এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > ভাইস চেয়ারম্যানের “টোপ” দিয়ে আটকে রাখা কাউন্সিলররা কি এবার “অন্য” পদক্ষেপ নেবেন? জল্পনা চরমে

ভাইস চেয়ারম্যানের “টোপ” দিয়ে আটকে রাখা কাউন্সিলররা কি এবার “অন্য” পদক্ষেপ নেবেন? জল্পনা চরমে

Priyo Bandhu Media

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগদান করার পর থেকেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় যেন ঘোরালো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রথমে গঙ্গারামপুর পৌরসভা নিয়ে শুরু হওয়া জটিলতা এখন আবার চাগাড় দিতে শুরু করেছে।

বিপ্লববাবু বিজেপিতে যোগদান করার পরই জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষ সেই বিপ্লব মিত্রের ভাই প্রশান্ত মিত্রকে গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণের কথা ঘোষণা করলে সেই প্রশান্তবাবুর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে তৃণমূলের কাউন্সিলররা অনাস্থা আনেন। আর এরপরই তৃণমূল জয়লাভ করে সেখানে চেয়ারম্যান করা হয় অমলেন্দু ভূষণ সরকারকে।

আর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পরই অমলেন্দুবাবু প্রশান্তবাবুর আমলে ভাইস চেয়ারম্যান হওয়া ব্যক্তিকে সরিয়ে দেন। তারপর থেকে গঙ্গারামপুর পৌরসভায় ভাইস চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ছিল। কিন্তু অবশেষে সেই পদ পূরণ করা হল।

সূত্রের খবর, বুধবার গঙ্গারামপুর পৌরসভা 12 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাকেশ পণ্ডিতকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করেন সেই পৌরসভার চেয়ারম্যান অমলেন্দু ভূষন সরকার। আর গঙ্গারামপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পরই এখন নানা মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

অনেকে বলছেন, বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগদান করার পরই তার হাত ধরে গঙ্গারামপুর পৌরসভার অনেক কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় তৃণমূলের তরফে সেই সমস্ত কাউন্সিলরদের ভাইস চেয়ারম্যান পদ দেওয়া হবে বলে আটকে রাখা হয়েছিল।

তবে এবার রাকেশ পণ্ডিতকে সেই ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়ে আসায় সেই সমস্ত কাউন্সিলরদের অনেকেই গোসা করতে শুরু করেছেন। আর গঙ্গারামপুর পৌরসভা তৃণমূল কাউন্সিলরদের অনেকেই যে এই নতুন ভাইস চেয়ারম্যানকে মানতে পারেননি, তা এদিন ভাইস চেয়ারম্যানের নিয়োগ অনুষ্ঠানে কাউন্সিলরদের একটা বড় অংশের অনুপস্থিতি আরও একবার প্রমাণ করে দিল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।

এদিন এই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গঙ্গারামপুর পৌরসভার একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর বলেন, “ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে গঙ্গারামপুর পুরসভার দলীয় কাউন্সিলরদের সঙ্গে কোনো মিটিং করা হয়নি। শুধুমাত্র ভাইস চেয়ারম্যানের নাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা অনেকেই জানতাম না যে বুধবার ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হবে।”

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কিছুটা হলেও কটাক্ষ করেছেন গঙ্গারামপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান বিজেপি নেতা প্রশান্ত মিত্র। এদিন তিনি বলেন, “আমি এখন অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। তাই তৃণমূল কাকে ভাইস চেয়ারম্যান করবে, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে অনেককেই ভাইস চেয়ারম্যান করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই কাউন্সিলরদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।”

তবে এই ব্যাপারে গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান অমলেন্দু ভূষণ সরকার বলেন, “দলের নির্দেশ অনুসারে সর্বসম্মতিক্রমে ভাইস চেয়ারম্যানকে নিযুক্ত করা হয়েছে। এনিয়ে কোনো বিবাদ নেই।” কিন্তু অমলেন্দুবাবু যাই বলুক না কেন, যেভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে যে, ভাইস চেয়ারম্যান পদ দেওয়ার নাম করে অনেক কাউন্সিলরকে আটকে রাখা হয়েছিল।

তাতে এবার সেই ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাকেশ পণ্ডিতকে বসানোয় বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের অনেকেই কি তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিপ্লব মিত্রের সাথে বিজেপিতে নাম লেখাবেন! এখন এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা রাজনীতির অন্দরমহলে। আর যদি এই প্রশ্নই একসময় সত্যি হয়ে ওঠে, তাহলে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলের সংগঠন যে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়বে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!