এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > মহেশতলা উপনির্বাচন – কাল দুলাল দাসের মূল প্রতিপক্ষের নাম কি শোভন চট্টোপাধ্যায়?

মহেশতলা উপনির্বাচন – কাল দুলাল দাসের মূল প্রতিপক্ষের নাম কি শোভন চট্টোপাধ্যায়?

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে বিধায়ক কস্তুরী দাসের মৃত্যুতে মহেশতলায় উপনির্বাচন। রাত পোহালেই শুরু হবে ভোটগ্রহণ, তার আগে লাখ টাকার প্রশ্ন ঘুরছে মহেশতলার বাতাসে – এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের মূল প্রতিপক্ষের নাম বিজেপি বা কংগ্রেস সমর্থিত বাম প্রার্থী নয়, মূল প্রতিপক্ষের নাম শোভন চট্টোপাধ্যায়। এমনিতে অত্যন্ত স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ দুলাল দাস, তার উপরে স্ত্রীর মৃত্যুতে হচ্ছে উপনির্বাচন ফলে সহানুভূতির হাওয়াও তাঁর দিকে থাকায় স্বাভাবিক। সবথেকে বড় কথা ৩৫ ওয়ার্ডের বিশাল মহেশতলা পুরসভা তাঁর হাতেই লালিত হচ্ছে দীর্ঘদিন। যদিও সবকটি ওয়ার্ড মহেশতলা বিধানসভা এলাকার মধ্যে পরে না, কিন্তু যে ২৬ টি ওয়ার্ড পরে, তা দুলালবাবু হাতের তালুর মত চেনেন। ফলে গলি- তস্য গলি ঘুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইতিমধ্যেই ভোটটা চেয়ে এসেছেন। কিন্তু এসবের মধ্যেই এসে পড়ছে যে ‘শোভন-কাঁটা’।

বিগত বেশ কয়েকমাস যাবৎ জমাই শোভন চট্টোপাধ্যায় ও কন্যা রত্না চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুড়ি এসে পড়েছে প্রকাশ্যে। মাঝে নাম জড়িয়েছে অন্য ‘এক নারী চরিত্রের’, স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব দলের ভাবমূর্তিতে এসে পড়তে বাধ্য। তার উপরে দুলালবাবু যখন সম্পর্কে শ্বশুর হচ্ছেন, এই কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সামান্য হলেও তাল খাচ্ছে তাঁর ভাবমূর্তি। অন্যদিকে, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিধায়ক এলাকা বেহালা-পূর্ব ও মহেশতলা পাশাপাশি। সেখানে মাত্র দুদিন আগে শোভনবাবুর বাড়ির সামনে ধর্ণা দিতে গিয়ে শোভনবাবুর অনুগামীদের পাল্টা ধর্ণা, শেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে রত্নাদেবীকে। সেই আঁচ পাশের মহেশতলা উপনির্বাচনে না পড়াটা নিতান্তই অস্বাভাবিক! ভাবমূর্তি যাওয়ার পাশাপাশি, শোভনবাবুর অনুগামীরা যদি পাশের বিধানসভা এলাকায় গিয়ে ‘ভুল করে’ কোনো ‘খেল’ দেখিয়ে ফেলেন তাহলে বদলে যেতে পারে অনেক সমীকরণই।

তার থেকেও বড় কথা মহেশতলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত। যে জেলার তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতির নাম শোভন চট্টোপাধ্যায়। যেখানে এত ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে এখানে জেলা সভাপতি নির্বাচনের দিন চুপ করে বসে থাকলেও বিপদ আবার নড়েচড়ে উঠলেও জল্পনা! সব থেকে বড় কথা স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত চাপান-উতরে যেতে পারে মেয়র পদ, যেতে পারে মন্ত্রীত্ত্ব। দল নাকি দাঁতে দাঁত চেপে সব কিছু যা করে আছে শুধুমাত্র মহেশতলা উপনির্বাচনের জন্য। এখনই শাস্তিবিধান হয়ে গেলে তার প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে। কিন্তু দেওয়াল লিখনটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, এই অবস্থায় ‘দাদা’ একটা শেষ খেল দেখাতেই পারে জাতীয় গুঞ্জন ক্রমশ দৃঢ় হচ্ছে মহেশতলার বাতাসে। আর তাই সবমিলিয়ে কালকের নির্বাচনে কোথাও না থেকেও ‘মেন ফ্যাক্টর’ হতে চলেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ই বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!