এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > একুশে জুলাই কি সিপিএমের ২৩জন হেভিওয়েট নেতা যাচ্ছেন তৃণমূলে? উঠল প্রশ্ন

একুশে জুলাই কি সিপিএমের ২৩জন হেভিওয়েট নেতা যাচ্ছেন তৃণমূলে? উঠল প্রশ্ন



দলের সংস্কার এবং দলীয় সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে নয়া পদক্ষেপ বাম শিবিরে। দলের সংখ্যালঘু নেতা তথা প্রাক্তন এমপি মইনুল হাসান কে বেহিসেবি সম্পত্তি সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রকাশ্যে দলবিরোধী বক্তব্য রাখার মতো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এদিন সর্ব সম্মতিক্রমে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। খোদ সিপিএম দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র মইনুল হাসান’র বহিঃস্কারের কথা ঘোষণা করলেন। শুধু মইনুল হাসান বলেই নয় দলের রাজ্য নেতৃত্বের অনুমোদনে বিভিন্ন জেলার আরও ২৩ জন নেতাকে বহিষ্কার এবং একজনকে সাসপেন্ড করা হলো। বহুদিন পরে দলের এমন সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিক ভাবেই দলের অন্দরে হইচই সৃষ্টি হয়েছে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

দলের সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র এদিন প্রকাশ্যে মইনুল হাসানের বহিঃস্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পরে বললেন, ” ২৫ বছরের রাজ্য কমিটির এই সদস্যের বিরুদ্ধে জমি-সম্পত্তি কেনাবেচার একাধিক অভিযোগ নিয়ে দলীয় কমিশন তদন্ত করে। এই তদন্ত চলাকালীন মইনুল যে জবাব দেন, তা আদৌ সন্তোষজনক ছিল না। তিনি সম্পত্তি বিক্রি করার অভিযোগ স্বীকার করলেও কেনার কথা মানতে চাননি। অথচ তথ্যপ্রমাণ তার বিপরীত কথাই বলেছে। এমনকী, একটি ইনস্টিটিউট পর্যন্ত বিক্রি করেছেন কার স্বার্থে, তা নিয়ে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।

আমরা তাঁকে সময় দিয়ে নিজেকে অভিযোগমুক্ত করার সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষমেশ সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় কমিশন তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এই সব অভিযোগের কারণে তাঁকে রাজ্য কমিটি থেকে এবার বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি জেলা কমিটি থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পরই তিনি দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দাগেন। এরপর তাঁকে সরাসরি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য কমিটি বিনা প্রশ্নে সর্বসম্মতভাবে তাকে অনুমোদন দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে আরও ২৩ জনকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তও অনুমোদিত হয়েছে এদিন। আমরাই একমাত্র দল যারা দুর্নীতি বা শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য নিয়মিত শাস্তিদানের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকি। দেশের আর কোনও দলের এই হিম্মৎ নেই। তবে আমাদের ‘ঝাঁট দেওয়া ময়লা’ নেওয়ার জন্য কোনও কোনও দল মুখ উঁচিয়ে বসে থাকে। ”

এদিকে অভিযুক্ত মইনুল হাসান নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বললেন , ” আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাজানো। স্বচ্ছতা ও সাহস দেখানোর ক্ষমতা থাকলে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর নাম প্রকাশ্যে বলুক নেতৃত্ব। কমিশনে আমায় আত্মপক্ষ সমর্থনের উপযুক্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমার যে সব সম্পত্তি আছে, তার প্রয়োজনীয় আয়কর আমি দিয়েছি। আমার প্যান নিয়ে যে কেউ খোঁজ করতে পারে বিষয়টি। আমার পাঁচ পয়সারও অবৈধ সম্পত্তি নেই।”

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কেননা মইনুল হাসান কে বহিষ্কারের কারন শুধু শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ নয় এমনটাই মনে করছেন তাঁরা। সূত্রের খবর জল্পনা উঠেছিল তিনি নাকি তৃণমূলে যাচ্ছেন আর তাই তড়িঘড়ি তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে তাঁকে বহিষ্কার করা হলো অন্যদিকে তাঁর সাথে আরও অনেক জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তাঁরাও কি 21 শে জুলাই শহীদ মঞ্চ থেকে তৃণমূলে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন আর এই খবর পেয়ে আগাম তাঁদের বহিষ্কার করা হল। ভাবটা এমন যে আমরা বের করে দিয়েছি বলে তৃণমূলে গেছে। তবে সিপিআইএম এর মতে এমন কোনো ,কিছু ভাবার কোনো কারণ নেই। তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে শুধুমাত্র শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে। তাঁরা অন্যদলে যাবেন কি যাবেন না সেটা তাঁদের নিজস্ব ব্যাপার। এখন তাই অধীর আগ্রহে 21 জুলাই-এর মঞ্চের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা বঙ্গ সহ রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!