এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কবে মিলবে ডিও/বিএলও মামলার রায়ের কপি? কিভাবে মিলবে ‘যন্ত্রনা থেকে মুক্তি’?

কবে মিলবে ডিও/বিএলও মামলার রায়ের কপি? কিভাবে মিলবে ‘যন্ত্রনা থেকে মুক্তি’?

গত ২৮ শে সেপ্টেম্বর, শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়ে দেন যে, রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের দিয়ে যে ডিও, বিএলও ও সুপারভাইজার ডিউটি করানো হচ্ছে তা আইনানুগ নয়। ফলে এই সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা হয়েছে তা বৈধ নয়। তবে, আসন্ন পূজার ছুটিতে যদি শিক্ষকদের দিয়ে এই কাজ করানোর কথা ভাবা হয় – তার জন্য নতুন করে নির্দেশিকা জারি করতে হবে এবং যে কদিন শিক্ষকদের এই ডিউটিতে ডাকা হবে, সেই কদিনের পুনরায় ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে।

আর এই রায় প্রকাশ্যে আসার পরেই খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে পড়েন রাজ্যের হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সকলেই জানান যে অবশেষে ‘যন্ত্রনা’ থেকে মুক্তি মিলল। কিন্তু, এই ঘটনার পরের দিন থেকেই আমরা হাজার-হাজার ফোনকল, হোয়াটস্যাপ বা ফেসবুক ম্যাসেজ পেতে থাকি আপনাদের অনেক প্রশ্ন নিয়ে। তার মধ্যে বেশিরভাগ প্রশ্নই ছিল – রায়ের কপি হাতে পাই নি, এই যুক্তিতে এখনো প্রশাসনিক আধিকারিকেরা চাপ দিয়ে বা অনুরোধ করে ডিও, বিএলও ও সুপারভাইজার ডিউটি করতে বাধ্য করছেন। কবে পাওয়া যাবে এই রায়ের কপি? কিভাবে মিলবে ‘যন্ত্রনা থেকে মুক্তি’?

আমরা আপনাদের এইসব প্রশ্নের ঝুলি নিয়েই হাজির হয়েছিলাম এই মামলার মূল স্থপতি শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের শীর্ষনেতাদের কাছে। সেখানে গিয়ে সংগঠনের প্রধান সেনাপতি মইদুল ইসলাম, শাশ্বত ঘোষ বা জয়ন্ত মুখার্জিদের অভিজ্ঞতাও তথৈবচ! মাঝরাত পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁদের কাছে এই সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়ে ফোনের পর ফোন এসে চলেছে। আর তাই গতকাল এই মামলার আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের সঙ্গে আলোচনা করা মঈদুলবাবু নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির যে উত্তর দিলেন, তুলে ধরা হল আপনাদের কাছে। আপনাদের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের ভিত্তিতে আমরা শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ ও মইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাই –

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

১. মামলার রায়দান গত ২৮ তারিখ, শুক্রবার হয়ে গেলেও – এখনও কেন সেই রায়ের কপি পাওয়া যাচ্ছে না?
মইদুল ইসলাম – যে কোন মামলার রায়দান হলেই সাথে সাথে রায়ের কপি হাতে পাওয়া যায় না, এর জন্য দিন-দুয়েক সময় লাগে। আমাদের মামলার ক্ষেত্রে মামলার রায়দান শুক্রবার হয়, পরের দুদিন অর্থাৎ শনি ও রবিবার এই সংক্রান্ত কোন কাজ আদালতে হয় নি ছুটি থাকায়। গতকাল অর্থাৎ সোমবার আমরা এবং আমাদের আইনজীবী সারাদিন ধরে এই রায়ের কপি জোগাড় করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে ছিলাম। মোট নপাতার রায়ের কপি প্রায় রাত ৯ টা পর্যন্ত চেষ্টা করেও সার্ভারে আপলোড করা যায় নি।

২. কবে পাওয়া যেতে পারে এই মামলার রায়ের কপি?
মইদুল ইসলাম – আজ ২ রা অক্টোবর, আবারো আদালতের কাজ বন্ধ থাকবে ছুটির জন্য। তবে আশা করছি এই রায়ের কপি আগামীকাল বা পরশুর মধ্যেই হাতে পাওয়া যাবে। কেননা রায়ের কপি তৈরির কাজ প্রায় শেষ, এখন শুধু তা সার্ভারে আপলোড করা বাকি।

৩. যতদিন না এই কপি হাতে পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন কি কোন উপায় নেই এই ডিউটি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার?
মইদুল ইসলাম – আমরা আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যতদিন না রাত্যের কপি হাতে পাওয়া যায়, একটি পন্থার কথা ভেবেছি। দেখুন, এই মামলায় রাজ্য সরকার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশন দু-তরফের আইনজীবীই উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং, সকলেই জানেন যে, আজ নাহলে কাল – শিক্ষকদের এই ডিউটি থেকে অব্যাহতি দিতেই হবে। শুধু শুধু রায়ের কপির দোহাই দিয়ে ব্যাপারটিকে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই প্রশাসনিক কর্তারা চাইছেন আপনারা আবেদনপত্র সহ এই সংক্রান্ত ফাইল জমা দিন, তাহলেই এই ডিউটি থেকে অব্যাহতি মিলবে এবং শিক্ষকরা শুধুমাত্র শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন।

৪. এই পন্থা অবলম্বন করে এখনও পর্যন্ত কি রাজ্যে কোন একজন শিক্ষকও ডিও, বিএলও ও সুপারভাইজার ডিউটি থেকে ‘মুক্তি’ পেয়েছেন?
মইদুল ইসলাম – গতকাল নদীয়ার তেহট্টে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক সংশ্লিষ্ট বিডিওর কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়ে নিজের নিজের ফাইল ফেরত দিয়েছেন এবং উনিও তা গ্রহণ করেছেন। দেখুন, প্রশাসনিক কর্তারাও জানেন আজ নাহলে কাল সব ফাইলই তাঁদের ফেরত নিতে হবে। তবে, এখানে সবচেয়ে আশ্চর্যের – এতবড় একটি ঘটনা নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কোন বিবৃতি নেই! আদালত এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ‘অবৈধ’ ঘোষণা করায়, এতদিন এই সংক্রান্ত যা কাজ হয়েছে তা বৈধ কিনা তা নিয়ে চরম বিতর্ক ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আর এই নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশন কোন অবস্থান স্পষ্ট না করায় সেই বিতর্ক আরো অন্য মাত্রা পেয়েছে।

৫. এই পন্থা অবলম্বন করলে আইনানুগ শাস্তির কোন ভয় নেই তো?
মইদুল ইসলাম – আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট ও, বিএলও ও সুপারভাইজার ডিউটি সংক্রান্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকাটিই ‘অবৈধ’। তাহলে কোন ‘অবৈধ’ নির্দেশিকার ভিত্তিতে কি কোন শোকজ বা শাস্তি হতে পারে? তবে কোন কোন প্রশাসনিক কর্তা এখনো ‘শাস্তির ভয়’ দেখাতেই পারেন বা অনুরোধ করতে পারেন এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু, শিক্ষকদের কাজ শিক্ষা সংক্রান্ত ব্যাপার দেখা, আদালতের রায়ও সেই কথায় বলছে। ফলে আপনারা নির্দ্বিধায় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে আবেদন জমা করতে পারেন – কোন শাস্তির ভয় নেই। আর যদি, ‘ভুল করেও’ তা হয় – আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ আপনার হয়ে বিনামূল্যে আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।

রায়ের কপি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই সেই নির্দিষ্ট ফরম্যাটের আবেদনপত্র।
আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!