এখন পড়ছেন
হোম > রাজনীতি > তৃণমূল > জমি আন্দোলন পর্বে রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘সহযোদ্ধা’ র বিজেপিতে যোগ, শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে

জমি আন্দোলন পর্বে রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘সহযোদ্ধা’ র বিজেপিতে যোগ, শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট – বিগত বাম আমলে নন্দীগ্রামে জমি রক্ষার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল সিপিএমের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছিল। আর নন্দীগ্রামে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমানে শুভেন্দুবাবুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের অন্যতম সাক্ষী কংগ্রেসের সবুজ প্রধান যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে।

আর একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রামে যেভাবে এক কংগ্রেস নেতা ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন, তাতে তৃণমূল সহ অন্যান্য বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য দপ্তরে গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন সবুজ প্রধান। যার ফলে নন্দীগ্রাম জুড়ে এখন ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত 2006 সালের 5 জানুয়ারি নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি তৈরি হয়েছিল। যার প্রধান শরিক ছিল তৃণমূল এবং কংগ্রেস। তবে 2008 সালে জেলা পরিষদের ক্ষমতা তৃণমূলের দখলে যাওয়ার পর থেকেই ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির কর্তৃত্ব কংগ্রেসের হাত থেকে পুরোপুরিভাবে চলে যায় তৃণমূলের হাতে। আর এরপর থেকেই কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছিলেন কংগ্রেসের সবুজ প্রধান। বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হচ্ছিল বলে খবর।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এমনকি সাম্প্রতিককালে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়েছিল। আর এবার সরাসরি বিজেপির রাজ্য দপ্তরে গিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করলেন এই হেভিওয়েট নেতা। একাংশ বলছেন, একসময় রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এই সবুজ প্রধান। ফলে যে তৃণমূল এখন বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে তৎপর, সেই তৃণমূল এবং নিজের দল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে যেভাবে সবুজ প্রধান ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন, তাতে নন্দীগ্রামে বিজেপি কিছুটা হলেও শক্তিশালী হল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু কেন হঠাৎ করেই কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে আসলেন তিনি? এদিন এই প্রসঙ্গে সবুজ প্রধান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের যা হাল, তাতে সাধারণ মানুষের কোনো সেবা করতে গেলে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।” এদিকে সবুজ প্রধানকে নিজেদের দলে যোগদান করিয়ে কিছুটা হলেও উজ্জীবিত ভারতীয় জনতা পার্টি। এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় বলেন, “শুধু নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের নেতা হিসেবে নয়। একজন কংগ্রেস নেতা হিসেবে সবুজ প্রধান আমাদের দলে এসেছেন।” কিন্তু এর ফলে কি তৃণমূল কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলগুলো কিছুটা হলেও চাপে পড়বে না?

এদিন এই প্রসঙ্গে সবুজ প্রধানের দলবদলকে গুরুত্ব দিতে রাজি হয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। এই ব্যাপারে নন্দীগ্রাম 1 ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেঘনাথ পাল বলেন, “এলাকায় জণসংযোগ একেবারেই নেই। তাই উনি কোন দলে যোগ দিলেন, তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।” কিন্তু বিগত দিনের জমি আন্দোলনের অন্যতম নেতা যেভাবে বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন, তাতে তৃণমূল সহ অন্যান্য বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কপালে যে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন সবুজ প্রধানের এই দলবদলে বিজেপি কতটা শক্তিশালী হয় এবং এর ফলে তৃনমূল সহ অন্যান্য দলগুলো কতটা অস্বস্তিতে পড়ে, তা আগামী নির্বাচনের ভোটবাক্স খোলার পরই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!