এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > ভোটের ডিউটি থেকে বাঁচতে মরিয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা, তৈরী অভিনব ‘অজুহাত’

ভোটের ডিউটি থেকে বাঁচতে মরিয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা, তৈরী অভিনব ‘অজুহাত’

ভোটের ডিউটি থেকে বাঁচতে মরিয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা, তৈরী অভিনব ‘অজুহাত’। ভোটের ডিউটির তালিকায় নাম থাকা মানেই ব্যাগ ব্যালট বাক্স গুছিয়ে নিয়ে বুথে গিয়ে থাকার আর রাত হলে মশার জ্বালাতন এবং সকাল থেকে অশান্তির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কাজ করে যাওয়া। যদিও এবার পূর্ব বর্ধমানে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে অধেকের বেশি আসনে শাসকদল আগে থেকেই জিতে আছে। পঞ্চায়েত সমিতিতে শাসকদলের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

জেলা পরিষদের ৫৮ টি আসনের মধ্যে ১০ আসনে কোনো লড়াই হবে না। ফলে ডিউটির চাপ অনেকটাই কম। কিন্তু তাও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে মরিয়া সরকারি কর্মচারীরা। ডিউটির তালিকা থেকে নাম কাটানোর উদ্যেশ্যে কেউ যাচ্ছেন বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিতে, কেউ যাচ্ছেন মাজারে চাদর ছড়াতে, কারো স্ত্রী ভোটের মাসেই সন্তান সম্ভবা বলে ভোটের ডিউটি থেকে নাম বাদ দিতে চাইছেন। যদিও সেক্ষেত্রে জেলা নির্বাচন কেন্দ্রের আধিকারিকরা চিকিৎসার আবেদনপত্র জমা দিতে বললে তা এখনও জমা পরে নি। এদিন নির্বাচন কেন্দ্রের এক কর্তা মন্তব্য করেন, ”কেউ কেউ তো ভেলোরে ব্লাড-সুগারের চিকিত্‍সার জন্য তড়িঘড়ি ট্রেনের টিকিটও কেটে ফেলেছেন। এমনও আবেদন পেয়েছি, যাতে বলা হয়েছে, তাঁদের মা-বাবা বা স্ত্রীর চিকিত্‍সার জন্য বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লির এইমস পর্যন্ত নাকি যেতে হবে! সব চিকিত্‍সাই ভোটের মাসে!” এখানেই শেষ নয় কিছু কর্মী আবার ভোটের ডিউটি এড়াতে স্ত্রী, পুত্র, মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এমনই এক কর্মীর স্ত্রী আবেদন জানালেন, “স্যার, আমার উনি খুবই দুর্বল। পঞ্চায়েত ভোট মানেই তো অশান্তি। ও সামলাতে পারবে না। এ যাত্রায় ছেড়ে দিন।” এমনকি ভোটের মাসে ডিউটির ডাক পড়া মাত্রই দুজন বিয়ের অজুহাত দিয়েছেন। যদিও তাঁদের বিয়ের কার্ড জমা দিতে বলে হলে তা এখনও পর্যন্ত মেলেনি। জানা গেছে পূর্ব বর্ধমানে মোট ২২ হাজার ভোট কর্মী প্রয়োজন এবং এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ভোটকর্মীকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। এক আধিকারিকের কথায়, “মনোনয়ন পর্বে গোলমালের ছবি দেখে ভোটকর্মীদেরও বুকে ব্যথা শুরু হয়েছে। ভোটকর্মীদের জন্য বিভিন্ন দফতরের সামনে লিখতে হয়েছে, ‘এখানে নাম কাটানো হয় না’।” এদিন নির্বাচন দফতরের আধিকারিক সমরজিত্‍ চক্রবর্তী জানান, “চিকিত্‍সা সংক্রান্ত বিষয় দেখার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইউনিট খোলা হয়েছে। তাঁদের রিপোর্ট পাওয়ার পরে নাম বাদ দেওয়া হবে।” একই চিত্র ফুটে উঠেছে নদীয়াতেও। নদিয়ায় কর্মীরা ডিউটি এড়াতে নির্দল প্রাথী হিসাবে মনোনয়নও জমা দিয়েছেন।এই নিয়ে প্রিয়বন্ধুর তরফ থেকে সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশীষ শীলের সাথে কথা বললে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে “ভোট আগে না প্রাণ আগে?” দুষ্কৃতীরা কি দেখবে যে এরা সরকারি কর্মচারী।তাদেরকেও শারীরিক মানসিক সমস্ত রকমের হেনস্থা করবে।কোনো রং দেখবে না সে যে দলেরই হোক না কেন ? এই যেমন সেদিন বর্ধমানে এক ফার্স্ট পোলিং অফিসার দেবাশীষ মুখাৰ্জীকে মারধর করা হলো। তার অফিসার লোকেরা এসে তাঁকে বাঁচালেন। শুনলাম তো কোনো কিছু না দেখেই, তাঁর কোনো কথা না শুনেই তাঁর উপর হামলা করা হয়েছিল। তবে ভোটের দিন
যে তেমন কিছ হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?” পাশাপাশি তিনি আরো বলেন যে,” কাল যে ভোটের দিন স্থির হলো,তাতে জানা গেলো মোটে ৫৮০০০ পুলিশ দিয়ে নাকি ৫৮,৪৬৭ বুথে নির্বাচন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তো সব বুথে পুলিশও থাকবে না।ফলে অশান্তি হলে ছাড় পাবে না সরকারি কর্মীরাও তাই সরকারি কর্মীদের ভয় পাওয়াটা কি অযৌক্তিক?” `

Top
error: Content is protected !!