এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > রাজস্থান বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সরকার গড়ছে কংগ্রেস, লক্ষ টাকার প্রশ্ন – মুখ্যমন্ত্রী কে?

রাজস্থান বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সরকার গড়ছে কংগ্রেস, লক্ষ টাকার প্রশ্ন – মুখ্যমন্ত্রী কে?

৫ রাজ্যের নির্বাচনের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সাট্টার বাজারে যে প্রশ্নকে ঘিড়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বাজি ধরা হয়েছিল – তা হল রাজস্থানের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম কি? অশোক গেহলত নাকি সচিন পাইলট? এই রাজ্যে যে গেরুয়া শিবির ক্ষমতাচ্যুত হতে চলেছে – তা অতি বড় বিজেপি সমর্থকও মনে মনে মেনে নিয়েছিলেন।

প্রথমত, দক্ষিণ ভারতের কেরালার মত পশ্চিম ভারতের রাজস্থানেও প্রতি পাঁচ বছরে সরকার বদলে যায়। একবার বিজেপি আসে ক্ষমতায় তো পরের বার কংগ্রেস। ২০১৩ সালে নির্বাচনে হেরে গিয়ে তৎকালীন কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত তো মন্তব্য করেই ফেলেছিলেন, আবার যদি কোনোদিন ক্ষমতায় ফিরি, আর যাই করি উন্নয়ন করব না!

তাঁর ক্ষোভের যথেষ্ট কারণও ছিল – তাঁর আমলে রাজস্থানের যে উন্নয়ন হয়েছিল, তা অন্য কোন মুখ্যমন্ত্রীর আমলে হয়েছে কিনা সন্দেহ। তা সত্ত্বেও তাঁর দলকে পরাজিত হতে হয়েছিল – রাজস্থানের ‘ট্রেন্ডের’ কাছে। তাই এবারে যে সেখানে বিজেপি হারবে – তা এক কথায় নিশ্চিত ছিল। তা ছাড়াও, বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল।

অভিযোগ উঠেছিল – দলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কিছুই করেননি বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। একসময় তো এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছিল যে প্রায় সব সমীক্ষক দল দেখিয়েছিল, ২০০ আসন বিশিষ্ট রাজস্থানে এবার বিজেপি ৫০ আসনও পাবে কিনা সন্দেহ! কেননা, রাজস্থানে প্রায় ৯০% বিজেপির বিরুদ্ধে গিয়েছিল। সেই অবস্থায়, শেষবেলায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গিয়ে প্রচারের হাল ধরেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আর সেই প্রচারের ঝাঁঝে – বিজেপি রাজস্থানে বর্তমানে ৭০-৮০ টি আসন পেয়ে সম্মানজনক অবস্থায় শেষ করতে চলেছে। কিন্তু, বিজেপির হাত থেকে রাজস্থান ছিনিয়ে নেওয়ার পরেও – রাজস্থানের বাতাসে এখনো লাখ টাকার প্রশ্ন – কংগ্রেস কাকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসাবে? এই প্রশ্ন এখন আরও জোরদার হচ্ছে – কেননা, কোন কংগ্রেস নেতাই এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে মুখ খুলছেন না।

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা – এই রেসে সামান্য হলেও নবীন সচিন পাইলটের থেকে এগিয়ে আছেন প্রবীণ অশোক গেহলত। প্রথমত, তাঁর এর আগে মুখ্যমন্ত্রীত্ত্বের দায়িত্ত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে। কংগ্রেস রাজস্থানে জিতেছে – কিন্তু কোনোরকমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে। এটাই যদি কংগ্রেসের আসনসংখ্যা ১৩০-১৩৫ হত, তাহলে হয়তো সচিন পাইলটের মত নবীনের হাতে দায়িত্ত্ব দিয়ে ‘ঝুঁকিটা’ নিতে পারতেন রাহুল গান্ধী।

রাজস্থান হাতে এসেছে ঠিকই – কিন্তু কোনোরকমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে। তাই এই অবস্থায় – অশোক গেহলতের মত অভিজ্ঞ মানুষকেই দরকার সরকার সামলাতে। কেননা, আর ৬ মাসের মধ্যেই লোকসভা নির্বাচন – কোনোরকমে হাতে আসা রাজ্যে যদি ঠিকঠাক পদক্ষেপ নেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু সেখানে উল্টো ফল হতে পারে।

অন্যদিকে, আরেক দল বিশেষজ্ঞের মতে – এমনিতে সচিন পাইলট ও অশোক গেহলত, দুজনেই জয়ী হলেও – বাকি যে বিধায়করা জিতেছেন তাঁদের মধ্যে অশোক গেহলতের অনুগামীদের সংখ্যায় বেশি। এমনকি, অন্যান্য দলের ও নির্দল বিধায়কদের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক বেশ সুমধুর। আর তাই রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এইসবই ভাবাবে রাহুল গান্ধীকে – আর সব হিসেবে-নিকেশ করে শেষ পর্যন্ত তিনি কি সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই তাকিয়ে এখন রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!