক দলকে। সেই কারণেই এইরকম বিষয়ে যথেষ্ট সংবেদনশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ভাইরাল হওয়ার পরে দিলীপ ঘোষের ছবিতে একই কথা লেখা থাকা কোনো রকমের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কিনা, সেই বিষয়ে কিন্তু রীতিমতো তদন্তের প্রয়োজন আছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন সব কিছু মিলিয়ে এই ছবি বিতর্কের কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

 

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!