এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ভোটের টিকিট দিতে ‘কাটমানি’! জুতোর মালা-মুখে কালি দিয়ে গাধার পিঠে নেতাদের ঘোরালেন কর্মীরা!

ভোটের টিকিট দিতে ‘কাটমানি’! জুতোর মালা-মুখে কালি দিয়ে গাধার পিঠে নেতাদের ঘোরালেন কর্মীরা!

বহুদিন থেকেই পশ্চিমবঙ্গের নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ করে যাচ্ছে বিরোধী দলের নেতারা। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাটমানি প্রসঙ্গে তাঁর দলের নেতা-নেত্রীদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন দুর্নীতি বন্ধ করে কাটমানি ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে। এবার পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও কাটমানি নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মঞ্চে নির্বাচনে প্রার্থী হতে দেবার জন্য কাটমানির দাবি জানিয়েছেন দলের উঁচু স্তরের নেতারা। আর সেই অভিযোগে দলের নেতাকর্মীরা কাটমানি চাওয়ায় চূড়ান্ত হেনস্থা করলেন নেতাদের।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের জয়পুরে, বাণীপার্ক এলাকায়। এলাকায় নির্বাচনে দাঁড়াতে চাওয়া প্রার্থীদের কাছ থেকে রীতিমতো টাকা চেয়েছিলেন বি এস পির ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রামজি গৌতম এবং অন্যজন রাজস্থানের প্রাক্তন সভাপতি সীতারাম। অভিযোগ, এই দুই নেতা হুমকিও দিয়েছিলেন টাকা না দিলে ভোটে দাঁড়ানোর সুযোগ মিলবে না বলে।

এই অভিযোগের বিরুদ্ধে বহুজন সমাজ পার্টির কর্মী ও সমর্থকরা পদক্ষেপ নিলেন। এই দুই নেতাকে গলায় জুতার মালা দিয়ে গাধার পিঠে চড়ানো হয়। ঘটনাটির ভিডিও করে রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয় এবং যথারীতি তারপরেই এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুই নেতার বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই টাকা নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে টিকিট বিলির অভিযোগ ছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জয়পুরের বিভিন্ন এলাকায় বিএসপি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনে কাটমানি নেওয়ার ঘটনা ঘটার পর উত্তেজিত হয়ে পড়েন অসন্তুষ্ট কর্মীরা।

মঙ্গলবার অভিযুক্ত দুই নেতা দলীয় অফিসে এসেছিলেন। সে সময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে তাদের বিবাদ বাধে। তারপর মুখে কালি লাগিয়ে বিএসপি কর্মী-সমর্থকরা গাধার পিঠে চড়িয়ে অভিযুক্ত নেতাদের পার্টি অফিসের সামনে ঘোরান হয়।এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এক বিএসপিকর্মী অভিযোগ জানান, রাজস্থানে বিধানসভা নির্বাচনের সময় এই দুই নেতা অন্য দলের হয়ে কাজ করেছেন। প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও এই দুই নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। গত পাঁচ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করার পরেও সেই ব‍্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

 উল্টে কংগ্রেস ও বিজেপি থেকে বিএসপিতে যোগ দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ানোর টিকিট দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীকেও সমস্ত ঘটনা জানানো হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। তাই এবার নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন বিএসপি দলের অন্য নেতাকর্মীরা।

যদিও এই ঘটনাটিকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণভাবে কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী। তিনি অভিযোগ করেছেন, এভাবে টাকা দিয়ে নির্বাচনের প্রার্থী দাঁড় করানোর ব্যাপারটি শুরু করেছিল কংগ্রেস আর এখন সংঘটিত হবে তারা বিএসপি নেতাদের আক্রমণ করছে।

মায়াবতীঅভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, বিএসপির মধ্যে এ ধরনের অনৈতিক কাজ চলতে পারে, কিন্তু কংগ্রেসে এরকম কাজ কখনো হয়নি। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী দাঁড় করানো হলে সেই প্রার্থী জনগণের হয়ে কতটা কী কাজ করবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়। তবে বহুজন সমাজ পার্টির যে কর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাঁদেরকে ধন্যবাদ দিতে হয়। আপাতত এই ঘটনার মোড় কোন দিকে নেয় তা দেখার জন্য উৎসুক দেশের রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!