এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ত্রিপুরার প্রচারে ‘ব্রাত্য’ মুকুল রায়, পিছনের আসল ‘সত্যিটা’ কি?

ত্রিপুরার প্রচারে ‘ব্রাত্য’ মুকুল রায়, পিছনের আসল ‘সত্যিটা’ কি?

ত্রিপুরায় নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে পুরোদমে। আর সেখানে এবার অষ্টম বামফ্রন্ট সরকারের ‘প্রত্যাবর্তন’ আটকে ‘পরিবর্তন’ প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি। প্রার্থী নির্বাচন, জোটগঠন, মনোনয়নপত্র দাখিল বা জমিয়ে প্রচার প্রতিটা বিষয়েই রাজ্যের শাসকদল বামফ্রন্টকে রীতিমত বেগ দিতে শুরু করেছে তারা। ‘চলো পাল্টাই’ স্লোগান তুলে ত্রিপুরাতে পদ্মফুল ফোটাতে মরিয়া বিজেপি শিবির। আর তাই ত্রিপুরায় প্রচারে ঝড় তুলতে ৪০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে বিজেপি। সেই তালিকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, নীতীন গড়করি, স্মৃতি ইরানি, যোগী আদিত্যনাথ, সর্বানন্দ সোনোয়াল, বসুন্ধরা রাজে, শাহনওয়াজ হোসেন প্রমুখ। আর যেহেতু ত্রিপুরা মূলত বাংলাভাষী, তাই বাংলা থেকেও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গঙ্গাপাধ্যায় সহ অনেক শীর্ষনেতা সেই তালিকায় জ্বলজ্বল করছেন। কিন্তু সেই তালিকায় উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা মুকুল রায়ের।

আর এই খবর সামনে আসার পরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তথা বিভিন্ন মহলে রটতে থাকে মুকুল রায় দলে যোগ দেওয়ার পরে একের পর এক নির্বাচনে বিজেপির ‘মুখ পুড়েছে’, আর তাই নাকি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্ব প্রচণ্ড ‘অখুশি’ মুকুল রায়ের উপরে। আর সেই কারণেই তাঁকে ত্রিপুরা নির্বাচনে ‘ব্রাত্য’ রাখা হয়েছে। কিন্তু এই খবর সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। বিজেপির অন্দরমহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ‘অখুশির’ তো প্রশ্নই নেই, উপরন্তু মুকুল রায়ের ‘পারফরম্যান্সে’ যারপরনাই খুশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্ব। বিজেপির অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে, মুকুল রায় দলে যোগ দেওয়ার পর দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মনোবল নাকি অনেক বেড়েছে। বাংলা জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে, অন্যদল থেকে বিজেপিতে যোগদানের প্রবণতাও বেড়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার ‘অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও’ মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদানের পরে হওয়া তিনটি নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট আগের যেকোনো নির্বাচনের থেকে ভালো। ফলে, রাজ্যে বিরোধী আসনে আসা বা শাসকদলের জায়গা নেওয়াটা আর ‘অবাস্তব’ মনে হচ্ছে না।

কিন্তু তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এতই যদি ভালো ‘পারফরম্যান্স’, তাহলে ত্রিপুরাতে তিনি ব্রাত্য কেন? বিজেপির অন্দরমহল বলছে, ব্রাত্য নন বরং বৃহত্তর দায়িত্ত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। ২০১৯ এ অমিত শাহের লক্ষ্য নাকি বাংলা থেকে ২০-২২ টি আসন, আর তা করতে গেলে আসন্ন পঞ্চায়েত কার্যত বিজেপির কাছে সেমি-ফাইনাল। আর তাই সেখানে ভালো ফল করতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিকল্পনা দরকার, যার ফলে শাসকদলকে একটা ‘ধাক্কা’ দেওয়া যায়। আর এই কাজটা এই মুহূর্তে মুকুল রায়ের থেকে ভালো বাংলায় আর কেউ নাকি করতে পারবেন না। সুতরাং বাংলার বাইরে ব্যবহার না করে বাংলার মাটি কামড়ে পরে থেকে মুকুল রায়কে দায়িত্ত্ব দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েতে ‘মিরাকল’ ঘটানোর, যার সুদূরপ্রসারী ফল বিজেপি ঘরে তুলতে পারে বিজেপি। সেটা ২০১৯ ই হোক বা ২০২১, আর তাই সবমিলিয়ে মুকুল রায়েই আস্থা বিজেপির।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!