এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > উন্নয়ন নয়, গুলি-খুনের সন্ত্রাস আর ভয় – লোকসভা নির্বাচনের আগে মূল কথা এই আসনে!

উন্নয়ন নয়, গুলি-খুনের সন্ত্রাস আর ভয় – লোকসভা নির্বাচনের আগে মূল কথা এই আসনে!

বিগত পঞ্চায়েত ভোটে গুলি, খুন ও সন্ত্রাসের ঘটনার আতঙ্ক এখনও ভুলতে পারেননি আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকার বাসিন্দারা। আর তাই বিগত পঞ্চায়েতের সেই আতঙ্কের রেশ আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে এই এলাকার মানুষদের মধ্যে জাঁকিয়ে বসেছে।

বিরোধী দলগুলোর তরফে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচন করানোর দাবি তোলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কতটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এখানে হবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেকেরই মনে। আর এই সন্দেহের মূল কারণই হল বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকায় চরম সন্ত্রাস বলে মনে করছে একাংশ।

একাংশের মতে, এই খুন, গুলি, মারধর ও হেনস্তার মতো প্রতিটি ঘটনাতেই শাসক দলের নেতাকর্মীদের নাম জড়িয়ে পড়ছে। তাই ইচ্ছে থাকলেও পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারে ঠিকমতো সদর্থক ভূমিকা পালন করতে পারছে না। আর পুলিশের এই ভূমিকার জেরেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে যে ব্যাপক সন্ত্রাস হতে পারে এই আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকার অনেক মানুষ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিগত পঞ্চায়েত ভোটে এই আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকায় বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে। এমনকি সেই সময় আলিপুরদুয়ারের তপসিখাতাতে সিপিএমের পার্টি অফিস লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাতেও নাম জড়িয়ে যায় শাসকদলের। আর তোপসিখাতার পর সাহেবপোতাতেও এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় অভিযোগ ওঠে সেই শাসকদলের দিকেই।

এদিকে গত 22 শে জানুয়ারি আলিপুরদুয়ারের সেই তপসিখাতায় তৃণমূল কর্মী তুষার বর্মনকে গুলি করে খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় তৃণমূলের পরোরপাড়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শম্ভু রায়, পঞ্চায়েত সদস্য সোনা রায় এবং তৃণমূলের দুই কর্মীর। এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনও পর্যন্ত এই খুনে ব্যবহৃত বন্দুকের উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। আর লোকসভা ভোটের আগে এইভাবে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকায় একের পর এক খুন সন্ত্রাস চলতে থাকায় বিরোধী দলের নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ প্রায় প্রত্যেকেই একদিকে যেমন পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা তুলে ধরতে চাইছেন, ঠিক তেমনই তীব্র আতঙ্কে দিন গুনছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন এই প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি গঙ্গা প্রসাদ শর্মা বলেন, “আলিপুরদুয়ার বিধানসভায় ধারাবাহিক অপরাধমূলক ঘটনায় শাসকদলের লোকজনই জড়িত। পুলিশ প্রশাসন এলাকাকে শান্ত করতে এবং অস্ত্র উদ্ধার করতে একেবারেই অপারগ।” অন্যদিকে লাগাতার এই অপরাধের ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন আলিপুরদুয়ার জেলার আরএসপি সম্পাদক সুনীল বণিক।

অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলা কংগ্রেসের সভাপতি গজেন বর্মণ বলেন, “লোকসভা ভোটের আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনই বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নামুক পুলিশ।” তবে বিরোধীদের এহেন অভিযোগ ও আতঙ্ককে উড়িয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের সভাপতি মোহন শর্মা বলেন, “তপসিখাতায় দলীয় কর্মী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সকলেই ধরা পড়েছে। আমাদের দল কখনই দুষ্কৃতী কার্যকলাপকে বরদাস্ত করে না। আসলে লোকসভা ভোটের আগে এসব বিরোধী দল এবং মিডিয়ার একাংশ অপপ্রচার করছে।”

তবে শাসক দলের জেলা সভাপতি যাই বলুন না কেন; লোকসভা ভোটের আগে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকায় যে ভাবে দিনকে দিন অপরাধের ঘটনা বেড়েই চলেছে তাতে যে প্রবল আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ তা এককথায় বলাই যায়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!