এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > লোকসভা ২০১৯ – কোন কোন আসনে নতুন প্রার্থী করার সম্ভাবনা তৃণমূল কংগ্রেসের? প্রথম পর্ব

লোকসভা ২০১৯ – কোন কোন আসনে নতুন প্রার্থী করার সম্ভাবনা তৃণমূল কংগ্রেসের? প্রথম পর্ব

লোকসভা ভোটের ঢাকে কাঠি পরে গেল। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং জানিয়ে রেখেছেন এবারে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হয়ে যেতে পারে লোকসভা নির্বাচন, ফলে এখন থেকেই তিনি দলকে পুরো প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলেছেন। এমনিতে গতবার রাজ্যের ৪২ টি আসনের মধ্যে ৩৪ টিতেই জিতেছিল ঘাসফুল শিবির, আর সাধারণত জয়ী প্রার্থীদের দলনেত্রী পুনরায় টিকিট দিয়ে থাকেন। তাই অনেকেই নিশ্চিন্ত ছিলেন নিজেদের টিকিট নিয়ে, কিন্তু রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন এবার বহু আসনেই পুরোনো সাংসদরা বা প্রার্থীরা টিকিট নাও পেতে পারেন। বা শেষপর্যন্ত টিকিট পেলেও সেই সকল আসনের টিকিটের দাবিদার অনেকেই, ফলে পুরোনো সাংসদ বা প্রার্থী বলেই যে নিশ্চিন্ত তা কিন্তু নয়। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসে টিকিট পাওয়া নিয়ে শেষ কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুতরাং লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হলে শেষপর্যন্ত তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবুও একনজরে দেখে নেওয়া যাক কোন কোন লোকসভা আসন নিয়ে গুঞ্জন উঠছে, আজ প্রথম পর্ব –

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

১. কুচবিহার – দলীয় সাংসদ রেণুকা সিনহা মারা যাওয়ার পর এই আসন থেকে উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে সাংসদ হন প্রাথপ্রতীম রায়, যুবনেতা হিসাবে দলে উত্থানও হয় উল্কার গতিতে। কিন্তু মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তলানিতে, প্রকাশ্যেই হয়েছে বাকযুদ্ধ। সুতরাং, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে এই আসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে।

২. দার্জিলিং – গতবারের হারা আসন, তারপরে গতবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাইচুং ভুটিয়া নিজের পৃথক রাজনৈতিক দল খুলে ফেলেছেন। ফলে এই আসনে নতুন প্রার্থী করা একপ্রকার নিশ্চিত। প্রবল রাজনৈতিক গুঞ্জন এই আসনে প্রার্থী হতে পারেন বিনয় তামাং।

৩. রায়গঞ্জ – গতবারের হারা আসন, চমক দিয়ে গতবার প্রার্থী করা হয়েছিল প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির ভাই সত্যরঞ্জন দাশমুন্সিকে। কিন্তু নির্বাচনে হেরে যাবার পর আর সেভাবে তাঁকে রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায় নি। এবারে প্রবল গুঞ্জন, এখানে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হতে পারেন এক দাপুটে কংগ্রেস নেত্রী। কিন্তু দলবদলের ব্যাপারে তিনি নিজে মুখু কুলুপ এঁটে আছেন, কিন্তু জল্পনা লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট না হলে তিনি নাম লেখাতে পারেন ঘাসফুল শিবিরে, আর প্রার্থী হতে পারেন।

৪. মালদা-উত্তর – কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নূরের দলবদলের খবর নিয়ে তীব্র জল্পনা। মৌসমের নিজের কথায় আরো বেড়েছে জল্পনা, আর সত্যিই যদি তিনি তৃণমূলে যোগ দেন তাহলে তাঁকেই ঘাসফুলের টিকিটে দেখতে পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।

