এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > অস্ত্রে ‘শান’ দেওয়া মনোনয়নের পর কি হতে চলেছে পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ? কবে হবে ভোট?

অস্ত্রে ‘শান’ দেওয়া মনোনয়নের পর কি হতে চলেছে পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ? কবে হবে ভোট?

রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষিত হতেই বিরোধীদের উপর লাগামহীন সন্ত্রাস করছে শাসকদল বলে অভিযোগ সম্মিলিত বিরোধীদের। যদিও শাসকদলের পাল্টা অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাংলায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তার সামনে নির্বাচনে জেতা তো দূরের কথা প্রার্থী দিতেই হিমশিম অবস্থা বিরোধীদের। আর তাই ‘বহিরাগত’ নিয়ে এসে ‘সন্ত্রাসের নাটক’ করছে বিরোধীরা। ঘটনা যাই হোক, প্রথম পর্বের মনোনয়নের শেষদিনে ‘শাসকদলের সন্ত্রাসে’ সব আসনে প্রার্থী দিতে না পারায় বিরোধীরা যায় নির্বাচন কমিশনে, নির্বাচন কমিশনও সবদিক খতিয়ে দেখে মনোনয়নের জন্য একদিন অতিরিক্ত বরাদ্দ করে। কিন্তু তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘চিঠি লিখে’ কমিশনকে জানান, এই মনোনয়ন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ‘আইনসম্মত’ হয় নি, ফলে রাত না পেরোতেই সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয় নির্বাচন কমিশন। নিরুপায় বিরোধীরা, আদালতের স্মরণাপন্ন হয়, সেখানে প্রথমদিন থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নানা যুক্তিজালে আদালতকে বোঝাতে থাকেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় আদালত আর হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

বিচারপতি সুব্রত তালুকদার, সবদিক খতিয়ে দেখে রায় দেন, নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়নের জন্য অতিরিক্ত দিন দিতে হবে এবং ইচ্ছুক সমস্ত প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেবার ব্যবস্থা করতে হবে। আর রাজ্য সরকার ও মামলাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পঞ্চায়েত ভোটগ্রহণের নতুন নির্ঘন্ট প্রকাশ করতে। এই রায়ের পরে একদিকে যেমন বিরোধীরা দাবি করেন, আদালতে তাঁদের মান্যতা পেয়েছে, ধাক্কা খেয়েছে শাসকদল ও নির্বাচন কমিশন, অন্যদিকে, কল্যানবাবু দাবি করেন, আদালতের রায়ে নৈতিক জয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের, বিরোধীরা নির্বাচন বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল, সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে, আজ আবার চার ঘন্টার জন্য মনোনয়নের দরজা খুলে দেয় নির্বাচন কমিশন। যদিও, রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমতের ভিত্তিতে নির্বাচনী নির্ঘন্ট এখনো প্রকাশ করতে পারে নি। কিন্তু মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে লাগামহীন সন্ত্রাসের অভিযোগ পুনরায় করছেন বিরোধীরা।

এমনকি বিরোধীদের মনোনয়ন আটকাতে তৃণমূল কর্মীদের বীরভূমে বাইক নিয়ে অস্ত্র মিছিলের অভিযোগ ওঠে। যদিও বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল বলেছেন, গ্রামের মানুষ অনেক দূর থেকে এসেছেন বলে বাইক নিয়ে এসেছেন। আর কোনো অস্ত্র মিছিল নয়, গ্রামে অস্ত্র শান দেওয়ার মেশিন নেই, তাই তা নিয়ে শহরে এসেছেন। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের সব প্রান্তেই চিত্রটা একরকম, বিরোধীদের মারধর-মনোনয়ন পত্র কেড়ে নেওয়া তো ছিলই, সঙ্গে নির্বিচারে চলেছে গুলি, মুড়ি-মুড়কির মত পড়েছে বোমা, এমনকি প্রাণও গিয়েছে রাজনৈতিক কর্মীর, খবর করতে গিয়ে অপহৃত হয়েছেন মহিলা সাংবাদিক। ফলে সবমিলিয়ে মনোনয়ন দেওয়া তো দূরের কথা, বিরোধীরা শাসকদলের বল্গাহীন সন্ত্রাসের শিকার। এখন প্রশ্ন উঠে গেছে, তাহলে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ কি? কবে হতে চলেছে ভোটগ্রহণ?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। কেননা, আজকের ঘটনার পর ইচ্ছুক সকল প্রার্থীর মনোনয়ন দেওয়া সুনিশ্চিত করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি যদি সত্যি হয়, তাহলে প্রশাসনও ব্যর্থ, প্রশ্ন উঠতে পারে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে। আর তাই সবকিছুর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীরা আবার আদালতের স্মরণাপন্ন হবেন, আর এবার কেন্দ্রিয়বাহিনীর দাবিতে। আর সেই মামলা টানাপোড়েনের জালে কলকাতা হাইকোর্টে সমাপ্ত হওয়া অসম্ভব, যেতে পারে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। তাই সবমিলিয়ে এখনই যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হচ্ছে না, সে ব্যাপারে অনেকটাই সুনিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!