এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিজেপির রাজ্য কমিটিতে কি একাধিক নতুন মুখ? জল্পনা বাড়ালেন খোদ দিলীপ ঘোষ

বিজেপির রাজ্য কমিটিতে কি একাধিক নতুন মুখ? জল্পনা বাড়ালেন খোদ দিলীপ ঘোষ



লোকসভা ভোটের পর থেকে এ রাজ্যে বিজেপি পাখির চোখ করেছে আগামী দিনের 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনকে। তাঁদের লক্ষ্য, 2021 এ পৌঁছে বিধানসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে উৎখাত করা। আর তারপর রাজ্যের মসনদ দখল করে বিজেপি নেতৃত্বের স্থাপন। সেই লক্ষ্যে অবিচল থাকতে এরাজ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইতিমধ্যে বিজেপি। তারমধ্যে প্রথমাংশ ছিল রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচন ও এই নির্বাচনের হাত ধরেই দ্বিতীয়বার রাজ্য বিজেপি সভাপতি পদ অলংকৃত করেছেন মেদিনীপুরের সংসদ দিলীপ ঘোষ।

2019 এর লোকসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে্র রাজনৈতিক জমি শক্ত করেছে রাজ্য বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনে 18 টি আসন জিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি লড়াই শুরু করে। যদিও ইতিমধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তৃণমূল শাসক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে লড়াই এর সূচনা করেছেন, তা রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মুহূর্তে নাগরিকত্ব আইনকে কেন্দ্র করে বিজেপ যথেষ্ট কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।

তবে 2021 এ বাংলার মসনদ দখল করা নিয়ে বিজেপি যে লক্ষ্য স্থির করেছে, তা তাঁদের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে পরিষ্কার। ইতিমধ্যে, দ্বিতীয় বার দলীয় সভাপতির আসন গ্রহণ করে দিলীপ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা দখলের উদ্দেশ্যে নতুন করে রাজনৈতিক কৌশল ছকতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্যের দরজায় কড়া নাড়ছে পুরসভা নির্বাচন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে জানা গেছে। অতএব রাজ্য বিজেপি এবার পুরসভার নির্বাচনকে সেমিফাইনাল ধরে নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে মনোনিবেশ করেছে।

ইতিমধ্যে রাজ্য বিজেপি দলকে ঘষামাজা করতে উঠে পড়ে লেগেছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর এই কর্মকাণ্ডে সাথ দিচ্ছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সংগঠনকে মজবুত করতে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে দলের প্রত্যেকের কাজকর্মের ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রচারে রাজ্যে কে কতটা ভূমিকা গ্রহণ করছে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তালিকা তৈরি করা হবে উল্লেখযোগ্য কর্মীদের নিয়ে।


দেশে যে কোনো দিন ব্যান হয়ে যেতে পারে হোয়াটস্যাপ। তাই এখন থেকে আমরা শুধুমাত্র টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপে। প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার নিউজ নিয়মিতভাবে পেতে যোগ দিন –

টেলিগ্রাম গ্রূপটাচ করুন এখানে

সিগন্যাল গ্রূপটাচ করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

রাজ্য বিজেপির সভাপতির এহেন বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তাহলে কি আবার রাজ্য বিজেপি শিবিরে নতুন কোন মুখ আসতে চলেছে? তবে এ প্রশ্নের উত্তরে কোন স্পষ্ট জবাব দেননি দিলীপ ঘোষ। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন,‘কিছুদিন অপেক্ষা করুন, সব পরিস্কার হয়ে যাবে।’ অন্যদিকে, সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে বিজেপি চাইছে দলীয় সংগঠনকে মজবুত করতে অর্থাৎ সংগঠনের দিকে নজর দিচ্ছে বেশি করে। দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, রাজ্য বিজেপি দলে যে শুধুমাত্র আরএসএস করা ব্যক্তিরা সুযোগ পাবেন তা নয়, অন্যান্য দল থেকে আগত ব্যক্তিরাও তাঁদের কর্মধারার দ্বারা বিজেপিতে জায়গা করে নেবেন।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিতর্কে শিরোনামে সবসময় থেকেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি রাজনৈতিক মহলে সমালোচিত হয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় বার তাঁকেই রাজ্য সভাপতির আসনে বসানো হয়। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘আগের বার অমিত শাহ আমার মতামত না-নিয়েই আমার নাম ঘোষণা করেছিলেন। আমি জানতামই না কাকে রাজ্য সভাপতি বলে। ৩ বছর সময় দিয়েছিলেন আমায়। এক বছর বোনাস পেয়েছি। ৪ বছর ধরে রাজ্য সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি কিছু করতে পেরেছি, সে জন্য দল আবার আমায় দায়িত্ব দিয়েছে। প্রথমবার দায়িত্ব নিয়েই নির্বাচনে লড়তে হয়। মানুষ আমায় বিধায়কও বানিয়ে দিল।’

এবারের পুরনির্বাচন এবং আগামী দিনের বিধানসভা নির্বাচন জিততে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক ময়দানে কোমর বেঁধে অবতরণ করেছে বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের মসনদ দখল করার লক্ষ্যে অবিচল রয়েছে গেরুয়া শিবির। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতেই দ্বিতীয় বার রাজ্য বিজেপির সভাপতি করা হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। এবং দিলীপ ঘোষ গেরুয়া শিবিরের হয়ে লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করছেন বলে খবর। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূলও পিছিয়ে নেই। তাঁরাও রাজ্যের মসনদ এত সহজে ছেড়ে দেবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আপাতত, সম্পূর্ণ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
Facebook Friends
error: Content is protected !!