এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ‘অন্যায়’ দেখছে তৃণমূল! হারার ‘খোঁচায়’ মুচকি হাসি বিজেপির

উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ‘অন্যায়’ দেখছে তৃণমূল! হারার ‘খোঁচায়’ মুচকি হাসি বিজেপির

নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী আগামী 25 নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের তিনটি কেন্দ্রের বিধানসভা উপনির্বাচন হতে চলেছে। খড়গপুর, করিমপুর ও কালিয়াগঞ্জে এই উপনির্বাচন হবে। আর এই উপনির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের এই তিন জেলায় এখন সাজো সাজো রব। রাজ্যের প্রতিটি দলই উপনির্বাচনগুলিতে নিজেদের দক্ষতা দেখাতে প্রস্তুত হচ্ছে। এই উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছিল ইতিমধ্যে। নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে গত 23 নভেম্বর শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। তবে লোকসভা নির্বাচনের দরুন এই প্রথম উপনির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূল নেতাদের চিন্তা দ্বিগুণ। উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ফলাফল তৈরি করতে গেলে যে নির্বাচনী প্রচারে জোর দিতে হবে, সে কথা সকলেরই জানা। আর তাই এবারের নির্বাচনী প্রচারে কোমর বেঁধে নেমে ছিল সবকটি দল।

ইতিমধ্যেই বিরোধীদলের দাবী মেনে নির্বাচন কমিশন এরাজ্যে উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে। যা নিয়ে তুমুল কোলাহল শুরু হয়েছে শাসক মহলে। কেন্দ্রীয় বাহিনী বহাল করা নিয়ে ইতিমধ্যে বিরোধী ও শাসক দলের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পালা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন অভিযোগ করেন, ‘সিআরপিএফ তো ছিলই। আবার পাঁচ ব্যাটালিয়ন কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হবে কেন? এটা অন্যায়। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই তো প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।’ অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় পাল্টা জবাবে জানিয়েছে, ‘ভোটে হারার ভয় থেকেই এসব বলছে তৃণমূল। এটা হাস্যকর।’

আগামী সোমবার নদিয়ার করিমপুর, উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ ও মেদিনীপুরের খড়গপুর সদরে উপনির্বাচন হতে চলেছে। করিমপুর এর প্রাক্তন বিধায়ক মহুয়া মৈত্র লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগরের সাংসদ হওয়ায় জায়গাটি খালি হয়ে যায়। যার ফলে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, খড়গপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ লোকসভা নির্বাচনে সাংসদ হয়ে যাওয়ায় খড়গপুর আসনটিতে উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। এবং উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে কংগ্রেস বিধায়ক প্রমথনাথ রায় এ বছরেই মারা যান। যার ফলে তাঁর আসনটি ফাঁকা হয়ে যায়। সেখানে বিধায়কের প্রয়োজনেই উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে।

উপনির্বাচনে করিমপুরের বুথের সংখ্যা 261 টি। অন্যদিকে কালিয়াগঞ্জ ও খড়্গপুরে যথাক্রমে বুথের সংখ্যা 270 টি। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী করিমপুরে 10 ও বাকি দুটি কেন্দ্রে 5 কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকবে। আগেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তিনজন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে ভোটের পরিস্থিতি নজরে রাখার জন্য এই তিনটি কেন্দ্রে। এছাড়াও সাধারণ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি তো আছেই।এই তিনটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনের মধ্যে খড়গপুরে এবং করিমগঞ্জে বিজেপি এগিয়ে আছে। অন্যদিকে, করিমপুরে তৃণমূল শক্তিশালী।

খড়্গপুরে 45 হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন দিলীপ ঘোষ লোকসভা ভোটে। খড়গপুর পুরসভায় জয় ছিনিয়ে আনতে তৃণমূলকে যথেষ্ট কষ্ট করতে হবে বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে, গত লোকসভা ভোটে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপি 57 হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। কালিয়াগঞ্জ পুরসভা ও পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূল দখল করে নিলেও গ্রাম পঞ্চায়েতের আটটি আসনের মধ্যে সাতটি দখল করেছে বিজেপি।এদিকে করিমপুর এলাকাটি উত্তর দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা বলেই জানে সবাই।

