এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > উত্তরবঙ্গের হেভিওয়েট পৌরসভা দখল করতে ঘুটি সাজাচ্ছে বিজেপি, জানুন বিস্তারিত!

উত্তরবঙ্গের হেভিওয়েট পৌরসভা দখল করতে ঘুটি সাজাচ্ছে বিজেপি, জানুন বিস্তারিত!

 

2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসন থেকে 50 হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও, কালিয়াগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হতে হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীকে। যা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টির ব্যক্তিত্বদের মধ্যে। কিন্তু আসন্ন 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর দিনাজপুরের তিনটি পৌরসভা কিছুতেই হাতছাড়া করতে চায় না গেরুয়া শিবির।

যদিও বর্তমানে কোনো পৌরসভাই ভারতীয় জনতা পার্টির দখলে নেই। তবে 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে অধিকাংশ পৌরসভাতেই এগিয়েছিল পদ্মফুল শিবির। আগামী পৌরসভা নির্বাচনের জন্য তাই কালিয়াগঞ্জ, ইসলামপুর এবং ডালখোলা এই তিনটি পৌরসভাকে রীতিমতো টার্গেট করে ফেলেছে বঙ্গ বিজেপি।

পাশাপাশি এই সমস্ত পৌরসভার নির্বাচনে জয়লাভ করে কালিয়াগঞ্জে পার্টির পরাজয়ের রেশ কাটিয়ে পুনরায় নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চায় পদ্মফুল শিবির। বস্তুত, 2020 সালের আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় নিজেদের সম্ভাব্য প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করেছে দলীয় নেতৃত্ব। ভারতীয় জনতা পার্টির ক্ষেত্রে কিন্তু উত্তর দিনাজপুর জেলায় গোষ্ঠী কোন্দল একটা বড় সমস্যা।

বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, দলীয় নেতৃত্বদের নিজেদের মধ্যেই সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। পুর নির্বাচনে জয়যুক্ত হওয়ার জন্য দলের সব রকমের সাংগঠনিক ত্রুটি এবং নেতৃত্বদের অভ্যন্তরের ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় ভাবে জনপ্রিয় মানুষজনকে প্রার্থী করার ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, “উপনির্বাচনে হেরে গিয়েছি বলে আমাদের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। শহর এলাকায় বিজেপির সমর্থক অনেক বেশি। স্বচ্ছ নির্বাচন করলে তিনটি পৌরসভাই আমাদের দখলে আসবে।”

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

উত্তর দিনাজপুরের স্থানীয় নির্বাচনের ইতিহাস কিন্তু বলছে, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রয়াত জনপ্রিয় কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি এই এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। বিগত দিনে কালিয়াগঞ্জ, ডালখোলা, ইসলামপুর এই তিনটি পৌরসভার ক্ষমতা ছিল কংগ্রেসের দখলে। কিন্তু পরবর্তীতে এই পৌরসভাগুলির সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলররা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করাতে শাসক দলের দখলে চলে যায় এই তিনটি পৌরসভা।

পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরে কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির তেমন কোনো শক্তি ছিল না। তবে গত লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান দেখলে স্পষ্ট হয়ে যায়, এই রায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প হিসেবে মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টির উপরই আস্থা রেখেছে। সেই কারণেই উত্তর দিনাজপুর রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে জয়যুক্ত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী পৌরসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে অনেকটাই প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট।

কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচন কিংবা লোকসভা নির্বাচনে সেই ছবি দেখেছে বাংলার মানুষ। বর্তমানে অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির দুই রাজনৈতিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার অস্ত্রে ধার দিচ্ছে এলাকার পৌরসভাগুলির মধ্যে। ডালখোলা পৌরসভাতে বর্তমানে প্রশাসক বসানো হয়েছে। গত পৌরসভা নির্বাচনে 16 আসন বিশিষ্ট ওই পৌরসভার একটি আসল জয়যুক্ত হতে পারেনি ভারতীয় জনতা পার্টি। তবে এবারের পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই আত্মপ্রত্যয়ী ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্ব। সেই অনুসারে ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির এলাকায় হিন্দিভাষী জনগণের আধিক্য হওয়াতে আদতে বিজেপির লাভ হবে বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব।

অন্যদিকে আবার কালিয়াগঞ্জ এবং ইসলামপুর পৌরসভা 2015 সালে নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বসাকুল্যে বিজয়ী কাউন্সিলর সংখ্যা ছিল চারটি। যার মধ্যে একজন বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন লড়েছিল। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস জয়যুক্ত হলেও পরবর্তীতে কংগ্রেস কাউন্সিলররা তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেওয়াতে পৌরসভা দখল করে রাজ্যের শাসক দল। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতির দায়িত্বে থাকা কানাইয়ালাল আগরওয়াল নিজেও পৌরসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করেছিল এবং চেয়ারম্যান হয়েছিল।

বর্তমানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্বে রয়েছেন। ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, পৌরসভার নির্বাচনে ইসলামপুরের শহর অঞ্চলে ভালো ফল করবে বিজেপি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব পড়বে পৌরসভা নির্বাচনেও। কাজেই লোকসভা নির্বাচনের পর এরকমটা মনে করা হয়েছিল, লড়াইটা কিন্তু তত সহজ হবে না। তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে রীতিমতো লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় গতবারের পৌরসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি মোটে একটি আসনে জয় যুক্ত হয়েছিল।

পরবর্তীতে বিজয়ী সেই কাউন্সিলর তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লেখানোর হিড়িক পড়ে। বর্তমানে ওই পৌরসভায় কোনো আসন নেই ভারতীয় জনতা পার্টির হাতে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আগত পৌরসভা নির্বাচন যতটা গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে। কারণ এই পৌরসভা নির্বাচনকে 2021 সালে বিধানসভা নির্বাচনে সেমিফাইনাল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই সেই নির্বাচনে অবশেষে শেষ হাসি কে হাসে! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!