এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ত্রিপুরা কার? কি বলছে বামফ্রন্ট ও বিজেপির অভ্যন্তরীণ ‘হিসেব’?

ত্রিপুরা কার? কি বলছে বামফ্রন্ট ও বিজেপির অভ্যন্তরীণ ‘হিসেব’?

গত ১৮ ই ফেব্রুয়ারী ৬০ আসন বিশিষ্ট ত্রিপুরা বিধানসভার ৫৯ টি আসনে ভোটগ্রহণ (চড়িলাম কেন্দ্রের বামপ্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১২ ই মার্চ) হয়ে গেলেও, ভোট গণনা নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের সাথে একই দিনে আগামী ৩ রা মার্চ হবে। ফলে মাঝের এই দীর্ঘ সময়ে কি হতে চলেছে ত্রিপুরার ফলাফল তা নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। দীর্ঘদিনের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে সেখানে কি পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারবে বিজেপি নাকি সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশের সবথেকে ‘গরীব মুখ্যমন্ত্রীর’ শিরোপা পাওয়া মানিক সরকারের নেতৃত্ত্বে অষ্টম বামফ্রন্ট সরকারের প্রত্যাবর্তন অনিবার্য? ফলাফল যাই হোক, দুটি ব্যাপারে বাম ও বিজেপি শিবির একমত। প্রথমত, লড়াইটা বামফ্রন্ট ও বিজেপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, অন্য দুই বিরোধীদল কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস সেভাবে কোনো প্রভাব ফেলতে বা ভোট ‘কাটতে’ পারবে না। দ্বিতীয়ত, প্রচারের আতিশয্যে বিজেপি এবার সত্যিই মাত করেছে, সুতরাং ত্রিপুরায় এবারই প্রথম ‘কঠিনতম’ নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছে বাম সরকার, আর তাই আশা থাকলেও ‘জোড়’ দিয়ে কেউই বলতে পারছে না, এটাই ফলাফল হতে চলেছে।

৫ বছর আগে ২০১৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৫২% ভোট ও ৫০ আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বামফ্রন্ট। বাকি ৯ টি আসন পায় কংগ্রেস ও ১ টি তৃণমূল কংগ্রেস। গত ৫ বছরে ৫ টি উপনির্বাচন হয় ত্রিপুরাতে ৫ টিতেই যেতে বামফ্রন্ট, এমনকি একটি অতিরিক্ত আসন ছিনিয়ে নেয় বিরোধীদের হাত থেকে। কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে ওই ৫ টি উপনির্বাচনের মধ্যে ৪ টিতেই দ্বিতীয়স্থানে উঠে আসে বিজেপি। তাছাড়াও গত ২০১৩ সালে যে ৫০ টি আসন বামফ্রন্ট পায় তার মধ্যে ১১টি আসনে তাদের জয়ের ব্যবধান ছিল ১৫০০ ভোট বা তার চেয়ে কম। সুতরাং এবার তার সবকটিতেই পরাজয় হলেও ২০ টির বেশি আসন বিরোধীদের ঘরে যাওয়া উচিত নয় বলেই মনে করছে বাম শিবির। তাদের হিসেবে অনুযায়ী, ত্রিপুরায় এবার ২০১৩ এর থেকে প্রাপ্ত আসন সংখ্যা কমছে, কিন্তু ‘খুব খারাপ’ ফল হলেও ৪০ এর নীচে আসন সংখ্যা নামবে না। আর ৪৫ আসন পেয়ে সরকার গড়তে পারলে তা ‘খুব ভালো’ ফলাফল বলেই গণ্য হওয়া উচিত। অন্যদিকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিপ্লবকুমার দেবও কিন্তু জয়ের অঙ্কই কষছেন। তাঁর মতে, ত্রিপুরার মানুষ ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার জন্যই এ বার ভোটের লাইনে দাঁড়়িয়েছিলেন। আর বিজেপির অভ্যন্তরীণ হিসেব বলছে অন্তত ৩২-৩৭ টি আসন নিয়ে ত্রিপুরাতে এবার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে বিজেপি। এর মাঝে সব দলেরই ‘আশঙ্কা’ একটা জায়গায়, তা হল ভোটের দিন গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র ইভিএম বিতর্ক, ফলে কার ভোট যে কোথায় পড়েছে নিশ্চিত নয় কেউই। সবমিলিয়ে টানটান উত্তেজনার মধ্যে ৩ রা মার্চের দিকে তাকিয়ে এখন সব পক্ষই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!