এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ব্রেকিং নিউজ – পে-কমিশনের রিপোর্ট কবে? ঘোষণা হতে পারে আগামীকাল

ব্রেকিং নিউজ – পে-কমিশনের রিপোর্ট কবে? ঘোষণা হতে পারে আগামীকাল



প্রিয় বন্ধু মিডিয়া এক্সক্লুসিভ – রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের মনে এখন দুটো জ্বলন্ত প্রশ্ন – কবে পাওয়া যাবে বকেয়া ডিএ? কবে জমা পড়বে পে-কমিশনের রিপোর্ট? ডিএ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট বা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যাল বা স্যাট সুনির্দিষ্ট রায় দিলেও – রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘টাকা নেই’ বলে কার্যত হাত ধুয়ে ফেলেছেন! তাই রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের ‘অন্ধের যষ্ঠি’ আপাতত পে-কমিশনের রিপোর্ট। এর আগে এই নিয়ে একাধিক কথা শোনা গেলেও – অবশেষে আগামীকাল ঘোষণা হতে পারে পে-কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার দিনক্ষণ বলে আমাদের গোপন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর।

লোকসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যজুড়েই কার্যত ভরাডুবি হওয়ার পরে – রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের দায়িত্ব রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেন তৃণমূল নেত্রী। শুভেন্দুবাবু এর আগে দু-দুবার দলের সরকারি কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে বসার চেষ্টা করলেও – ‘লোকভাবে’ তা হয়ে ওঠে নি বলে জল্পনা। আর তাই, আগামীকাল শুভেন্দুবাবু অবশেষে ‘গীতাঞ্জলিতে’ বসতে চলেছেন দলের সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে বলে সূত্রের খবর। আর সেখানেই, তিনি ঘোষণা করতে চলেছেন কবে জমা পড়বে পে-কমিশনের রিপোর্ট।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আগামীমাসের মাঝামাঝি নাগাদ এই রিপোর্ট নবান্নে জমা দিতে পারেন পে-কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকার বলে আগামীকাল ঘোষণা হতে পারে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের শীর্ষনেতা মনোজ চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগামীকাল এরকম একটি বৈঠকের কথা আমিও বিভিন্ন জায়গা থেকে শুনেছি। তবে, আমি নিজে কোনো আমন্ত্রণ পাই নি বা চারটে সংগঠন মিলে কর্মচারী ফেডারেশন তৈরী হয়েছিল সেইসব সংগঠনগুলির শীর্ষনেতা যেমন জিতেন ঘোষ, স্বরাজ চন্দ, জ্যোতি ধর বা কানাই তরফদারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তাঁরাও আমন্ত্রিত নন।

মনোজবাবু আরও জানান, তবে, দল আমাদের ব্রাত্য করে রাখলেও, আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই – সারা ভারতের মত পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরাও ১-১-২০১৬ থেকেই কেন্দ্রীয় হারে বেতন পাক। শুভেন্দুবাবু অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক ও নেতা – তাই, কর্মচারীদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে আগামীকাল তিনি এই নিয়ে সদর্থক কোনো ঘোষণা করুন – এই কামনায় রইল। আশা করব পুজোর আগেই সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাতে আগামীকাল শুভেন্দুবাবু ডিএ ও পে-কমিশন নিয়ে কোনো সদর্থক বার্তা দেবেন। তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের ভালোবাসা, সেখানে তৃণমূল পরিচালিত সরকার তৃণমূলের কর্মচারী সংগঠনের সম্মেলন নিয়ে কর্মচারীদের স্বার্থে কোনো সদর্থক পদক্ষেপের বার্তা দিচ্ছে – এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে?

তবে মনোজবাবু যতই সদর্থক আশা রাখুন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেরই বক্তব্য, এর আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় দলের সিনিয়র নেতাদের ব্রাত্য রেখে সংগঠন চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর বদলে শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নিয়ে সেই একই পথে হাঁটছেন। তবে সংগঠনের সিনিয়র নেতাদের ব্রাত্য করে রাখার ফল দল লোকসভা নির্বাচনেই পেয়েছে বলে মনে তাঁদের অনেকেই। এর আগে যখন সংগঠনের দায়িত্বে মনোজ চক্রবর্তী বা মঙ্গলময় ঘোষ ছিলেন, তখন কিন্তু একদিকে যেমন কর্মচারীদের স্বার্থ সঠিকভাবে রক্ষিত হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই এই ধরনের বৈঠকে ভিড় নেতাজি ইন্ডোর পরিপূর্ন করে স্টেডিয়ামের বাইরেও উপচে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের।

একইসঙ্গে তাঁদের মনে আশঙ্কার মেঘ – আদতে সত্যিই কতটা কি পে-কমিশন নিয়ে ঘোষিত হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতার কথায়, পে-কমিশনের ব্যাপারে কোনো কথা বলার এক্তিয়ার শুভেন্দুবাবুকে দল দেবে কিনা সে বিষয়ে আমি সন্দিহান। কেননা, ডিএ বা পে-কমিশন নিয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ কোনোদিন কথা বলেন নি। তা তিনি রাজ্যের অর্থমন্ত্রীই হন বা পে-কমিশনের চেয়ারম্যান! তার উপরে দল দলীয় সমস্যা নিয়েই বেশি ভাবিত, ফলে সরকারি কর্মচারীদের সমস্যা নিয়ে কতটা ভাবার সময় দলের আছে, আমার জানা নেই!


