এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > দলনেত্রীর ‘অনুগত’ ও নোয়াপাড়ার ‘চেয়ারপার্সন’ মঞ্জু বসু কোথায় এখন? কি করছেন?

দলনেত্রীর ‘অনুগত’ ও নোয়াপাড়ার ‘চেয়ারপার্সন’ মঞ্জু বসু কোথায় এখন? কি করছেন?

নোয়াপাড়া উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিলেন নোয়াপাড়ার দুবারের তৃণমূল বিধায়ক তথা ওই বিধানসভা কেন্দ্রে দলের চেয়ারপার্সন মঞ্জু বসু। তিনি নোয়াপাড়ার বিধায়ক, গত বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছেন মাত্র এক হাজারের কিছু বেশি ভোটে (যদিও তার পিছনে দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে বলে অভিযোগ এসেছিল), অথচ তাঁকেই টিকিট না দিয়ে হঠাৎ করে প্রার্থী করে দেওয়া হয় অধুনা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল সামলানো অর্জুন সিংয়ের আত্মীয় সুনীল সিংকে। তার থেকেও বড় কথা তিনি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের চেয়ারপার্সন হওয়া সত্ত্বেও সমগ্র প্রক্রিয়া হয়ে যায় তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে। অপমানিত মঞ্জুদেবী প্রকাশ্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আর এরপরই বিজেপি নেতা ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র সঙ্গেও। বিজেপি তাঁকে প্রার্থী বলেও ঘোষণা করে দেয়।

কিন্তু এরপরেই ঘটে চূড়ান্ত নাটক। সাংবাদিক বৈঠকে মঞ্জুদেবী স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন না, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আস্থা অটুট, বিজেপি তাঁর অনুমতি না নিয়েই তাঁকে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছে। ফলে চূড়ান্ত বিড়ম্বনায় পরে যান বিজেপি নেতৃত্ত্ব, বিশেষ করে মুকুল রায়। যদিও পরে প্রকাশ্য জনসভায় তিনি জানান শাসকদলের ভয় প্রদর্শনের ফলে মঞ্জুদেবী এইভাবে ‘না’ বলতে বাধ্য হয়েছেন। আর এরপরেই রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা শাসকদলের উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান, মঞ্জু বসুকে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামানো হবে, আমি নিজে তাঁর বাড়ি যাব, তিনি অবশ্যই এলাকায় প্রচার করবেন।

এতসব লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে যাবার পর, কতখানি তৃণমূলের প্রচারে আছেন খুঁজে দেখার চেষ্টা করেন আমাদের প্রতিনিধি। এই প্রসঙ্গে মঞ্জুদেবীর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি বিবৃতি তুলে ধরা হল, যেখানে মঞ্জুদেবী বলেছেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার সঙ্গে রয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা সকলেই আমার সঙ্গে রয়েছেন। কিন্তু, যাদের হয়ে প্রচার করব তারা কেউ তো আমাকে একবারও ডাকেননি। এই বিধানসভার চেয়ারপার্সন হিসাবে আমি এই এলাকার সংগঠন দেখতাম। আমার বহু অনুগামী রয়েছে, তাদের অনেককেই প্রচারে নামানো হচ্ছে না। কারণ আমার অনুগামীদের প্রচারে নিলে নাকি ভোট কমে যেতে পারে। আমি প্রচারে গেলেও ওদের ভোট কমবে বলে প্রচার করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দলের তরফে সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত হেভিওয়েট নেতারা এসেছিলেন নোয়াপাড়ায় প্রচারে, সেখানেও ব্রাত্য থেকে যান মঞ্জুদেবী। দলের চেয়ারপার্সন হওয়ায় নির্বাচন এলেই যে মঞ্জুদেবী এলাকা চষে বেড়াতেন, মিটিং-মিছিলে হাঁটতেন তিনিই এখন নিজেকে সামাজিক ও ধর্মীয় কাজে আবদ্ধ রেখেছেন। মঞ্জুদেবীর নিজের কথায়, রাজনীতির বাইরে আমি সারা বছর সামাজিক কাজকর্ম করে থাকি, রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে যুক্ত। সামাজিক কাজকর্ম ও মিশনের বিভিন্ন কাজকর্মে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছি, দলের সঙ্গে আমি সব সময় রয়েছি। দলের ‘সঙ্গে থাকা’, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ‘এখনও আস্থা রাখা’ মঞ্জু বসু ও তাঁর অনুগামীরা দলের মধ্যেই ব্রাত্য, নির্বাসিত, আর তাই কোনো দলের প্রার্থী না হয়েও তিনিই বোধহয় নোয়াপাড়ায় ‘ফ্যাক্টর’ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!