এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুকুল রায় বা দিলীপ ঘোষ নন, বঙ্গ রাজনীতির মোর ঘুরিয়ে দিলেন এই হেভিওয়েট নেতাই

মুকুল রায় বা দিলীপ ঘোষ নন, বঙ্গ রাজনীতির মোর ঘুরিয়ে দিলেন এই হেভিওয়েট নেতাই

বাংলায় বিজেপি নিজের ক্ষমতায় দু-চার টি বিধানসভা আসন জিতে নেবে এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের পরে, আর তারই ফলশ্রুতি ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিন-তিন জন বিধায়ক প্রাপ্তি। কিন্তু, সেখান থেকে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে একেবারে তৃণমূলের ঘরের কাছে নিশ্বাস ফেলতে ফেলতে প্রধান বিরোধীদল হিসাবে উঠে আসবে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে শাসকদলের জায়গায় পৌঁছে যাবে – এ কথা বোধহয় সেদিন অতি বড় গেরুয়া সমর্থকও ভাবেননি।

কিন্তু, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই সেই স্বপ্নটা যেন অনেকটাই হাতের মুঠোর মধ্যে চলে এসেছে গেরুয়া শিবিরের সমর্থকদের। কিন্তু কোন রসায়নে এল এত বড় সাফল্য? গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এর সাবাসী পেতে পারেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আবার কারোর গলায় মুকুল রায়ের নাম। এঁদের দুজনের ‘কান্ট্রিবিউশনকে’ অগ্রাহ্য না করেই দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করা নেতা কর্মীরা কিন্তু একবাক্যে মেনে নিচ্ছেন – বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপির এই উত্থানের পিছনের আসল কারিগর হলেন – কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।

দলের মধ্যে অত্যন্ত অনুগত অথচ ক্ষুরধার বুদ্ধি সম্পন্ন এই নেতার ঘাড়েই বাংলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন অমিত শাহ। তাঁর আগে বাংলার দায়িত্ব পেয়েছিলেন সিদ্ধার্থনাথ সিং – কিন্তু কলকাতায় এসে গরমাগরম কিছু বক্তব্য রাখা ছাড়া – বাংলায় বিজেপির উত্থান বা ভোটব্যাঙ্ক বৃদ্ধিতে সেভাবে তাঁর অবদানকে কেউ স্বীকৃতিই দিচ্ছেন না। আর কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বাংলায় এসে, প্রথমেই যে কাজটি করলেন – তাহলে দলের অভ্যন্তরীণ শক্তির জল মাপা। দলের বিভিন্ন স্তর থেকে রিপোর্ট নিয়ে যা বুঝলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্টই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়ে দিলেন – বাংলায় বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি করতে গেলে, বিজেপি মনোভাবাপন্ন অন্যান্য দলের নেতাদের বিজেপিতে শামিল করতে হবে।

কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র স্পষ্ট মত ছিল, নেতা আকাশ থেকে টপকে পড়বে না, আর বাইরের রাজ্য থেকে নেতা এনেও সেভাবে প্রভাব বিস্তার করা যাবে না। ফলে, উপায় অন্য দলের উপযুক্ত নেতাদের দলে নিয়ে দলের কিছুটা বিস্তার। আর সেই বিস্তার হলেই, বাংলাতেও যে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে – তা অনুভব করে ক্রমশ বাড়বে দলের সদস্য-সমর্থকের সংখ্যা। আর এই ফর্মুলাতেই তাঁর হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে আগমন ঘটল মুকুল রায়ের। যে মুকুল রায়কে সিদ্ধার্থনাথ সিং কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন – ভাগ মুকুল ভাগ! তাঁকেই সাদরে দলে নেওয়ায় চমকে গিয়েছিলেন অনেকেই।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