৫. মালদা-দক্ষিণ – মৌসমের মতোই আরেক কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরীর দলবদলের খবর নিয়ে তীব্র জল্পনা। যদিও তিনি নিজে কিছু বলেননি এখনো, তবে সত্যিই যদি তিনি তৃণমূলে যোগ দেন তাহলে তাঁকেই ঘাসফুলের টিকিটে দেখতে পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।

৬. জঙ্গিপুর – গতবারের হারা আসন, তবে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন বদলে গেছে। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে একসময়ের অধীর-গড় ক্রমশ ঘাসফুলের শক্ত ঘাঁটি হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় টিকিটের দাবিদার মূলত দুজন – একজন আদি তৃণমূলী ও জেলার দাপুটে নেতা, অন্যজন সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া এক কংগ্রেস বিধায়ক। এর মাঝেই কলকাতা ময়দানের এক ফুটবলার যিনি গত বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী রাহিম নবির ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেই পরিচিত, সংখ্যালঘু মুখ হিসাবে তাঁর নামও শোনা যাচ্ছে।

৭. বহরমপুর – অধীর চৌধুরীর বাঁধা আসন। গতবার তাঁর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন বর্তমানে রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ফলে নতুন মুখ দেখতে পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। রাজনৈতিক গুঞ্জন বাংলা চলচিত্রের এক অন্যতম প্রথম সারির বর্তমান নায়িকা ও মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক প্রযোজকের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত জন টিকিট পেতে চলেছেন। একে তো সেলিব্রিটি নায়িকা তার উপরে সংখ্যালঘু মুখ – অধীর চৌধুরীকে হারাতে দ্বিমুখী কৌশলে মাটি করতে চাইছে শাসকদল বলে গুঞ্জন।

৮. মুর্শিদাবাদ – গতবারের হারা আসন, প্রবল গুঞ্জন প্রাক্তন এক সিপিআইএম সাংসদকে দলে নিয়ে এখান থেকে টিকিট দেওয়া হতে পারে। যেহেতু এই লোকসভায় সিপিএমের ভালো ভোট আছে, প্রাক্তন সেই সাংসদকে দলে নিলে সিপিএমের সেই ভোট ভাঙাও যাবে, তার সঙ্গে বর্তমান সংসদকে পাল্লা দিতে আরেক জন সংখ্যালঘু হেভিওয়েট প্রার্থীও দেওয়া যাবে। সবথেকে বড় কথা সিপিএমের এই প্রাক্তন সাংসদ অত্যন্ত পড়াশোনা জানা ও সুবক্তা হওয়ার ফায়দা আগামীদিনে পাওয়া যাবে।

৯. কৃষ্ণনগর – পরপর দুবারের সাংসদ তাপস পাল। কিন্তু চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে দলের সঙ্গে দূরত্ত্ব বেড়েছে। একসময় তাঁর কিছু আগ্রাসী বক্তব্য নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়েছিল, দল পড়েছিল অস্বস্তিতে। তাই পুনরায় টিকিট পাওয়া রীতিমত চমক হতে পারে। বদলে শোনা যাচ্ছে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যের নাম। কোনো কোনো মহল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক অভিনেতা তথা অতীত দিনের নায়ক এবং অভিনেত্রীর নামও ভেসে উঠছে।

১০. ব্যারাকপুর – দীনেশ ত্রিবেদীর সাংসদ হিসাবে তুখোড়, খুব একটা অভিযোগ নেই। কিন্তু রেলমন্ত্রী হওয়ার পর দলনেত্রীর সঙ্গে দূরত্ত্ব বাড়ে, যদিও পরবর্তীকালে আবার তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু মুকুল রায় দল ছাড়ার পর এক বিধায়কের ক্রমশ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়েছে এই লোকসভায়। আর তাই শিল্পাঞ্চলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, সেই বিধায়ক-নেতা এবার সাংসদ হতে উৎসুক। আর মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এবং মুকুল রায়কে আটকাতে তাঁর বিরোধী বলে পরিচিত এই নেতাকে এবার এখানে সাংসদ-প্রার্থী হিসাবে দেখতে পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!