এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > জোট ভাঙল শিবসেনা, মহারাষ্ট্রে কি পতনের মুখে বিজেপি সরকার?

জোট ভাঙল শিবসেনা, মহারাষ্ট্রে কি পতনের মুখে বিজেপি সরকার?

১৯৬৬ সালে রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট বাল ঠাকরের হাত ধরে অতি ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী ও মারাঠি-পন্থী দল শিবসেনা গড়ে উঠেছিল, বাল ঠাকরের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র উদ্ধব ঠাকরে বর্তমানে শিবসেনার সর্বেসর্বা। বর্তমানে বিজেপি পরিচালিত এনডিএ জোটের সবথেকে পুরোনো শরিক এই শিবসেনা, ১৯৮৯ সালে প্রথম বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে একসাথে পথ চলা শুরু হয়। কিন্তু বিগত বেশ কিছু বছর ধরেই দুই শিবিরের মধ্যে দূরত্ত্ব বাড়ছিল। আর এবার অবশেষে চরম সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলল এনডিএর সবথেকে পুরোনো শরিক। মুম্বইতে আজ কর্মসমিতির বৈঠকের শেষে শিবসেনা ঘোষণা করল, আগামী ২০১৯ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে আর জোট থাকছে না, একই পথ চলবে তারা।

আর এই ঘোষণার পরেই তীব্র সংকটে পড়ে গেল মহারাষ্ট্র সরকার। কেননা ২৮৮ টি আসন বিশিষ্ট মহারাষ্ট্র বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গেলে ন্যূনতম ১৪৫ টি আসন পেতে হবে। কিন্তু ২০১৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা মনমতো না হওয়ায় শিবসেনা ও বিজেপি আলাদা আলাদা করে লড়াই করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল বেরোলে দেখা যায় কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় নি। বিজেপি পায় ১২২ টি, শিবসেনা ৬৩ টি, কংগ্রেস ৪২ টি, এনসিপি ৪১ টি ও অন্যান্যরা ২০ টি আসন পায়। আর তাই সরকার গড়ার লক্ষ্যে বৈরিতা ভুলে নির্বাচনোত্তর সমঝোতা গড়ে সরকার গড়ে বিজেপি ও শিবসেনা, তাঁদের সঙ্গ দেন একমাত্র আরএসপি বিধায়কও।

আজ নিজেদের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত জানান, বিজেপি হিন্দুত্বের নামে শিবসেনার সঙ্গে জোট করেছিল, শিবসেনাও হিন্দুত্বের জন্যই ধৈর্য ধরেছিল। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত তিন বছর ধরে শিবসেনার মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে। মহারাষ্ট্রে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ৪৮ টির মধ্যে ২৫টি ও বিধানসভা নির্বাচনে ২৮৮ টির মধ্যে ১৫০টি আসনকে পাখির চোখ করে শিবসেনা একক ভাবে লড়বে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে জোট সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেবার কথা তারা কিছু ঘোষণা করে নি। কিন্তু এই জোট ভাঙার ঘোষণা করার পর তার প্রভাব আগামীদিনে সরকারের উপর পড়তে বাধ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বিজেপি বিরোধী তিন মাহাদল কংগ্রেস, শিবসেনা ও এনসিপি যদি এক ছাতার তলায় চলে আসার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের মিলিত আসন সংখ্যা হবে ১৪৬, যা অনায়াসেই তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেবে। অন্যদিকে, এইমুহূর্তে শরদ পাওয়ারের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর ‘বন্ধুত্ত্ব’ বেশ ‘গাঢ়’। তাই শিবসেনা সমর্থন তুলে নিলেও, এনসিপির সমর্থন নিয়ে সরকার টিকিয়ে ফেলতে পারে বিজেপি। এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। কিন্তু শিবসেনার এই ঘোষণার পরে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি যে জমজমাট তা বলায় বাহুল্য।

Top
error: Content is protected !!