কিন্তু, সেই সময় কৈলাশ শিবিরের যুক্তি ছিল, মুকুল রায়ের নামে কোনো অভিযোগই প্রমাণিত নয়। সবথেকে বড় কথা সিবিআইয়ের দাপুটে গোয়েন্দারা ঘন্টার পর ঘন্টা জেরা করেও এমন কিছু বের করতে পারেননি, যার ফলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়! ততদিনে কিন্তু, যেসব তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী-সাংসদকে সিবিআই জেরায় ডেকেছে, প্রত্যেকেই প্রায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদিকে, মুকুল রায়ের সেই সিবিআই জেরার পরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে একঘরে করার চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ সবমিলিয়ে মুকুল রায় অপরাধী নন, বরং ‘আসল অপরাধীদের’ অনেক কিছুই জানেন। আর এদিকে, তৃণমূলের কাছে অপমানিত হয়ে মুকুল রায়ও একটা প্ল্যাটফর্ম খুঁজছেন – সেই অপমানের বদলা নেওয়ার।

আর সেই যুক্তিতে মুকুল রায়কে দলে নেওয়াটাই কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র মাস্টারস্ট্রোক ছিল। কেননা মুকুল রায় নিজের হাতের তালুর মত চেনেন বাংলার রাজনীতির অলিগলি, তৃণমূলের রাজ্যস্তর থেকে শুরু করে বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে তিনি শুধু চেনেনই না, সেখানে স্থানীয় সমস্যা থেকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সবই তাঁর নখদর্পনে। তারফলে, একদিকে মুকুল রায়কে দিয়ে দার্জিলিং থেকে দীঘা – সংগঠন বাড়াতে শুরু করলেন তৃণমূলের ‘অপমানিত বিক্ষুব্ধদের’ কাছে টেনে, অন্যদিকে দিলীপ ঘোষকে দিয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলিয়ে – বাংলায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের আরও চাঙ্গা করিয়ে দিলেন।

আর এই দুইয়ের যোগসূত্রের প্রথম ফসল ঘরে উঠল পঞ্চায়েত নির্বাচনে। তাঁর এই পারফরমেন্সে খুশি হয়ে মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী হওয়ার অফার করা হয়। এমনকি, দলের একাংশ চাইছিলেন তিনিই মধ্যপ্রদেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ হন, কেননা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহ্বানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার’ হাওয়া স্পষ্ট। কিন্তু কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র পাখির চোখ তখন বাংলা, বাংলায় পদ্মশিবির সবে পাপড়ি মিলতে শুরু করেছে, ফলে মধ্যপ্রদেশের কুর্শিকে দূরে সরিয়ে রেখে বাংলাতেই নিজের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে চললেন তিনি। আর কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র উপস্থিতিতে বাংলায় যে বিজেপির উত্থান দ্রুততর হচ্ছে, ততদিনে স্পষ্ট হয়ে গেছে তৃণমূল নেত্রীর কাছে – আর তাই মুকুল রায়-দিলীপ ঘোষের পাশাপাশি কৈলাশ বিজয়বর্গীয়কেও তিনি সমানতালে ‘চম্বলের ডাকাত’ বলে তীব্র আক্রমন শানিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু, নিজের লক্ষ্যে অবিচল কৈলাশ বিজয়বর্গীয় তখন ব্যস্ত সন্তপর্ণে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে। কিন্তু, তৃণমূল ছাড়লেই যেভাবে মামলার চাপে নেতাদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে – তার একটা প্রতিকার দরকার ছিল। আর সেই সুযোগটা এল, নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরেই – আদর্শ আচরণবিধির গেরোয় অত সহজে মামলা করা যাবে না। ফলে একঝাঁক হেভিওয়েটকে মুকুল রায়ের সাহায্যে নিয়ে এলেন বিজেপিতে। এমনকি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করে দলে নিয়ে এলেন যুবনেতা শঙ্কুদেব পণ্ডাকেও। আর তারপরেই ঠিক নেতাকে ঠিক জায়গায় ব্যবহার করে – অতি সন্তপর্ণে বাংলায় গেরুয়া শিবিরকে পৌঁছে দিলেন ২ থেকে ১৮ তে। অতঃকিম? উনিশে হাফ আর শীঘ্রই সাফ – এই মন্ত্রে পরের ‘টার্গেট’ সেট করে ফেলছেন বাংলায় বিজেপিকে বদলে দেওয়া কৈলাশ বিজয়বর্গীয় বলেই গুঞ্জন গেরুয়া শিবিরের অন্দরে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!