এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে? শুরু নতুন জল্পনা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে? শুরু নতুন জল্পনা

2011 সালে বাম সরকারকে বিদায় জানিয়ে তৃণমূলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। ধীরে ধীরে রাজ্যে বিরোধী দলের জায়গা দখল করেছে বিজেপি। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি শাসকদল তৃণমূলকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাংলায় ভালো ফল করেছে। আর তারপরই তারা তাদের নেক্সট টার্গেট হিসেবে বাংলার আগামী 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনকে ধরে নিয়ে এগোতে শুরু করেছে।

স্বাভাবিকভাবেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও আগের মতোই তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঠিক করে এগোবে। ফলে আমজনতার মনে প্রশ্ন প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে হবেন? কেননা, ২০১১ থেকে বিরোধীরা চেষ্টা করেছে ঠিকই, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প তৈরি করতে তারা সক্ষম হননি। তাই আমজনতার মনে প্রশ্ন, বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্পে তাদের হয়ে কাকে মুখ হিসেবে ব্যবহার করবে? এখন থেকেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলায় ক্ষমতায় আসতে গেলে একজন মুখকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াতে হয়। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ হিসেবে বেছে নিলেও, বিরোধী দল বিজেপির প্রতি যখন রাজ্যে সমর্থন বাড়ছে, তখন সেই বিজেপি যদি তাদের কোনো মুখ হিসেবে কাউকে ব্যবহার করতে না পারে, তাহলে যে তাদের অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যেতে হবে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিশ্লেষকরা। প্রথমে তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করলে তাকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করবে গেরুয়া শিবির বলে মনে করা হয়েছিল।

কিন্তু, গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলের খবর তা সম্ভবত হচ্ছে না। মুকুলবাবু দক্ষ সংগঠন হওয়ায় তাঁকে সংগঠনের কাজেই ভালোভাবে লাগাতে চাইছে বিজেপি। ফলে সেদিক থেকে মুকুল রায়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ হয়ে ওঠার কোনো সুযোগ রইল না বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এমনকি মুকুলবাবুও প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া তাঁর ‘টার্গেট’ নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলকে রাজ্যে ক্ষমতায় এনে তিনি যে ‘পাপ’ করেছেন – তার প্রায়শ্চিত্ত করে তাঁর এক ও একমাত্র লক্ষ্য।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিকে, সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে, বাংলায় বিজেপি ভালো ফল করলে দিলীপবাবুর সভাপতি পদের মেয়াদ বাড়ে। এমনকি, দিলীপবাবুর নেতৃত্বেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন হবে এবং তিনিই বিজেপির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন বলে দাবি করেছিল গেরুয়া শিবিরেরই একাংশ। কিন্তু না, দিলীপবাবুকেও আপাতত মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে না গেরুয়া শিবির বলেই সূত্রের খবর।

গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, দিলীপ ঘোষ বা মুকুল রায়রা নয়, বিজেপি চাইছে, এমন কাউকে তুলে আনতে, যার গ্রহণযোগ্যতা সমাজের সর্বস্তরে সমানভাবে থাকবে। সবথেকে বড় কথা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু রাজ্য-রাজনীতিই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও এক হেভিওয়েট মুখ। সুতরাং তাঁর বিরুদ্ধে এমন এক মুখ দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির যাঁর গ্রহণযোগ্যতা জাতীয় স্তরে তো বটেই, বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজের কাছেও একবাক্যেই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

সূত্রের খবর, আপাতত বেশ কিছু নাম নিয়ে এই ব্যাপারে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথেও এই ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। তাছাড়া, এই ব্যাপারে বড়সড় ‘ইনপুট’ দেবে সঙ্ঘ পরিবারও। বিশেষ করে গেরুয়া শিবিরের প্রাণপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার মত পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে – তাই সেখানে যিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নেতৃত্ব দেবেন, তিনি কার্যত গোটা দেশের ক্ষেত্রে উদাহরণ হয়ে উঠতে পারেন – এমনটাই চাইছে গেরুয়া শিবির।

আর তাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে কে লড়বেন, সেই সমস্ত ব্যাপারটি পুজোর পরে বা ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সবথেকে বড় কথা, বাংলার রাজনীতিতে শিক্ষিত সমাজ ও সংখ্যালঘু সমাজ একটা বড় ফ্যাক্টর। সেইদিক থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বেশি গ্রহণযোগ্য মুখ তুলে আনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। তাছাড়া, গেরুয়া সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের দল কার্যত ‘পার্টি উইথ আ ডিফারেন্স’ – তাই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁরাও এমন কাউকেই চাইবেন, যাঁকে নিয়ে প্রচারের সময়েই বিরোধীদের কার্যত উড়িয়ে দিতে পারেন। আর বহু চর্চিত সেই মুখ্যমন্ত্রী মুখটি কে হবেন – সব মহল এখন তাকিয়ে সেদিকেই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!