এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > আবারও দলবদলের ধাক্কা, পুরসভা নির্বাচনের আগে চিন্তার ভাঁজ বিজেপিতে

আবারও দলবদলের ধাক্কা, পুরসভা নির্বাচনের আগে চিন্তার ভাঁজ বিজেপিতে



2019 এর লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকহারে লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন দল থেকে নেতাকর্মীরা পর্যায়ক্রমে বিজেপিতে যোগদান করেন সেই সময়। তবে বর্তমানে বেশ কিছু দিন যাবত দেখা যাচ্ছে, বিজেপি থেকে শাসকদলে বহু নেতা কর্মীরা যোগদান করছে। এই ঘটনা বিজেপি শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সামনে যখন বাংলার দরজায় কড়া নাড়ছে পুরসভা নির্বাচন, ঠিক সেই সময় বিজেপি থেকে তৃণমূলে প্রবেশ খুব স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপিকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলল।

এবার পুরুলিয়ার ঝালদাতে বিজেপির অন্দরে ভাঙ্গনের ফলে রবিবার রাতে বিজেপি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রায় 50 জন তৃণমূলে যোগদান করলেন। লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সারা রাজ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী চিত্র নজরে আসছে মাঝে মধ্যে। এবার যেমন দেখা গেল পুরুলিয়ার ঝালদায়। অন্যদিকে, এই দলবদলের কারণ হিসেবে যে তত্ত্বটি সামনে উঠে এসেছে, তা হলো বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

ইতিমধ্যে ঝালদায় বিজেপির অন্দরে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীরা একটি সংগঠন তৈরি করেছেন ‘বিজেপি সাফাই অভিযান মঞ্চ’ নামে। সম্প্রতি ঐ বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর একটি সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই রবিবার গভীর রাতে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঝালদা 11 নাম্বার ওয়ার্ডে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক উদয় পরামানিক এবং ঝালদা শহরের দু নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি যুব মোর্চার সম্পাদক অজয় রায় সহ 50 জন বিভিন্ন দল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগদান করেছে বলে শোনা গেছে।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, দলবদলকারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি প্রদীপ কর্মকার এবং সহ-সভাপতি দেবাশিস সেন। এই ঘটনা প্রসঙ্গে যুব তৃণমূল কংগ্রেস কনভেনার রাজেশ রায় ও প্রদীপ কর্মকার জানিয়েছেন, ‘নতুন এই কর্মীদের যোগদানে পুরুলিয়ায় দল আরও শক্তিশালী হলো। কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে এখানে বিজেপি একটু জায়গা পাচ্ছিলো, কিন্তু আজ অনেকে ভুল বুঝতে পেরে দিদির উন্নয়নকে দেখে ফিরে আসছেন।’ এই ঘটনার কথা সামনে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।

আপাতত, তৃণমূলের নজর রাজ্যের পুরসভা নির্বাচনের দিকে যা আর কিছুদিনের মধ্যেই হতে চলেছে। অন্যদিকে, ঠিক এই সময়ে বিজেপির ছন্দপতন হল, পুরুলিয়ার পদ্ম শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসে। জানা গেছে, বিজেপির বহু পুরনো নেতাকর্মীরা সম্প্রতি দল থেকে বেরিয়ে এসে তৈরি করেছেন বিজেপি সাফাই অভিযান মঞ্চ। জানা গেছে এই মঞ্চের আনুষ্ঠানিক সভা থেকেই দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করতে পারেন জেলার বহু নেতা কর্মীরা। এদিকে সূতের খবর, বিজেপি সাফাই অভিযান মঞ্চের অন্যতম নেতা নির্মল কেশরী জানিয়েছেন, তিনি বিজেপি ছাড়ার আগে বর্তমান বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর স্বরূপ প্রকাশ্যে আনতে চান।

গত লোকসভা নির্বাচনের পর এই বাংলার মাটিতেই রাজনৈতিক জমি শক্ত করে বিজেপি রাজনৈতিক মঞ্চের একেবারে সামনের সারিতে চলে আসে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাতেই উল্টো ধাক্কা সইতে হচ্ছে বিজেপিকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রতি এনআরসি এবং সিএএ কে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বেশ কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল লোকসভা ভোটে বেশ কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় থাকলেও ইদানীং ঘুরে দাঁড়াতে সমর্থ হয়েছে। ঠিক এই অবস্থায় বিজেপিতে আবারো একটি বড় ধাক্কা যা বিজেপি শিবিরকে যথেষ্ট চিন্তায় ফেলেছে বলে খবর। আপাতত সম্পূর্ণ বিষয়টি নজরে রেখেছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ।

আপনার মতামত জানান -

Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!