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এই প্রসঙ্গে এই মুহূর্তে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ও শীর্ষনেতা – সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য আহ্বায়ক দেবাশীষ শীলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দেখুন এটা বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীন বিষয় – ফলে কি হতে চলেছে আমার সঠিক জানা নেই। তবে, আগে তৃণমূলের সরকারি কর্মীদের কোনো কর্মসূচি হলে নেতাজি ইন্ডোর ভাড়া করতে হত। কিন্তু, যেভাবে এই সরকারের সময়ে সরকারি কর্মচারীরা বঞ্চিত হয়েছেন, পরবর্তীকালে ভিড় কমতে কমতে তা নজরুল মঞ্চে হতে থাকে। আর এবার তো লোকের এভাবে দু-দুবার সভার দিন বদলে অবশেষে পরিবহন ভবনের পিছনে প্যান্ডেল বেঁধে মাত্র ১২০০ আসনের ব্যবস্থা করছে বলে শুনেছি!

দেবাশীষবাবু আরও জানান, তাছাড়া আরও জেনেছি মাত্র ওই ১২০০ আসন ভরাতেও দ্বিগুনের বেশি আমন্ত্রণপত্র বিলি করা হয়েছে। তাতেও নাকি সভাস্থল ভরা নিয়ে আতঙ্কিত সংগঠকরা। অর্থাৎ, চিত্রটা স্পষ্ট যে শাসকদলের সরকারি কর্মচারী সংগঠনের কর্মীরাই রাজ্য সরকারের বঞ্চনা নিয়ে রীতিমত ক্ষুব্ধ। ইতিমধ্যেই সঞ্জীব পালের মত নেতারা বেরিয়ে এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন – আগামীদিনে এরকম আরও অনেকে আমাদের সংগঠনে আসতে যোগাযোগ রাখছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে, ভাঙন রুখতে পে-কমিশন নিয়ে কিছু ঘোষণা হতে পারে বলে আমিও বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছি।

দেবাশীষবাবুর বক্তব্য, তবে এই সরকার এতটাই কর্মচারী বিরোধী যে, আদালতের রায়কেও মান্যতা দেয় না। তাই আগে ঘোষণা হোক বা তার সুফল কর্মচারীরা পেতে শুরু করুন – তবে বিশ্বাস করব! কেননা, আমি আগেও আপনাদের জানিয়েছি, আবারো অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গেই জানাচ্ছি – পে-কমিশনের রিপোর্ট সম্পূর্ণ। নবান্ন থেকে সকালে নির্দেশ এলেই সন্ধ্যাতেই সেই রিপোর্ট জমা পরে যাবে। কিন্তু, নবান্নের নির্দেশেই তা জমা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আমার কাছে যা খবর আছে, তাতে করে বলতে পারি সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি এই রিপোর্ট জমা পড়তে পারে এবং আগামীকাল সেই ঘোষণায় তৃণমূলের ওই দলীয় বৈঠক থেকে হতে চলেছে।

এই ব্যাপারে তৃণমূল সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোর কমিটির এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পার্থবাবু যখন আমাদের সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন তখন হয়ত উনি সময়াভাবে সেইভাবে আমাদের সঙ্গে বসতে পারেননি। কিন্তু, শুভেন্দুবাবু দায়িত্ব নেওয়ার পরেই প্রায় প্রতি ১৫ দিন অন্তর তিনি আমাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং কর্মচারীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে শুনে সেই হিসাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আগামীকালও সেইরকম একটি সম্মেলন হতে চলেছে, যেখানে প্রায় হাজার তিনেক সদস্য উপস্থিত থাকতে চলেছেন।

ওই নেতা আরও জানান, আগামীকালের সম্মেলন থেকে শুভেন্দুবাবু একাধিক বিষয়ে বার্তা দিতে পারেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বদলি হয়ে যাওয়া বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। বিভিন্ন দপ্তরে সংগঠন করার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন জেলার আহ্বায়ক ঘোষণা, বিশেষ করে যে সব জেলায় একাধিক শক্তিশালী নেতার উপস্থিতি আছে, সেখানে একাধিক আহ্বায়কের নাম ঘোষণা। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল ডিএ বা পে-কমিশন নিয়ে সদর্থক বার্তা দেওয়া।

তাঁর আরও বক্তব্য, আমাদের ধারণা আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই নতুন পে-কমিশন চালু হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে, পুজোর আগেই মমতা দিদি নেতাজি ইন্ডোর বা নজরুল মঞ্চে বড় করে এক সম্মেলন ডেকে তা ঘোষণা করতে পারেন। ফলে তার আগেই অভিরূপবাবু পে-কমিশনের রিপোর্ট জমা দিতে পারেন। আমরা আশা করছি এই নিয়েই শুভেন্দুবাবু আগামীকাল সদর্থক বার্তা দিতে পারেন। সিনিয়রদের ব্রাত্য করে রাখা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামীকালের সম্মেলনের জন্য যাঁরা অবসরপ্রাপ্ত, তাঁদের হয়ত আমন্ত্রণ জানানো যায় নি। কিন্তু মমতা দিদির সম্মেলনে সবাইকেই গুরুত্ব দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে ও বড় করেই পে-কমিশন নিয়ে ঘোষণা হবে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!