এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ভোট আসতেই রাজ্যে বাড়ছে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ, বিএসএফ ও পুলিশের তৎপরতায় সামনে এল বড় তথ্য

ভোট আসতেই রাজ্যে বাড়ছে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ, বিএসএফ ও পুলিশের তৎপরতায় সামনে এল বড় তথ্য



লোকসভা ভোটের মুখেই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তাছাড়া সামনেই ২৬ জানুয়ারী অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবস,তাই জাতীয় দিবসের আগে রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যসরকার।

সিআইডি সূত্রের খবর,সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রদেশের আশঙ্কা বাড়ছে। গত দেড় মাসে জেলায় ৩৩ জন বাংলাদেশি পুলিশের খপ্পরে পড়েছে। এ ব্যাপারে মুম্বাই পুলিশের স্পোশাল ব্রাঞ্চও তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। তাই ২৬ জানুয়ারির মুখে জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়াতে একটি বিশেষ দল৷ গঠন করা হয়েছে।

একইসঙ্গে মুম্বাই পুলিশের স্পোশাল ব্রাঞ্চ সীমান্তে টহলরত বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে জেলার পুলিস সুপার মুকেশ কুমার বলেন,’বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে পুলিস সর্বদা সতর্ক রয়েছে। এজন্য সীমান্তবর্তী গ্রামে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। বিএসএফের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তাই অনুপ্রবেশকারীরা ধরাও পড়ছে।’

প্রসঙ্গত,রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তে অবস্থিত জেলাগুলির মধ্যে মুর্শিদাবাদের বেশ গুরুত্ব রয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার ১৬৭ কিলোমিটার জুড়েই বাংলাদেশ সীমান্ত। এরমধ্যে প্রায় ১২৬ কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণই খোলা। নেই কোনো কাঁটাতারের বেড়াও। এই এলাকায় অধিকাংশই জলসীমান্ত। দু’দেশের সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলেছে পদ্মা,জলঙ্গি সহ বিভিন্ন নদী। কিছু জায়গায় আবার রয়েছে এদেশের চাষের জমি।

শীতের মরশুমে কুয়াশার কারণে দূরদূরান্ত দেখাও যায় না ভালোভাবে। এতেই সুবিধা হয়েছে অবৈধ প্রবেশকারীদের। ভৌগোলিক অবস্থান এবং ঘন কুয়াশাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশিরা অবাধে চলে আসছে এদেশে। একইসঙ্গে রমরমিয়ে চলছে গোরুপাচার চক্রও। ছোট ছোট দল করে এপার বাংলায় এসে গোরু পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকজন গোরুপাচারকারীরা ইতিমধ্যে হাতেও এসেছে পুলিশের।

তাছাড়া চলতি সপ্তাহেই লালগোলা স্টেশানের কাছে পাঁচজন বাংলাদেশি ধরা পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে,একদিন আগে লাইনম্যানের মদত নিয়ে বাংলাদেশ থেকে এপারে আসে তারা। তারপর স্থানীয় কোনো ব্যক্তির বাড়িতে একরাতে গা ঢাকা দেওয়ার পর ভিন রাজ্যে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ গ্রেফতার করে কয়েকজনকে।

পুলিশের রিপোর্ট বলছে,গত ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলায় অনুপ্রবেশ আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৩ জন। লালগোলায় ৮ জন,জলঙ্গিতে ১ জন,রানিনগর এবং রানিতলা থানায় ৩ জন বাংলাদেশি ধরা পড়েছে। এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা সূতি থানায় সবথেকে বেশি। এখানে গোরুপাচার চক্রের আসাযাওয়াও অন্য জায়গার তুলনায় অনেক বেশি।

এরসব ব্যাতিরেকে বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের ১৩ জন বাসিন্দাকে জেরা করা শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশর বিশেষ শাখা। এ ব্যাপারে গত সেপ্টেম্বর এবল চলতি মাসে মুম্বাই পুলিশের দপ্তর থেকে সিআইডির অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে জানানো হয়েছে,মুম্বইয়ের ক্যান্ডিভ্যালিতে মুর্শিদাবাদের ১৩জন বসবাস করছেন। বহরমপুর, হরিহরপাড়া, বেলডাঙা, ভগবানগোলা ও লালবাগ এলাকায় তাদের বাড়ি।


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

নির্দিষ্ট সোর্সের তথ্য অনুসারে, তাদেরকে বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাই তাদের ভোটার কার্ড যাচাই করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এই চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের ভোটার কার্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিআইডি কর্তারা। ১১ জনের ভোটার কার্ড ইতিমধ্যেই যাচাই হয়ে গিয়েছে। বাকি ২ জনের ভোটার কার্ড যাচাইয়ের কাজ চলছে। তবে ওই ১১ জনের নাম ভোটার তালিকায় আছে বলেই জানা গিয়েছে। এ ব্যাপারে জলদিই সিআইডির তরফ থেকে মুম্বাই পুলিশের কাছো রিপোর্ট পাঠানো হবে জানিয়েছেন রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগ।

এই প্রেক্ষিতে ২৬ জানুয়ারির দিন কয়েক আগে মুর্শিদাবাদের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ ও পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে দেশকে সন্ত্রাসের সমস্ত সম্ভাবনা মুক্ত করতেই জঙ্গি এবং জেহাদি সংগঠনগুলির দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। তাই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে তোরজোড় শুরু করা হল,এমনটাই বক্তব্য গোয়েন্দাদের। অন্যদিকে,এই কর্মকাণ্ডে নজরদারির জন্যে বিশেষ দল গড়েছে জেলা পুলিশ।

এই দলে দুই অতিরিক্ত পুলিস সুপার এবং চারজন এসডিপিও ওই দলে রয়েছেন। তাঁদের নেতৃত্বে নিয়মিত সীমান্তবর্তী গ্রামে, সীমান্তবর্তী থানা এলাকার বাজার, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড প্রভৃতি এলাকায় টহল চলছে। নজরদারি বাড়িয়েছে বিএসএফ কর্মীরা। আগামীতে প্রয়োজন পড়লে পুলিশ এবং বিএসএফ কোনো কোনো সময় একত্রেও টহল দিচ্ছে। এমনকী স্পিড বোট নিয়েও সীমান্তবর্তী জলপথেও টহল দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে জেলা সূত্রের খবরে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!