এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > প্রিয় বন্ধু বাংলার খবরের জের – এক সুতোয় গাঁথতে চলেছে সরকারি কর্মী ও শিক্ষক ঐক্য আন্দোলন?

প্রিয় বন্ধু বাংলার খবরের জের – এক সুতোয় গাঁথতে চলেছে সরকারি কর্মী ও শিক্ষক ঐক্য আন্দোলন?

কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা না হয়েও তাঁরা দুজন এই মুহূর্তে রাজ্য-রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা, জনভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতায় কোন অংশে কোন রাজনৈতিক জননেতার থেকে কম নন। একজন – দেবাশিস শীল, সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক। যিনি, রাস্তায় নেমে ঘেউ ঘেউ আন্দোলন থেকে শুরু করে পঞ্চায়েতে সরকারি কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতে মামলা করে বা ডিএ নিয়ে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যালে মামলা করে রাজ্য সরকারের ঘুম উড়িয়ে দিচ্ছেন। অন্যজন – মইদুল ইসলাম, শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের প্রধান সেনাপতি। যিনি, রাজ্যের যে কোন প্রান্তে শিক্ষক, শিক্ষাঙ্গন বা শিক্ষা ব্যবস্থা আক্রান্ত হলেই সেখানে ছুটে গিয়ে এবং আইনের দ্বারস্থ হয়ে রাজ্য সরকারের কালঘাম ছোটাচ্ছেন। আর প্রিয় বন্ধু বাংলার খবরের জেরে এবার কি – এই দুই ‘অরাজনৈতিক মহীরুহ’ আরো কাছাকাছি আসতে চলেছেন? অন্তত, আজকের পর জল্পনা সেরকমই।

ইসলামপুরের ছাত্রমৃত্যুর প্রতিবাদে আজ বিজেপির ডাকা বনধ ব্যর্থ করতে রাজ্য সরকার নজিরবিহীনভাবে বনধের আগের ও পরের দিন সহ যে তিনদিনের ছুটি বাতিলের নির্দেশিকা জারি করেছিল, সেই খবর আমরাই গত পরশু প্রথম প্রকাশ করি। সেই খবরেই আমরা জানাই, এই নির্দেশিকা ঘিরে দেবাশিসবাবুর বক্তব্য। দেবাশিসবাবু সেদিন জানান, আসলে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত – উনি দুদিক থেকে ভয় পাচ্ছেন। প্রথমত, যে ইস্যুতে বনধ ডাকা হয়েছে তা অত্যন্ত মানবিক – তাই সাধারণ মানুষ সেদিন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই বনধে শামিল হবেন। যেভাবে নিরীহ ছাত্রের উপর গুলি করে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের পরিমান আকাশ ছুঁয়েছে। দ্বিতীয়ত, উনি খেলা-মেলা-উৎসব-পুরস্কার করে কোটি কোটি টাকা বিলিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের হকের টাকা দিতে ওনার যত কষ্ট। কিন্তু, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে উনি যে অমানবিক কাজ করছেন তা কলকাতা হাইকোর্টের রায়েই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

দেবাশিসবাবু আরো বলেন, ফলে সরকারি কর্মচারীরা আর যে ওনার এই বঞ্চনা মেনে নেবে না তা ওনার কাছেও জলের মত পরিষ্কার। আর তাই, তিনি দমন-পীড়নের চূড়ান্ত নমুনা রাখছেন! এর আগে, উনি যত বনধের বিরোধিতা করেছেন – সেখানে শুধুমাত্র বনধের দিন সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করেছিলেন। কিন্তু এবারে একেবারে তিনদিনের বেতন কেটে নেওয়ার এই নির্দেশিকা – কিছুতেই এই গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না। আসলে উনি বুঝে গেছেন, রাজ্যজুড়ে যা চলছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই বনধ সফল হবেই। আর তাই ভয় পেয়ে উনি সরকারি কর্মচারীদের উপর ‘স্টিম রোলার’ চালানোর ব্যবস্থা করছেন। সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ এইভাবে কিছুতেই আমরা ক্ষুণ্ন হতে দিতে পারি না – আমি এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের থেকে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ নিচ্ছি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

অন্যদিকে, এই নির্দেশিকা ঘিরে মইদুলবাবুও তাঁর তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। গতকাল তিনি প্রিয় বন্ধু বাংলাকে এক্সক্লুসিভলি জানান, কোনো সরকারি কর্মচারীর বা স্কুল শিক্ষকের ছুটি নেওয়া সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার। রাজ্য সরকার কিভাবে এই ধরণের আপৎকালীন নির্দেশে ৩ দিনের জন্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া ছুটি বাতিল করতে পারে? কারোর কোনো ব্যক্তিগত কারণে ছুটির প্রয়োজন হতেই পারে – সেক্ষেত্রে ৩ দিনের জন্য বেতন কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চরম অগণতান্ত্রিক ও সরকারি কর্মচারী এবং স্কুল শিক্ষকদের অধিকারে হস্তক্ষেপ।

মইদুলবাবু আরও জানান, যেহেতু রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা কাল জারি হয়েছে এবং আজ থেকেই তা বলবৎ, তাই এই মুহূর্তে আমরা এর বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছি না। কিন্তু, আমরা বাংলার সমস্ত শিক্ষককে জানাচ্ছি, আমরা ইতিমধ্যেই এই নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ সেড়ে নিয়েছি। এই তিনদিনের জন্য যদি রাজ্যের কোন একজন শিক্ষকেরও বেতন কাটা যায় বা তাঁরা অন্য কোনরকম শাস্তির সম্মুখীন হন – তাঁর জন্য আমরা আদালতে যাব এবং তাঁর সমস্ত আইনি লড়াই আমরা করব সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। রাজ্য সরকার যে অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার খেসারত রাজ্যের একজন স্কুল শিক্ষককেও আমরা দিতে দেব না। রাজ্য সরকার এইভাবে গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে ধরতে পারে না, আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ রাজ্যের শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় আইনি লড়াইয়ে যতদূর যেতে হয় যাবে, কিন্তু কিছুতেই রাজ্য সরকারের এই খামখেয়ালি নির্দেশের বলি রাজ্যের কোন শিক্ষক হতে দেবে না।

আর মইদুলবাবুর এই খবর গতকাল প্রিয় বন্ধু বাংলাতে এক্সক্লুসিভলি প্রকাশিত হতেই সেই খবর নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেন দেবাশিসবাবু। আর তার সাথেই তিনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মিলিত লক্ষ্যে সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের আন্দোলনকে একত্রে আরো জোরদার করার জন্য মইদুলবাবুকে খোলা আহ্বান জানান। নিজের পোস্টে দেবাশিসবাবু জানান, যদি কোন ভাবনায় নৈতিকতা ও প্রতিবাদী প্রয়াস থাকে – তাহলে তার প্রসার ঘটতে বাধ্য। এবারের বনধ নিয়ে দানবিক নির্দেশিকা রাজ্য সরকার বের করেছেন, বনধের দিন ও তার আগের ও পরের দিন আসতে না পারলে ৩ দিনের বেতন ও চাকরি জীবনে ৩ দিন বাদ যাবে। এই কর্মচারী সর্বনাশা কালা ফরমানের বিরুদ্ধে আমাদের সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া কালকেই জানিয়েছিল – আজ শিক্ষক সমাজও এগিয়ে এলেন। আমরা তাঁদের স্বাগত জানাচ্ছি – আমরা আহ্বান জানাচ্ছি যে, আসুন একসাথে লড়াই ও আইনের ময়দানে নেমে পড়ি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!