এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > তবে কি বিজেপিতে যাচ্ছেন অধীর-শুভেন্দু, রাহুলের মন্তব্যে জোর জল্পনা

তবে কি বিজেপিতে যাচ্ছেন অধীর-শুভেন্দু, রাহুলের মন্তব্যে জোর জল্পনা

তবে কি বিজেপিতে যাচ্ছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী ও তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী? প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার এক মন্তব্যে সেই জল্পনায় তীব্র হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। জল্পনার সূত্রপাত বেলডাঙার ভাবতায় তৃণমূলের একটি সভা থেকে। এদিন মুর্শিদাবাদ জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী এলাকার সমস্ত প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করেন এবং সেই সভা থেকেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী-কে কটাক্ষ করে বলেন যে, “অধীরের শেষ আশ্রয় বিজেপি।” পাল্টা দিতে ছাড়েননি অধীরবাবুও। তিনি বলেন, “সর্বক্ষণ অমিত শাহের সঙ্গে তলায় তলায় যোগাযোগ রেখে চলেন শুভেন্দু।” একে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ বলে ওয়াকিবমহল মেনে নিলেও পরে দুতরফের যুক্তির দিকে তাকিয়ে তাঁরাও ধন্দে। কেননা শুভেন্দুবাবু দাবি করেছেন যে এবার মুর্শিদাবাদে ১০০ শতাংশ আসন পাবে তৃণমূল। আর তারপরেই জানিয়েছেন যে, “নকশাল, মার্কসবাদী ফরওয়ার্ডব্লক, আরএসপি হয়ে এখন কংগ্রেসে রয়েছেন অধীর। তবে অধীরের শেষ আশ্রয় বিজেপি।” প্রসঙ্গত অধীর-গড় হিসাবে খ্যাত মুর্শিদাবাদ থেকে একের পর এক কংগ্রেস বিধায়ককে তৃণমূলে যোগদান করিয়ে কংগ্রেসকে নিশ্চিহ্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন শুভেন্দুবাবু।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

অন্যদিকে দিল্লিতে হাইকম্যান্ডের কাছে এই নিয়ে অধীরবাবু বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেও কোনো সুরাহা পাননি। কেননা ২০১৯ এ বিজেপি সরকারকে কেন্দ্র থেকে হটাতে তৃণমূলের সাথে জোট পক্রিয়া সফল করতে উদ্যোগী কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। ফলে কোনো ভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চটাতে রাজি নন তাঁরা। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে কংগ্রেসের অন্দরে। এদিকে আবার আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে কংগ্রেসের উপর সন্ত্রাস করছে শাসকদল এমনটাই দাবি অধীরবাবুর, কিন্তু সেকথা রাহুল গান্ধীকে বলেও কোনো লাভ হয়নি। তাই সবমিলিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে প্রদেশ কংগ্রেসে, তৃণমূলের সঙ্গে জোট মেনে নিতেও রাজি নয় অধিকাংশ নেতাই। আর তাই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, অধীর চৌধুরী যদি দল ছাড়েন তাহলে বিজেপিই হবে উৎকৃষ্ট জায়গা, কেননা তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘোষিত বিরোধী’।

অন্যদিকে, অধীর চৌধুরী যখন প্রকাশ্যে দাবি করছেন যে শুভেন্দু অধিকারী তলায় তলায় বিজেপি সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তখন তা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা ছড়াতে বাধ্য। প্রসঙ্গত, এর আগেও বহুবার এই নিয়ে জল্পনা ছড়ায়, এমনও শোনা যায় বিজেপি নাকি শুভেন্দুবাবুকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু, রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী বারেবারেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত সৈনিক, দল ছাড়ছেন না। এমনকি তৃণমূল নেত্রী স্বয়ং ঘোষণা করেছেন যে তৃণমূলের উত্তরসূরি হলেন তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী।

কিন্তু, জল্পনা উস্কে দিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেছেন, কংগ্রেস মুছে গিয়েছে। অধীরকে শেষ পর্যন্ত বিজেপির কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। আর শুভেন্দুর গোটা পরিবারকেই তো সম্মান দেয় না তৃণমূল। শুভেন্দুকেও শেষ পর্যন্ত বিজেপির কাছেই যেতে হবে। আর স্বাভাবিকভাবেই রাহুল সিনহার এই কথার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তীব্র, সত্যিই কি রাজ্যের দুই দাপুটে নেতা বিজেপির পথে? নাকি রাজনৈতিক পারদ চড়াতেই এমন মন্তব্য বিজেপি নেতার? উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত রাজনৈতিক মহল, কিন্তু একে অপরকে বিজেপিকে জড়িয়ে অধীর চৌধুরী বা শুভেন্দু অধিকারী আক্রমন করলেও, নিজেরা কিন্তু বলেছেন বিজেপিতে যাচ্ছেন না। সবমিলিয়ে জল্পনা তীব্র হচ্ছেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!