এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > চূড়ান্ত পর্যায়ে অর্জুন সিং-জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ‘যুদ্ধ’! শেষ হাসি হাসবেন কে?

চূড়ান্ত পর্যায়ে অর্জুন সিং-জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ‘যুদ্ধ’! শেষ হাসি হাসবেন কে?

2019 এর লোকসভা ভোটের পর থেকেই দলবদলের প্রবণতা অনেক বেশি করে লক্ষ্য করা গেছে। দলবদলের হাওয়ায় বিজেপির দিকে ঝোঁক বাড়ে সবার, বিশেষ করে বাংলার শাসক শিবিরের। লোকসভা ভোটে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কোনরকমে নিজেদের গড় বাঁচিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের 42 টি আসনের মধ্যে মোটে 22টি আসন তাঁরা অধিকার করেছিলেন। অন্যদিকে বিজেপি 2014 থেকে 2019 এর মধ্যে সাংগঠনিক জোরের ওপর ভর করে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছেন দুই থেকে 18 তে।

লোকসভা ভোটের পর থেকে বিভিন্ন দল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতার ফলে বিশেষ করে শাসক শিবির থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার যে ঝোঁক ছিল, তার ফলে বহু পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে যেতে শুরু করেছিল। তবে বর্তমানে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার যে প্রবণতা ছিল তাতে বেশ ভাটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শাসক দল থেকে বিজেপিতে যোগদান পর্ব মিটতেই পরবর্তী কিছুদিনের মধ্যে আবার বিজেপি থেকে ঘর ওয়াপসি শুরু হয় তৃণমূলে।

আর বিজেপি অধিকৃত পুরসভা পঞ্চায়েতগুলি আবার তৃণমূল হস্তগত করতে শুরু করে। এই নিয়েই সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, অর্জুন সিং এর গড় ভাটপাড়ায় দাঁড়িয়ে ভাটপাড়া পুরসভা পুনর্দখল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে তাঁর হুঁশিয়ারির বদলে এবার বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং তাঁকে কটাক্ষ ফিরিয়ে দিলেন। সম্প্রতি উত্তর 24 পরগনা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দাবি করেছিলেন কিছুদিনের মধ্যেই ভাটপাড়া পুরসভা আবার তৃণমূল কংগ্রেসের হস্তগত হবে এবং এটা হতে শুধু সময়ের অপেক্ষা।

সেই মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। এদিন জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের তীব্র সমালোচনা করে অর্জুন সিং বললেন, ‘ভাটপাড়ায় এসে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বড় বড় কথা বলেছেন। উনি নিজের কেন্দ্রে 27 হাজার ভোটে হেরে গেছেন, আমার ভাটপাড়া পুরবোর্ড বিজেপির হাতছাড়া হবে না। যারা তৃণমূলে গিয়েছিল, সবাই স্বেচ্ছায় ফিরে এসেছে, এবার যদি কেউ যায় সে নিজেরটা বুঝেই যাবে। যে যাবে সে আর ভোটে জিতবে না।’

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অর্জুন সিং আরও বলেন, ‘মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে নেই। নৈহাটি, হালিশহর, কাঁচরাপাড়া পুরসভার যে কাউন্সিলররা বিজেপিতে এসে, ফের তৃণমূলে ফিরে গিয়েছে তারা পচে গেছে। ওরা দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছে। লোকসভা ভোটে ওদের বিরুদ্ধেই মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছিল। আমি আগেই মুকুলদাকে বলেছিলাম এইসব পচা লোকজনকে দলে নেবেন না।’ এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘ওরা যেখানে ইচ্ছা থাকুক, আর চার মাস পর রাজ্যে পুরসভা ভোট, আমাদের লক্ষ্য ভারতীয় জনতা পার্টির কাউন্সিলরদের জিতিয়ে নিয়ে আসা। এইসব পচা লোকদের নিয়ে আমি কি করব এখন, যেখানে ভোট হতে মাত্র কয়েক মাস বাকি।’

প্রসঙ্গত, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী বুধবার ভাটপাড়া এসে আর্থিক তছরূপের অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ভাটপাড়া পুরসভার উন্নয়নের 600 কোটি টাকার কোন হদিস নেই। এই টাকার হিসেব অর্জুন সিংকে দিতে হবে, অডিট করাতে হবে। পুরসভার এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নামও উল্লেখ করেন। সে প্রসঙ্গেই এবার, খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে হুঁশিয়ারি দিয়ে এদিন অর্জুন সিং বললেন, ওর বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় জমেছে। ফাইল রেডি আছে। ভাটপাড়ায় কোনো দুর্নীতি হয়নি। 2015 থেকে 18 পর্যন্ত অডিট রিপোর্ট আছে এই পুরসভার। ওনার তো দুর্নীতিতে মাথা ডুবে গেছে – সব বেরোবে।

গত বুধবার ভাটপাড়া পৌরসভা সংলগ্ন প্রেমচাঁদ শতবার্ষিকী হলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনী হয়। এই সভা থেকেই খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বিজেপিকে হুঁশিয়ার করেন। উল্লেখ্য, তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীর দিন শতবার্ষিকী হলে শতাধিক বিজেপি কর্মী নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন মনোজ গুপ্তা। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মন্ত্রী তাপস রায় ও নির্মল ঘোষ এর উপস্থিতিতে মনোজ গুপ্তা তৃণমূলে যোগদান করেন। ভাটপাড়ায় তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে ভাটপাড়া এলাকার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ও শতাধিক তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে দলীয় সূত্রের খবর, একের পর এক পুরসভা বেদখল হয়ে যাওয়াতে এমনিতেই বিজেপি শিবির যথেষ্ট চিন্তিত। ইতিমধ্যে এই নিয়ে দলীয় নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে। লোকসভা ভোটের পর যে পরিমাণ সদস্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাতে একের পর এক পুরসভা, পঞ্চায়েত বিজেপির অধীনে এসে যায়। কিন্তু বর্তমানে একের পর এক বিজেপি সদস‍্য সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আর তাই খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের এই বিবৃতির লড়াইয়ে – শেষ হাসি হাসেন কে? সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!