এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আজ রাতেই কি ‘জনরোষ’ আছড়ে পড়বে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের উপর? সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তীব্র জল্পনা!

আজ রাতেই কি ‘জনরোষ’ আছড়ে পড়বে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের উপর? সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তীব্র জল্পনা!

গোটা রাজ্যজুড়ে বর্তমানে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত – জরুরি পরিষেবা ছাড়া, আর কোনও পরিষেবা দিতে রাজি নন রাজ্যের সরকারি চিকিৎসকরা। তাঁদের দাবি খুব সামান্যই – চিকিৎসা ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলিতে, যেখানে প্রয়োজনীয় ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ ছাড়াই, প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল স্টাফ নিয়েও, টানা ২৪ ঘণ্টা বা ৪৮ ঘন্টা টানা ডিউটি করা ডক্তাররা নিজেদের জন্য একটু নিরাপত্তা চান। অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমে, যেন তাঁদের ‘মিথ্যা গুজবে জনরোষের’ শিকার হয়ে নিজেদের ‘প্রাণ বাঁচানোর’ লড়াই করতে না হয়!

এক ৮৫ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে, তাঁর নাতির করা ফেসবুক পোস্টের দৌলতে আজ এনআরএস হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়কে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হচ্ছে। কিন্তু এই ঘটনা শুধুমাত্র হিমশৈলের চূড়া মাত্র বলে দাবি রাজ্যের সরকারি চিকিৎসার হাল ধরে রাখা চিকিৎসকদের। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ঘটনা অত্যন্ত ‘স্বাভাবিক’ হয়ে গিয়েছিল যেন! রাজনৈতিক নেতাদের ধমক-চমক থেকে শুরু করে, হাসপাতালের পরিকাঠামো না থাকার ফলে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে সেখানেও চিকিৎসকদের দায়ী করে তাঁদের হেনস্থা করাটাই যেন ‘ট্রেন্ড’ হয়ে গিয়েছিল।

চিকিৎসক হলেও তাঁরা আগে তো মানুষ! মানুষের প্রাণ বাঁচানোর কাজে যাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের নিজেদের প্রাণের ভয়ে থাকতে হচ্ছে – এ লজ্জা তাঁরা কিছুতেই যেন মেনে নিতে পারছেন না! আর তাই, মরিয়া হয়ে নিজেদের সুরক্ষার দাবিতে রাজ্যজুড়ে ডাক্তাররা আন্দোলনে নেমেছেন। আর সেই সুরক্ষা যিনি নিশ্চিত করতে পারতেন, রাজ্যের সেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চিকিৎসকদের এই মানবিক দাবি না মেনে রীতিমত ‘হুঁশিয়ারি’ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে! ফলে, আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়েছে, আরও একজোট হয়েছেন রাজ্যের চিকৎসকমহল।

এই পরিস্থিতিতে, আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে ৪ জনকে আজ নবান্নে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী গত কয়েকদিনে ‘যে ভাষায় কথা বলেছেন’ তাতে নবান্নের সেই বৈঠক কতটা নিরপেক্ষ ও সুরক্ষিত হবে তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে, সেই বৈঠকে উপস্থিত হতে অস্বীকার করেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। কেননা, তাঁদের মতে এই আন্দোলনটা চলছে সবার জন্য, সেক্ষত্রে ৪ জনকে নবান্নে ডেকে নিয়ে গিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক কি করে নিরপেক্ষ হবে? গোটা রাজ্যের ডাক্তারদের সুরক্ষা নিয়ে যে আন্দোলন সেখানে ৪ জনের সঙ্গে আলোচনা করে কি করে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়?

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এছাড়াও, আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট আশঙ্কা, যে ৪ জন ওই বৈঠকে যাবেন, তাঁরা তো সারাজীবনের জন্য চিহ্নিত হয়ে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথা যদি তাঁরা না মানেন, তাহলে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক বড় আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। যেখানে ইতিমধ্যেই শাসকদলের তরফ থেকে পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে বিবৃতি দিতে। কিন্তু, তাঁরা তা অস্বীকার করেছেন ও আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ফলে, আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের স্পষ্ট আশঙ্কা, যে ৪ জনকে আলোচনার নামে নবান্নে ডেকে নিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে!

এছাড়াও আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের স্পষ্ট দাবি, আন্দোলন চললেও, আমরা জরুরি পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছি, এমনকি আন্দোলন থেকে উঠে গিয়ে নিজে রক্ত দিয়ে রুগীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন এক ডাক্তার এমন নজিরও আছে। অ্যাক্সিডেন্ট থেকে শুরু করে প্রসূতি বিভাগ – কোনো জরুরি পরিষেবাই কিন্তু বন্ধ নেই। আর তাই, সাধারণ মানুষ থেকে রুগীর পরিবার সকলেই কিন্তু ডাক্তারদের পাশেই আছেন – এমন বহু ভিডিও কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। সুতরাং, এই পরিস্থিতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সমাধান চাইলে, মুখ্যমন্ত্রী আসুন আন্দোলনকারীদের কাছে, আন্দোলনকারীরা নবান্নে যাওয়ার মত জায়গায় নেই!

সবমিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে ক্রমশ। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে – একটি হোয়াটস্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট। সেখানে আলোচনাকারীদের নাম কালো কালী দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে, ফলে কাদের মধ্যে এই আলোচনা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু সেই চ্যাট জুড়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, চিকিৎসকদের এই আন্দোলন ভাঙতে – আজ রাতেই বিভিন্ন হাসপাতালে ‘জনরোষ’ আছড়ে পড়বে। সেই ‘জনরোষ’ প্রাণঘাতীও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি রাখতে ও সেই ‘জনরোষ’ থেকে নিজেদের সাবধানে রাখতেও বলা হয়েছে।

আর এই হোয়াটস্যাপ চ্যাট ভাইরাল হতেই আশঙ্কার চোরা স্রোত রাজ্যজুড়ে। প্রশ্ন উঠছে – ‘জনরোষের’ নামে কি এর পিছনে ‘অন্য পরিকল্পনা’ আছে? যদি এই আশঙ্কা বিন্দুমাত্রও সত্যি হয়, তাহলে পুলিশ ও প্রশাসন তার জন্য কতটা তৈরী? বিশেষ করে যেখানে চিকিৎসকদের এই আন্দোলন কিন্তু রাজ্যের প্রশাসন ও সুরক্ষার উপর অনাস্থা তুলেই হচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি রীতিমত ঘোরালো – এমনকি এই আশঙ্কা করছেন স্বয়ং আন্দোলনকারীরাও বলে সূত্রের খবর। যদিও, এই নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না কেউই, কেননা তাহলেই হয়ত এই ‘মানবিক আন্দোলনের’ গায়ে রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে দেওয়া হবে! তবে আজকের রাত নিয়ে আশঙ্কিত সকলেই!

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!