এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ভুয়ো পরিচয় নিয়ে একেবারে মন্ত্রীর সামনে, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সন্দেহের ফলে হাতেনাতে পুলিশের হাতে

ভুয়ো পরিচয় নিয়ে একেবারে মন্ত্রীর সামনে, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সন্দেহের ফলে হাতেনাতে পুলিশের হাতে


এবার জালিয়াতির নতুন পরিচয়। এতদিন এ ধরনের জালিয়াতি রুপোলি পর্দায় দেখা যে। এবার নতুন ধরনের এই জালিয়াতি ঘটল বাস্তবে। মন্ত্রী সেজে এসে একেবারে সরকারি গেস্ট হাউসে হানা। বহাল তবিয়তেই রইল অভিযুক্ত। কেউ ধরতে পারেনি ঘুণাক্ষরেও। কিন্তু সন্দেহ হয় গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর। তাই তিনি সন্দেহের অবসান ঘটাতেই নানান রকম খোঁজ নেওয়া শুরু করেন এবং তখনই পর্দা ফাঁস হয়। এই অভিনব জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসার পরেই পুলিশি তৎপরতায় অভিযুক্ত ধরা পড়েছে।

গোয়ার পানাজিতে সরকারি গেস্ট হাউসে নকল কাগজপত্র দেখিয়ে মন্ত্রী সেজে উঠেছিল অভিযুক্ত সুনীল সিং, সঙ্গে ছিল আরো চারজন সঙ্গী। সরকারি গেস্ট হাউসে নয় নয় করে প্রায় 10 দিন কাটিয়ে ফেলার পর সন্দেহ খোদ গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর। আর তারপরেই তিনি পুলিশকে অবগত করেন এই ব্যাপারে। অবশেষে মঙ্গলবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সুনীল সিং, তার 4 সঙ্গী সমেত। গোয়া পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুনীল সিং দাবি করেছিল যে সে উত্তর প্রদেশের একজন মন্ত্রী।

দাবি প্রমাণ করতে সে বেশ কিছু নকল কাগজপত্র দেখিয়ে ছিল। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলেছিল সে। সুনীল সিং যে একজন নকল ব্যক্তি, সে কথা কেউই বুঝতে পারেনি। পুলিশ পর্যন্ত তাঁকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী দিয়েছিল। কিন্তু গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বেশ কিছু সন্দেহজনক ঘটনা ঘটায় সুনীল সিং। আর তখনই মুখ্যমন্ত্রী গোয়া পুলিশকে সতর্ক করেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রমদ সাওয়ান্ত বলেন, ‘‌আমি দুর্নীতিদমন শাখাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার জন্য। ওই ব্যক্তি নকল কাগজপত্র দেখিয়ে নিজেকে উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী বলে দাবি করেছিল।’‌

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

গত সপ্তাহে অভিযুক্ত সুনীল গোয়ার মন্ত্রী গোবিন্দ গাওয়াদের সঙ্গে দেখা করেছিল কিন্তু সেখানে গিয়ে সে বেশ কিছু সন্দেহজনক আচরণ করে, যার ফলে তাঁকে সন্দেহ করে মন্ত্রী গোবিন্দ গাওয়াদে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌আমার একটু সন্দেহ হয়েছিল। আমি ওনাকে বলেছিলাম আপনি রাজ্যের অতিথি। উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী। আপনার সঙ্গে বেশিক্ষণ কথা বলা সম্ভব নয়।’‌ এরপরেই মন্ত্রী গোবিন্দ গাওয়াদে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুনীল সিং সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করেন। কিন্তু এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না, যা থেকে প্রমাণিত হয় সুনীল সিং উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী। এবং তখনই ব্যাপারটি নিয়ে গোয়া পুলিশকে সতর্ক করা হয়। এই মুহূর্তে অভিযুক্ত সুনীল সিং আছে গোয়া পুলিসের হেফাজতে। সুনীল সিং সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে গোয়া পুলিশ উত্তর প্রদেশের পুলিশের সাথে যোগাযোগ করছে বলে জানা গেছে।

তবে এ ধরনের ঘটনায় জালিয়াতি এক অন্য মাত্রা পেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এতদিন পর্যন্ত কেউই দেশের মন্ত্রীদের সাথে এভাবে জালিয়াতি করেনি। কিন্তু একেবারে উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রিসভার মন্ত্রী সেজে গোয়ার মন্ত্রীমহলে প্রবেশ করা। সেখানকার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে। 10 দিন পর্যন্ত অভিযুক্ত বিনা বাধায় ঘুরে বেরিয়েছে। এই নিয়ে এখন জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত হল, গোয়ার সরকারি নিরাপত্তা নিয়ে সেখানকার প্রশাসনের আরেকটু নজর দেওয়া উচিত।

আপনার মতামত জানান -

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!