এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > বাঁকুড়ার রুক্ষ জমিতে গেরুয়া উত্থান রামনবমীর মিছিলেই প্রমাণ করে দিতে চায় বিজেপি

বাঁকুড়ার রুক্ষ জমিতে গেরুয়া উত্থান রামনবমীর মিছিলেই প্রমাণ করে দিতে চায় বিজেপি

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই এই রাজ্যে রামনবমীতে মিছিলের পালা শুরু হয়েছে। মূলত বিজেপির পক্ষ থেকে গত বছর এই মিছিল করা হলে এবং তা চরম সফলতা লাভ করলে টেক্কা দিতে পাল্টা তৃণমূলের তরফেও গত বছর থেকে সেই রামনামের মালা জপ করা শুরু হয়। আর এবার লোকসভা ভোটের মধ্যে সেই রামনবমী পড়ায় প্রচারে ঝড় তুলতে রামনবমীকে ইস্যু করে শোভাযাত্রা বের করতে উদ্যোগী শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী দল বিজেপি। সূত্রের খবর, রবিবার বাঁকুড়ায় বজরং দলের পক্ষ থেকে বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হবে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, দুপুর দুটো নাগাদ বাঁকুড়া মোড় থেকে বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং হিন্দু পরিষদের ওই যৌথ শোভাযাত্রায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহিলা সংগঠন ও দুর্গা বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যাবে। মূলত লালমাটির জেলা বাঁকুড়ায় বরাবরই হিন্দু মহাসভা এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মত সংগঠনগুলোর দাপট রয়েছে। তৃণমূলের আমলেও গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই সংগঠনগুলি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই সংগঠনগুলি ফের পৃথক ভাবে রামনবমী উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করায় আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে যে তার অনেকটাই প্রভাব পড়বে তা আঁচ করতে পেরেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

আর তাইতো এবার বাঁকুড়া দখলে রাখতে রামনবমী উপলক্ষে বিকেল চারটা থেকে চাঁদমারিডাঙা থেকে পৃথক শোভাযাত্রা বের করার পরিকল্পনা রয়েছে তৃণমূলেরও। এদিন এই প্রসঙ্গে শ্রী শ্রী রাম নবমী উদযাপন কমিটির সম্পাদক তথা ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা চক্রবর্তীর স্বামী সুদীপ চক্রবর্তী এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা চাঁদমারি ডাঙ্গা থেকে ২০১২ সালে প্রথম শোভাযাত্রা বের করি। পরবর্তীকালে কিছু যুবক পৃথকভাবে শোভাযাত্রা বের করেন। আমরা তৃনমূল করি। তবে আমাদের শোভাযাত্রার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই।”

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বিজেপি একক ভাবে রামনবমীর ফায়দা লুটতে পারে এটা আমরা মানতে পারব না।” অন্যদিকে দলমত নির্বিশেষে সম্পূর্ণ ধর্মীয় প্রেক্ষাপটেই তারা রামনবমীর শোভাযাত্রার আয়োজন করেছেন বলে জানান রামনবমী মহোৎসব সমিতির সভাপতি রমেশ মুরারকা। আর এইসব দেখে আপাতত মুচকি হাসছেন বাঁকুড়াবাসী। রাজনৈতিক বিতর্কে যেতে চান না বলে প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলছেন না – তবে, আড়ালে সকলেরই প্রায় বক্তব্য, মুখে ‘ধর্মনিরেপেক্ষতার’ কথা বললেও ভোটের রাজনীতিতে রামকে অস্বীকার করতে পারছে না কোনো দলই। আর তাই, রামনবমীর এই মিছিলের পেছনে রাজ্যের শাসক এবং বিরোধী দলের হাত থাকলেও এবং তা প্রকাশ্যে কেউ স্বীকার না করলেও – লাল মাটির জেলা বাঁকুড়ায় কার মিছিল সফলতা লাভ করে এখন তার দিকেই নজর গোটা রাজনৈতিক মহলের।

Top
error: Content is protected !!