এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > শাসকদলকে ভোট না দেওয়ায় সাতটি পরিবারকে সামাজিক বয়কট করার অভিযোগ

শাসকদলকে ভোট না দেওয়ায় সাতটি পরিবারকে সামাজিক বয়কট করার অভিযোগ

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার অপরাধে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার ভাটিবাড়ি এলাকার সাতটি পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো। অভিযুক্তরা হলেন এলাকার স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। জানা যাচ্ছে ঐ ৭ টি পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ২৬ জন । যার মধ্যে আবার ১০ জন শিশু। সামাজিকভাবে একঘরে হওয়ার কারণে এই পরিবারগুলি না পারছে জমিতে কৃষিকাজ করতে, না পারছে কৃষিজ ফসল বিক্রি করতে। ফলে কার্যতই চরম অর্থাভাবে দিন কাটাচ্ছে ঐ সকল পরিবারগুলি। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকার নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য মামণি দাস ভাটিবাড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। উল্লেখ্য আলিপুরদুয়ারের ভাটিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব কুমারিজান এলাকার ১০/২৬২ নম্বর বুথের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন। তিনি ও তাঁর আত্মীয় স্বজন মিলিয়ে মোট ৭টি পরিবারের বাস ওখানে। আর এই ৭ টি পরিবারই সামাজিক ভাবে বয়কটের শিকার। গত ১৭ই মে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা পর ২০শে মে থেকেই মোফাজ্জল হোসেন এবং তাঁর আত্মীয় পরিবারগুলিকে সামাজিক ভাবে একঘরে করার প্রচেষ্টা শুরু হয়ে যায়। জানা যাচ্ছে পবিত্র ঈদের দিন অবধি ঐ সকল পরিবারগুলির সদস্যদের বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠে নামাজ পড়তে দেওয়া ও হয়নি।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এ প্রসঙ্গে মোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা জানিয়ে বললেন, “আমরা তৃণমূল কংগ্রেস করি। কিন্তু, এবার পঞ্চায়েতে আমরা তৃণমূলকে ভোট দিইনি বলে সন্দেহ করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। তাই নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পর ২০ মে সামসুল হক, মজিদুল হক সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতারা বাড়িতে এসে আমাদের সামাজিক বয়কট করার কথা বলে যান। তারপর থেকে এলাকায় সর্বক্ষেত্রে আমরা বয়কটের মুখে পড়ছি। বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য সালিশি সভা বসেছিল। কিন্তু তাতেও বয়কট তোলা হয়নি।” একপ্রকার আক্ষেপের সুরেই এক বয়জেষ্ঠা মহিলা বলেন এই ফসল বিক্রিরটাকায় তাঁদের পবিত্র ঈদ উৎসব পালনের পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু সামাজিক ভাবেই একঘরে হওয়ার কারণে তাঁর পরিবারের কেউই নামাজ পড়তে যেতে পারেনি। শুধু তাই নয় নতুন বস্ত্র কেনার অবধি কোনো সুযোগ হয়নি ঐ সকল পরিবারগুলির। নিজের বক্তব্যের শেষে নিজেদের অসহায়তার কথা জানিয়েই তিনি বললেন এই পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সকলেই আত্মহত্যা করতে একপ্রকার বাধ্য হবেন। যদিও এই পরিবারগুলির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্থানীয় দুই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সামসুল হক ও মজিদুল হক ঘটনার ব্যাখ্যা করে বললেন ঐ পরিবার গুলির সব অভিযোগই মিথ্যে। আসলে ঐ পরিবারগুলির সদস্যরাই সামাজিক ভাবে মেলামেশা করতে অক্ষম তাই নিজেদের অক্ষমতা ঢাকতেই তাঁরা এইসব কথা রটাচ্ছে। তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তাঁরা আরো বললেন যে ঐ বুথে তৃণমূল কংগ্রেস ১৬৩ ভোটে পরাজিত হয়েছে। একান্ত প্রতিশোধ স্পৃহা থেকেই যদি তারা এই রকম করতো তবে তো অঞ্চলের সবকটি পরিবারই এই সামাজিক বয়কটের শিকার হতো। ভাটিবাড়ি তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি দীনেশচন্দ্র দাস বললেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব। তবে এই ধরনের কিছু হয়েছে বলে শুনিনি। এরকম কিছু হলে তা মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।” ভাটিবাড়ি থানার পুলিশ আধিকারিক দীনেশ বর্মণ জানান পুলিশ নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করার আগেই কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হবেনা বলে জানানো হয়েছে।

Top
error: Content is protected !!