এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > জমায়েতে ‘না’ বলা সত্ত্বেও নিয়ম ভাঙলেন রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী, সমালোচনার ঝড় সর্বস্তরে!

জমায়েতে ‘না’ বলা সত্ত্বেও নিয়ম ভাঙলেন রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী, সমালোচনার ঝড় সর্বস্তরে!


করোনা ভাইরাস মারন ভাইরাস। এর কোনো প্রতিষেধক এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসক প্রত্যেকেই বলছেন, অযথা জমায়েত এড়িয়ে চলুন। তা সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে এখনও পর্যন্ত সচেতনতা বৃদ্ধি পায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একদিনের জনতা কারফিউয়ের ডাক দিলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষ তা পালন করলেও, সন্ধ্যের পরে বাইরে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় অনেককে।

তবে গতকালই রাজ্যে লকডাউনের কথা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যার মূল উদ্দেশ্য, বেশি জমায়েত না করা। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবারই বেশি জমায়েত না করার কথা বললেও, সেই নিয়ম ভাঙতে দেখা গেল রাজ্যের মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা শ্যামল সাঁতরাকে।

সূত্রের খবর, রবিবার জনতা কার্ফুর দিন নিজের বাড়িতে জনতার দরবার বসালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা। যেখানে প্রচুর মানুষ মন্ত্রীর কাছে নানা দাবি নিয়ে সাক্ষাত করতে আসে। আর করোনা ভাইরাসের এই বাড়বাড়ন্তের সময় যেখানে সকলেই বলছেন জমায়েত এড়িয়ে চলুন, সেখানে কেন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী নিয়ম ভাঙলেন, এখন তা নিয়েই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

অনেকে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনতা কারফিউয়ের ডাক দিয়েছেন, তাই হয়ত রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তাকে ভেঙে রাজ্যের মন্ত্রী এই ধরনের কাজ করলেন। কিন্তু যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের নেত্রী প্রতিনিয়ত বার্তা দিচ্ছেন, জমায়েত এড়িয়ে চলুন। সেখানে কেন এখন জনতার প্রতি দরদ দেখাতে শ্যামলবাবুর এই পদক্ষেপ!

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এতে তো জনতার বিড়ম্বনা বাড়তে পারে! যদি কারও শরীরে ভাইরাস থাকে, আর সেই ভাইরাস যদি সংক্রমিত হয়, তাহলে তার জন্য কি দায়ী থাকবেন রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী? এখন তা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে সমালোচক মহলের একাংশ। এদিন এই ব্যাপারে শ্যামল সাঁতরাকে কটাক্ষ করেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার।

তিনি স্পষ্ট বলেন, “শ্যামলবাবু কলেজ শিক্ষক। রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য। তার পরেও এমন কাজ করলেন কি করে! মন্ত্রীই যদি সতর্ক না হোন, তাহলে সাধারন মানুষকে অসচেতন বলে কি হবে!” একইভাবে এই ব্যাপারে শ্যামলবাবুকে কটাক্ষ করেছেন বিষ্ণুপুরের প্রাক্তন বাম বিধায়ক স্বপন ঘোষ। তিনি বলেন, “মন্ত্রী এই সময় কিভাবে জনতার দরবার বসালেন!”

সত্যিই তো তাই! যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা বার্তা দিচ্ছেন জমায়েত করবেন না, সেখানে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী জনতার প্রতি দরদ দেখাতে কেন এই সময়কেই বেছে নিলেন? এদিন এই প্রসঙ্গে আজব তত্ত্ব শোনা যায় সেই শ্যামল সাঁতরার গলায়। তিনি বলেন, “মানুষ বাড়িতে চলে এলে কি ফেরানো যায়!”

তবে চাপে পড়ে অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিনি জনতার দরবার স্থগিত রাখবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু তার মতো একজন বিশিষ্ট মানুষ তথা মন্ত্রী কেন এইরকম ভুল করলেন! জনপ্রতিনিধিদের যদি এখনও করোনার মত মারণ ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা না বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই শুভবুদ্ধি জাগ্রত হবে কি করে! প্রশ্নটা উঠছে জনমানসে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!