এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > অনেক ‘ধোঁয়াশা’ রেখে প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘বেতন বৃদ্ধি’ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির

অনেক ‘ধোঁয়াশা’ রেখে প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘বেতন বৃদ্ধি’ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জির


অনৈতিক বদলি রুখতে ও নিজেদের ন্যায্য বেতনের দাবিতে বিগত ১৩ দিন ধরে অনশন আন্দোলন করছেন রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা। উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে ১৯ জন শিক্ষক শুরু করেছিলেন আমরণ অনশন – আর তাঁদের দাবিকে সমর্থন করে রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষক রাত কাটাচ্ছেন ফুটপাথে। শিক্ষকদের এই আন্দোলন নাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের সুধীজন সমাজকে।

কিন্তু, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই আন্দোলনকে সামান্যতম সহমর্মিতাও না দেখিয়ে, নাম না করে সটান বলে দিয়েছিলেন – কেন্দ্রের হারে বেতন পেতে হলে কেন্দ্রে চলে যান। যে মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে গোটা রাজ্য জুড়ে! সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীমহল রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে ফেটে পরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কেউ বা সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ বা সরাসরি অনশন মঞ্চে হাজির হয়ে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী আজ নজরুল মঞ্চে ‘রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের’ সঙ্গে এক বৈঠকে বসেন। সূত্রের খবর, এই বৈঠককে ‘রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের’ সঙ্গে বৈঠক বলা হলেও, আদতে তা ছিল শাসকদলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের বৈঠক। সেখানে, শাসকদলের বাইরে অন্যান্য মতাবলম্বী দু-একটি সংগঠন ডাক পেলেও, অনশনকারীদের ডাকাই হয় নি। এই বৈঠক ঘিরে গতকাল রাত থেকেই জল্পনা ছড়াতে থাকে যে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করতে পারেন।



WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।




আপনার মতামত জানান -

আর সেই জল্পনাকে সত্যি করে, আজ শিক্ষামন্ত্রী জানালেন, রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে শিক্ষকদের গ্রেড-পে ২,৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,২০০ টাকা করা হল। যদিও মুখ্যমন্ত্রী নাকি চান, এই গ্রেড-পে ৩,৬০০ টাকা করতে। সেই মর্মে নাকি অর্থ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনাও চলছে। তবে কবে, তা কার্যকর হবে তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি শিক্ষামন্ত্রী। তবে, শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির কথা বললেও, এই নিয়ে কোন সরকারি নির্দেশিকা এখনও সামনে আসে নি।

অন্যদিকে, অনশনকারী শিক্ষকদের দাবি ছিল NCTE নর্ম মেনে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়িয়ে উচ্চমাধ্যমিকে ন্যূনতম ৫০% নম্বর ও দুবছরের ডিএলএড ট্রেনিং করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে, তাঁদের কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মত ৪,২০০ টাকা গ্রেড-পে করতে হবে। যদিও, শিক্ষামন্ত্রীর দাবি মত হতে চলা ‘বেতন বৃদ্ধি’ তার ধারেকাছেও পৌঁছাচ্ছে না বলে, ইতিমধ্যেই শিক্ষক সমাজের ক্ষোভ সামনে আসতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, শিক্ষকদের ‘অনৈতিক’ বদলি নিয়েও শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট কিছু বলেননি।

বদলির বিষয়ে তিনি বলেছেন, পার্থবাবু জানিয়েছেন, আজই অর্ডার দিয়েছি – যাঁদের ট্রান্সফার ঠিকমতো হয়নি, তাঁদেরটা নিয়ম মতো করা হবে। যদিও এই প্রসঙ্গে ‘রসিকতা’ করে তিনি বলেন, এত বেশি মহিলা স্ত্রী রোগে ভুগছেন যে আমি চিন্তায় পড়ে যাচ্ছি! এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য নতুন প্রমোশন পলিসি আনছে সরকার। সেক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রমোশন দিয়ে প্রাইমারি থেকে আপার প্রাইমারি স্তরে উন্নীত করা হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।

তবে, শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা ঘিরে তৈরী হয়েছে একরাশ ধোঁয়াশা! তাছাড়া প্রশ্ন উঠছে, তিনি দলীয় সংগঠনের মঞ্চ থেকে ‘বেতন বৃদ্ধির’ ঘোষণা করলেন – তা কি আদৌ আইনসম্মত। এরজন্য তো সরকারি নির্দেশিকা দরকার – তা কেন সামনে আনছেন না শিক্ষামন্ত্রী? বা এই নিয়ে কোনো সাংবাদিক বৈঠক করছেন না তিনি? যদিও, ‘ধোঁয়াশায়’ ভরা ‘বেতন বৃদ্ধির’ ঘোষণার মাধ্যমেই তিনি অনশনকারী শিক্ষকদের অনশন তুলে নিয়ে কাজে যোগ দিতে বলেন। শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণার পর, অনশনকারী শিক্ষকরা কি সিদ্ধান্ত নেন সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!