এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > মুর্শিদাবাদের ৩ লোকসভা আসনে তৃণমূলের টিকিট প্রার্থী ৬ হেভিওয়েট – তুমুল জল্পনা শাসকদলের অন্দরেই

মুর্শিদাবাদের ৩ লোকসভা আসনে তৃণমূলের টিকিট প্রার্থী ৬ হেভিওয়েট – তুমুল জল্পনা শাসকদলের অন্দরেই

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার ৩ লোকসভা আসনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট পেতে আগ্রহী ছয়-ছয়জন হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা বলে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে শাসকদলের অন্দরেই। একদা, কংগ্রেসের গড় বলে পরিচিত ছিল এই মুর্শিদাবাদ জেলা – ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যে প্রবল ঘাসফুল ঝড় চললেও, এই জেলার তিনটির মধ্যে দুটি আসনেই তৃতীয় হতে হয়েছিল দলকে।

শুধুমাত্র বহরমপুর আসনে বামফ্রন্টের থেকে ০.১১% ভোট বেশি পেয়ে জুটেছিল দ্বিতীয়ের তকমা! কিন্তু ওই আসনে প্রথম কংগ্রেসের সঙ্গে পার্থক্য ছিল প্রায় ৩১%-এর! কিন্তু, এই জেলার দায়িত্ত্ব শুভেন্দু অধিকারী নেওয়ার পর ধীরে ধীরে বদলে গেছে চিত্রটা। প্রথমে ধীরে ধীরে দখলে এসেছে সবকটা পুরসভা। আর তারপরে পঞ্চায়েত নির্বাচনে – প্রায় গোটা জেলাটাই দখল করে নেওয়া। যদিও, বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন সন্ত্রাস করে নাকি ভোটেই দাঁড়াতে দেওয়া হয় নি।

কিন্তু, ঘটনা যাই হোক – পুরসভা-পঞ্চায়েতের পর এবার শুভেন্দু অধিকারীর নজর পড়েছে বিরোধী বিধায়কদের দিকে। তাঁর হাত ধরে ‘উন্নয়নের স্বার্থে’ ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন একের পর এক হেভিওয়েট কংগ্রেস ও বাম বিধায়ক। আর তাই, সবমিলিয়ে – ৫ বছর আগে যে জেলায় দ্বিতীয় হওয়াটাও অলীক স্বপ্ন ছিল, সেই জেলাতেই এবার তিনটি আসনই দখলের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ঘাসফুল শিবির। আর তাই – এখন থেকেই টিকিট নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র হাহাকার।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

জেলার রাজনীতিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে ৬ জন হেভিওয়েট ‘অধুনা’ তৃণমূল নেতা টিকিট প্রত্যাশী। এঁরা হলেন –
১. অপূর্ব সরকার – কংগ্রেস বিধায়ক, এখন তৃণমূলে
২. আবু তাহের খান – কংগ্রেস বিধায়ক, এখন তৃণমূলে
৩. আখরুজ্জামান – কংগ্রেস বিধায়ক, এখন তৃণমূলে
৪. মইনুল হাসান – প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ, এখন তৃণমূলে
৫. মহম্মদ সোহরাব – প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক, এখন তৃণমূলে
৬. নীলরতন আঢ্য – কংগ্রেসের টিকিটে জিতে পরে তৃণমূলে যোগ দিয়ে বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান

যদিও, লোকসভা নির্বাচনে লড়ার বা টিকিট পাওয়ার কথা এখনও সরকারিভাবে কেউ জানান নি। কিন্তু, জেলায় শাসকদলের অন্দরমহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে – দলের প্রতি একনিষ্ঠতা এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, দুটিই এই ছয় নেতার যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে – তাতে এঁদের বাইরে অন্য কাউকে টিকিট দেওয়া মহা আশ্চর্যের হবে! যদিও, লোকসভা ভোটের তৃণমূলের টিকিট প্রার্থীদের নাম ঠিক করবেন খোদ তৃণমূল সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাই দলনেত্রীর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যন্ত এই নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ সকলেই। কিন্তু, আরেকটি ফিসফিসানি চলছে – এবারের নির্বাচনে নাকি এই ব্যাপারে দলনেত্রীকে সাহায্য করবেন মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যে যে জেলার দায়িত্ত্বে আছেন, সেই সেই জেলায় শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, এই দুই নেতার সঙ্গেও নাম ভেসে ওঠা ৬ নেতার সম্পর্ক অত্যন্ত গাঢ় – আর তাই, এনাদের বাইরে এবার কেউ মুর্শিদাবাদে টিকিট পেলে, তা রীতিমত বিস্ময়ের হবে বলেই মনে করছেন জেলার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

প্রসঙ্গত, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর শক্ত গড় হিসাবেই পরিচিতি বহরমপুর কেন্দ্র। বহরমপুর, নওদা, রেজিনগর, বেলডাঙা, কান্দি, ভরতপুর ও বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রগুলি এই কেন্দ্রের আওতাতেই পড়ে। এইসব কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে বিধায়ক অপূর্ব সরকারের সক্রিয়তা লক্ষ্য করার মতো। তিন বারের বিধায়ক এবং কান্দি পুরসভার চেয়ারম্যান অপূর্ববাবু একসময় অধীর-শিবিরের অন্যতম সেনাপতি ছিলেন। তাই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের ধারণা এবারের লোকসভা ভোটে তাঁকে বহরমপুরের টিকিট দিতে পারে দল।

এছাড়া লোকসভার প্রার্থী হিসেবে বহরমপুর পুরসভার সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান নীলরতন আঢ্যের নামও জল্পনায় উঠে এসেছে। যদিও এই ব্যাপারে নীলরতনবাবু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন – লোকসভা ভোটে প্রার্থী হওয়ার আদেশ উপরমহল থেকে এলে তিনি তা পালন অবশ্যই করবেন! অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে আগে বামেদের দাপট থাকলেও বর্তমানে সেখানে জোড়াফুল বেশ শক্তিশালী। সিপিএম ছেড়ে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া মইনুল হাসানও বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এই কেন্দ্রে।

পাশাপাশি সদ্য কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূলে শামিল হওয়া নওদার বিধায়ক আবু তাহের খানের নাম নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তাহের সাহেব দু’বার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং পাঁচ বারের বিধায়ক। জেলায় তৃণমূলের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয়তা নজর কেড়েছে সকলের। ফলে, বহরমপুরে যেমন অপূর্ববাবু আর নীলরতনবাবুর নাম নিয়ে জল্পনা – তেমনই, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে লড়াইটা মূলত মইনুল সাহেব ও তাহের সাহেবের বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

অন্যদিকে, জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক মহম্মদ সোহারাব ও রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানের নাম নিয়ে নিয়েও কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে। তবে এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলেই মন্তব্য করেছেন সকলেই। সকলেই নিজেকে দলের সেবক বলে বর্ননা করে মোটামুটি জানিয়েছেন – দল যা নির্দেশ দেবেন সে অনুযায়ীই কাজ করবেন তাঁরা। ফলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে এই তিন কেন্দ্রে কাদের নাম ঘোষিত হয়, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

Top
error: Content is protected !!