এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় সহায় সম্বলহীন মহিলার পাশে অভিষেক ব্যানার্জী

মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় সহায় সম্বলহীন মহিলার পাশে অভিষেক ব্যানার্জী



তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত সংবাদের শিরোনাম কাড়েন বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানিয়ে,কখনো বা সভামঞ্চে বলিষ্ঠ ভাষণের মাধ্যমে, কখনো আবার মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করে। এই তৃণমূলের এই যুবনেতা আমজনতার প্রশংসা কুড়ালেন সহায় সম্বলহীন এক মহিলার পাশে থেকে। বারাকপুরের কালিয়ানিবাসের ঘটনা। বৃদ্ধা মা বসে আছেন খোলা বারান্দায়। ওদিকে ঘরের তালাবন্ধ। বৃদ্ধ মানুষটিকে একলা ফেলে ছেলে-বৌমা ঘুরতে গিয়েছেন আসামে। একথা সংবাদমাধ্যমের মারফত অভিষেকবাবুর কানে এসে পৌছাতেই তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন। খবরটি জানার পরই তিনি দলীয় যুবনেতা জয়দীপ দাস এবং শুভ্রকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই অসহায় বৃদ্ধার দেখভাল করতে পাঠিয়ে দিলেন। এবং বার্তা দিলেন,’মায়ের গুরুত্ব সবথেকে বেশি। মায়ের বিপদে থাকলেই যুবদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।’

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, অসহায় বৃদ্ধার নাম রায়মণি দেবী। তাঁর ছেলে বৌমা ঘরে তালা দিয়ে খোলা বারান্দায় ফেলে রেখে গিয়েছেন বৃদ্ধা মাকে। ঘুরতে গিয়েছেন আসামে। সঙ্গে খাওয়ার জন্যে রেখে গেছেন জল এবং সামান্য পরিমান মুড়ি। শিক্ষক দম্পতি ঘুরতে যাওয়ার চারদিনের মাথায় বৃদ্ধার অবস্থা নজরে আসে প্রতিবেশিদের। নিজের মায়ের প্রতি ধরণের অমানবিক আচরণ দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এছাড়া বৃদ্ধার অসহায় অবস্থা দেখে স্থানীয় কাউন্সিলারও হতবাক। প্রতিবেশি এবং কাউন্সিলারদের উদ্যোগে ছেলে রতন এবং বৌমা স্বাতী ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে টিটাগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। রতন বাবুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক কুনাল ঘটকই দায়িত্ব নিয়েছেন আপাতত বৃদ্ধার থাকা খাওয়ার।

প্রতিবেশীরা আরো জানিয়েছেন,বৃদ্ধা রায়মণিদেবীর তিনটি ছেলে। নিজের গোটা সম্পত্তিটাই অন্য ছেলেদের বঞ্চিত করে তিনি লিখে দিয়েছিলেন রতনের নামে। সেকারণে খানিকটা রাগ এবং দুঃখেই মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননা তাঁরা। আর ছোট ছেলে সব সম্পত্তি পেয়েই মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতো। ছোট বউমা ঠিকমতো খেতে দিত না। তার সঙ্গে গঞ্জনা এবং কটু কথা শোনানো তো ছিলই। এসব দেখে মুখের রা টা কাটতে দেখা যায়নি রতন বাবুকে কোনো দিন। এতো অত্যাচার চুপচাপই এতোদিন সহ্য করে জীবন কাটাচ্ছিলেন বৃদ্ধাটি।

এহেন অবস্থায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্তরিকতা দেখে আনন্দে কেঁদেই ফেললেন অসহায় বৃদ্ধাটি। সর্বদা পাশে থাকার আশ্বাসের সঙ্গে দুই নেতাকে দিয়ে কিনে পাঠিয়ে দিয়েছেন শাড়ি এবং ফল। এদিকে বৃদ্ধার দুর্ভোগের কাহিনী শুনে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষক দম্পতি ফিরলেই তাদের কাছে জানতে চাওয়া হবে নিজের মায়ের প্রতি এ ধরণের অমানবিক আচরণের কারণ কী। তারা যদি বৃদ্ধাকে সসম্মানে রাখতে পারেন তবে ভালো,নয়তো এ সমস্যার সমাধান অবিলম্বে করা হবে। তবে এসবের মাঝে তৃণমূল যুব নেতা যে মানবিকতার নজির তুলে ধরলেন তাতে তৃণমূলের গরিমা রাজ্যবাসীর সামনে আরো সুন্দরভাবে সামনে এল। এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহালমহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!