এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > আবাস যোজনায় বাড়ি শুরু হতেই টাকা ফেরতের জন্য আইনি চাপ! মমতা প্রশাসনের কাণ্ডে মাথায় হাত গরীবের

আবাস যোজনায় বাড়ি শুরু হতেই টাকা ফেরতের জন্য আইনি চাপ! মমতা প্রশাসনের কাণ্ডে মাথায় হাত গরীবের



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে দুর্নীতি কাণ্ড নিয়ে রীতিমতো হইচই শুরু হয়েছে। আমফান পরবর্তী ত্রাণ দুর্নীতিতে দেখা যাচ্ছে, শাসক শিবিরের বহু নেতা নেত্রীর নাম উঠেছে, যাঁরা রীতিমতো স্বজনপোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত। ইতিমধ্যে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে বলে দাবি করা হয়েছে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি এবার নতুন করে শাসক শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলে উঠে এল আবাস যোজনা কান্ড।

বিরোধীদের অবশ্য প্রথম থেকেই দাবি ছিল, আবাস যোজনায় প্রবলভাবে দুর্নীতি হয়েছে। তবে এদিন যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তাতে দুর্নীতি নয় বরং রাজ্য প্রশাসনের ভুলের মাশুল চোকাতে পাঁচ পরিবারকে কিভাবে হেনস্তা হতে হচ্ছে তারই কথা। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের সুতির পাঁচ পরিবারের আবাস যোজনা বাড়ি করার পর মাথায় হাত পড়েছে। কারণ, মুর্শিদাবাদ সুতি ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত দিনের মধ্যে তাঁদের আবাস যোজনার ষাট হাজার টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় পাঁচ পরিবার পড়েছেন আতান্তরে।

সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের সুতি এক ব্লকের বংশবাটী গ্রামের রনজিত মাঝি, বিকাশ মাঝি, ঘুতু মাঝি, অজিত মাল ও নিবারণ মাল বাংলার আবাস যোজনায় অন্তর্ভুক্তির কারণে বাড়ি করার জন্য 60 হাজার করে টাকা পান। সেই টাকায় তাঁদের বাড়ি তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু এতদিন পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওই পাঁচ পরিবারে ভুলবশত টাকা গেছে। তাই সেই টাকা উপভোক্তাদের ব্লক অফিসে ফেরত দিতে হবে। আর প্রশাসনের এই অভিযোগের কারণে রীতিমত কপাল চাপড়াচ্ছেন উক্ত পরিবারগুলি।


ফেসবুকে আমাদের নতুন ঠিকানা, লেটেস্ট আপডেট পেতে আজই লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

ওই পরিবারগুলির আবেদন, বাড়ি তৈরি হয়ে গেছে। তাহলে এবার টাকা কোত্থেকে ফেরত দেবেন তাঁরা! অন্যদিকে ব্লক অফিসে হাজির দেওয়ার নির্দেশ নেওয়া হয়েছিল তাঁদের। সেই অনুযায়ী ব্লক অফিসে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এবং জুলাই মাসের 7 তারিখে দেখা করতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী জুলাই মাসের 7 তারিখে ব্লক অফিসে দেখা করতে গেলে আগামী 7 দিনের মধ্যে 60 হাজার টাকা উক্ত পরিবারগুলিকে ফেরতের নির্দেশ দেয় ব্লক প্রশাসন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপভোক্তা গ্রামবাসীরা। এঁদের মধ্যে একজন রঞ্জিত মাঝি জানান, টাকা পেয়ে তাঁদের বাড়ি তৈরি হয়ে গেছে। তাহলে এই মুহূর্তে তাঁরা কিভাবে টাকা ফেরত দেবে! তাঁদের পক্ষে তো জানা সম্ভব নয় যে ভুল করে টাকা ঢুকেছে। অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে সুতি এক ব্লকের বিডিও রবীন্দ্রনাথ বাড়ুই জানিয়েছেন, নামের বিভ্রান্তির কারণে ভুলবশত অন্যের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। পুরো ব্যাপারটি জানানোর পর নোটিশ পাঠানো হয়েছে উপভোক্তাদের কাছে। এই অনুযায়ী একজন ইতিমধ্যে টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, বাকি চারজন যে এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছেন তাও জানান তিনি। অন্যদিকে প্রশাসনিক ভুলের কারণে কেন গরীব সাধারণ গ্রামবাসীরা ভুলের মাশুল দেবেন তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ সুতি ১ ব্লকের প্রশাসন এখনো পর্যন্ত ভুল স্বীকার করলেও উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে জোর দিচ্ছেন তাঁরা বলে জানা গেছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে এখনও প্রশাসনের উচ্চস্তর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ঘটনাটি যে প্রশাসনের গাফিলতির কারণে হয়েছে, সে কথা অবশ্য স্বীকার করে নিচ্ছে সব মহল।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!