সেখানে প্রথম থেকেই তৃণমূল এগিয়ে আছে। বিজেপি সেখানে এনআরসি চালু করার কথা বলে যথেষ্টই ব্যাকফুটে চলে গেছে বলে দাবি করেছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে করিমপুরে ভোট এখন বিজেপি ও তৃণমূল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। তাই বাকি নির্দল প্রার্থীদের পাওয়া 12 হাজার ভোট নিয়েই এখন মাথাব্যথা দুদলের। তবে মনে করা হচ্ছে কংগ্রেস, সিপিএম জোট কোনভাবে করিমপুরে ভোট যদি কাটতে পারে, তাহলে লাভ বিজেপির হবে বলে দাবি জানাচ্ছে রাজনৈতিক মহলের অন্য একটি অংশ।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এরই মধ্যে শুরু হয়েছিল সমালোচনা কংগ্রেসের আব্দুল মান্নানকে নিয়ে। কারণ তিনি সোনিয়া গান্ধীকে একটি চিঠি দিয়ে তৃণমূলকে ও সিপিএমকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। আব্দুল মান্নানের কথায়, করিমপুরে যদি সিপিএম এবং খড়গপুরে যদি তৃণমূলকে সমর্থন করা যায়, তাহলে বিজেপিকে ঠেকিয়ে দেওয়া যাবে উপনির্বাচনের ভোটপর্বে। নির্বাচনী পর্বের শেষ পর্বের প্রচার আপাতত শেষ হয়েছে। এখন হিসাব কষা চলছে ঘটে চলা ঘটনা নিয়ে। এই উপনির্বাচনকে ঘিরে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলি এখন প্রেস্টিজ ফাইটের অপেক্ষায়।

খড়গপুর থেকে দাঁড়িয়েছেন সেখানকার পুরসভার কমিশনার প্রদীপ সরকার। তাঁর হয়ে প্রচারে শেষ বেলায় রাজ্যের পূর্ত মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এদিন খড়গপুর সদরের পাঁচবেড়িয়া থেকে এক পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, খড়্গপুর রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের গড় বলেই পরিচিত। সেই গড়ে এদিন খড়্গপুরের রিলায়েন্স পেট্রোল পাম্প থেকে গোলবাজার রাম মন্দির পর্যন্ত র্যা লি করেন সকালে দিলীপ ঘোষ এবং বিকেলে কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

অন্যদিকে বাম কংগ্রেস জোট প্রার্থী চিত্তরঞ্জন মন্ডল এর সমর্থনে শেষবেলার কালিয়াগঞ্জে ভোটের র্যা লি বেরিয়েছিল। এদিন কালিয়াগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী কমল চন্দ্র সরকারের সমর্থনে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের প্রচারে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশের নিষেধাজ্ঞায় তিনিই প্রচারে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি। কিন্তু এদিন কমল চন্দ্র সরকারের মেয়ের বিয়েতে বিপ্লব দেব হাজির হয়েছিলেন পুলিশি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে। তবে কালিয়াগঞ্জে তৃণমূলের প্রচারে শেষ বেলায় মঞ্চ কাঁপিয়েছেন অভিনেত্রী দেব তথা ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী। এদিন অবশ্য শেষ বেলায় কালিয়াগঞ্জ এর বাম কংগ্রেস জোট প্রার্থী গ্রীতশ্রী রায়ের হয়েও প্রচার চলে এলাকায়।

অন্যদিকে করিমপুরের তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়ের সমর্থনে শেষবেলায় প্রচার পর্বে অংশ নিয়েছিলেন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ মহুয়া মিত্র। এদিন করিমপুরে শেষ বেলায় তৃণমূল সাংসদের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী এবং অভিনেতা বনি ও কৌশানি। অন্যদিকে করিমপুরে বিজেপির জয়প্রকাশ মজুমদার হয়ে প্রচার সেরেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এদিন বাম কংগ্রেস জোট প্রার্থী গোলাম রাব্বিও শেষ বেলার প্রচার সেরে নিলেন।

নির্বাচনী পর্বের প্রচারকালেই খড়্গপুরে তৃণমূল নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে। সেই নিয়ে বিরোধী শিবিরের মধ্যে চূড়ান্ত হৈ হট্টগোল শুরু হয়েছিল। আপাতত 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনের দিকেই কিন্তু সবার নজর। আর সেই নির্বাচন জিততে উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলি যথেষ্ট আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী। এই উপনির্বাচনকে ঘিরে যে নির্বাচনী যুদ্ধ হতে চলেছে তাতে প্রতিটি দলেরই অ্যাসিড টেস্ট হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ দল। আপাতত এই নির্বাচন জেতার চেষ্টায় কে কতটা কার্যকর হতে পারে, সে দিকেই নজর রাখছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!